সংগীতাঙ্গনে শোকের ছায়া ফেলে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন মুক্তিযোদ্ধা, সুরকার, সংগীত পরিচালক, গীতিকার ও কণ্ঠশিল্পী লাকী আখন্দ। মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে আজ শনিবার দুপুর ২টা ৪৫ মিনিটে তাকে দাফন করা হয়।
গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় মৃত্যুবরণ করেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের এ কণ্ঠ সৈনিক। দীর্ঘদিন ধরে ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন তিনি। ১৯৫৬ সালের ১৮ জুন জন্ম নেওয়া এই শিল্পীর জীবন থেমে গেল ৬১ বছর বয়সে।
সকাল পৌনে ১১টায় মুক্তিযোদ্ধা লাকী আখন্দকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আনা হয়। সেখানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। এসময় ম্যাজিস্ট্রেট রবীন্দ্র চাকমা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে সকাল ১০টায় পুরান ঢাকার আরমানিটোলা মাঠে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে লাকীর পরিবারের সদস্য ও এলাকাবাসী অংশ নেন।
জানাজা শেষে তার মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আনা হয়। গার্ড অব অনার শেষে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য শিল্পীর মরদেহ রাখা হয় মূল বেদীতে। দুপুর ১টা পর্যন্ত সর্বস্তরের মানুষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। সেখান থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রী জামে মসজিদে দ্বিতীয় জানাজা শেষে তার মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে। সেখানেই চিরনিদ্রায় শায়িত হন গানের এই কিংবদন্তি।
আশির দশকের এই কণ্ঠশিল্পী লাকী আখন্দ একাধারে সঙ্গীত পরিচালক, সুরকার ও গীতিকার। ১৯৮৪ সালে সারগামের ব্যানারে প্রথমবারের মতো একক অ্যালবাম বের করেন লাকী আখন্দ। ওই অ্যালবামের ‘এই নীল মণিহার’, ‘আমায় ডেকো না’, ‘রীতিনীতি জানি না’, ‘মামনিয়া’, ‘আগে যদি জানতাম’ গানগুলো শ্রোতাদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলে।
১৯৮৭ সালে ছোট ভাই হ্যাপী আখন্দের মৃত্যুর পরপর সংগীতাঙ্গন থেকে অনেকটাই স্বেচ্ছায় নির্বাসন নেন এ গুণী শিল্পী। এক দশক পর ১৯৯৮ সালে ‘পরিচয় কবে হবে’ ও ‘বিতৃষ্ণা জীবনে আমার’ অ্যালবাম দুটি নিয়ে আবারও শ্রোতাদের মাঝে ফিরে আসেন লাকী আখন্দ।
ছবি : জাকির সবুজ







