মার্নাস লাবুশেনের শতকের দিনে স্টিভেন স্মিথের ৭ রানের আক্ষেপ, অ্যালেক্স ক্যারির প্রথম ফিফটির পর অভিষিক্ত নেসারকে নিয়ে মিচেল স্টার্কের তোপ। দিবারাত্রির অ্যাডিলেড টেস্টের দ্বিতীয় দিনে রান পাহাড়ে চড়া অস্ট্রেলিয়া অনেকটা এগিয়ে থাকল ইংলিশদের দুই ওপেনারকে তুলে।
অ্যাশেজ সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টের দ্বিতীয় দিনে ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ শতক তুলে নেন লাবুশেন। প্রথমদিন ওয়ার্নারের ৯৫ রানের পর স্মিথ নামের পাশে যুক্ত করেন ৯৩ রান। ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটি পেয়েছেন অ্যালেক্স ক্যারি (৫১)। নেসার-স্টার্কের ওয়ানডে ঢংয়ের ব্যাটিংয়ে সাড়ে চারশ পার করে অজিরা। ইনিংস ঘোষণার আগে ৯ উইকেটে স্কোরবোর্ডে ৪৭৩ রান জমা করে।
রান পাহাড়ে চাপা পড়ার দিনে দুই ওপেনার হারিয়ে বিপাকে পড়েছে ইংল্যান্ড। বৈরি আবহাওয়ার কারণে খেলা ঘণ্টাখানেক কম হওয়ায় অল্প সময় ব্যাটিংয়ের সুযোগ পায় সফরকারীরা।
রাতে কেবল ৮.৪ ওভার খেলার সুযোগ পেয়েছিল ইংল্যান্ড। দুই স্বাগতিক পেসার স্টার্ক ও নেসার এরমধ্যেই বিদায় করেছেন দুই ইংলিশ ওপেনারকে। ১৭ রানে রাত শেষ করা ইংল্যান্ড এখনও পিছিয়ে ৪৫৬ রান। তৃতীয় দিনে অধিনায়ক জো রুটকে (৫) সঙ্গ দেবেন ডেভিড মালান (১)।
স্টার্কের বলে দ্বিতীয় স্লিপে ধরা পড়েন ররি বার্নস। ফেরার আগে তার ব্যাটে আসে মাত্র ৪ রান। অভিষিক্ত নেসার নিজের দ্বিতীয় বলেই দেখা পান উইকেটের। স্টার্কের ক্যাচ বানিয়ে ফেরান হাসিব হামিদকে (৬)।
দিনের শুরুতে শতকের দেখা পাওয়া লাবুশেন টেস্টে দুই হাজার রানের মাইলফলক পেরিয়েছেন। পথে ডানহাতি ব্যাটারের প্রয়োজন হয়েছে ৩৪ ইনিংস। এরচেয়ে কম সময় টেস্ট ইতিহাসে লেগেছে শুধু চার ব্যাটারের।
৯৫ রানে অপরাজিত থেকে প্রথমদিন শেষ করা লাবুশেন বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। ওলি রবিনসনের বলে ফেরার আগে করে যান ১০৩ রান। ৩০৫ বলের ইনিংসে ছিল ৮টি চারের মার।
পরে অধিনায়ক স্মিথ দুটি জুটিতে অস্ট্রেলিয়াকে চারশ পার করার পথ দেখান। ট্রাভিস হেডের সঙ্গে ৫০ ও ক্যারির সঙ্গে গড়েন ৯১ রানের জুটি। নিজেও এগোতে থাকেন শতকের দিকে। কিন্তু ওয়ার্নারের মতো তিনিও ফেরেন আক্ষেপ নিয়ে। ৯৩ রানে অ্যান্ডারসনে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েন অজিদের অধিনায়ক।
অস্ট্রেলিয়ার শেষের ব্যাটারদের দৃঢ়তা বেশি নাকাল করেছে ইংলিশ বোলিংকে। শেষদিকে ৪৯ বলে ৫৮ রান তোলেন মিচেল স্টার্ক-মাইকেল নেসার। অভিষিক্ত পেসার নেসার ২৪ বলে ৫ চার ও এক ছয়ে করেন ৩৫ রান। মিচেল স্টার্ক ৩৯ বলে ৩৯ রান করে অপরাজিত থাকেন।
প্রথমদিনে বোলিং ব্যর্থতার পর এদিন কিছুটা স্বস্তি ফিরিয়েছিলেন ইংলিশ বোলাররা। ২২১ রানে ২ উইকেট হারানো দলের চারশর আগেই তুলে নেন ৭ উইকেট। শেষদিকে অজি ব্যাটারদের উল্টো তোপে রানের পাহাড়ে চাপা পড়াই হয় ইংলিশদের বাস্তবতা।








