রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থার (ইউনেস্কো) আপত্তি তুলে নেওয়াকে “গোষ্ঠী স্বার্থের লবিং-এর কাছে ইউনেস্কোর বৈজ্ঞানিক অবস্থানের আত্মসমর্পণ” বলে জানিয়েছেন জাতীয় তেল-গ্যাস ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব আনু মুহাম্মদ।
১১ জুলাই ‘সুন্দরবনবিনাশী প্রকল্প’ রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র বাতিলের দাবিতে এবং গ্যাস-বিদ্যুৎ নিয়ে মহাদুর্নীতির প্রতিবাদে দেশব্যাপী সমাবেশের আহ্বান জানিয়েছে জাতীয় কমিটি।
প্রতিবাদের ডাক দিয়ে আনু মুহাম্মদ লিখেছেন, “মানুষকে তো সামনের দিকেই হাঁটতে হবে। মানুষের বাঁচার পথ মানুষের মধ্যেই।” এই বিদ্যুৎকেন্দ্র বাতিলের দাবিতে শুরু থেকেই উচ্চকন্ঠ ছিলেন তিনি।
পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বৃহস্পতিবার ইউনেস্কোর এ সংক্রান্ত আপত্তি প্রত্যাহারের খবর জানিয়ে ইউনেস্কোর উদ্ধৃতিতে বলা হয়, রামপালের বর্তমান অবস্থান সুন্দরবনের জন্য কোন ক্ষতিকর প্রভাব ফেলবে না।রামপালের কারণে সুন্দরবনের বিশ্ব ঐতিহ্য হুমকির মধ্যে থাকা তালিকা থেকেও সুন্দরবনকে বাদ দেয়া হয়েছে বলেও জানানো হয়।
পোল্যান্ডের ক্র্যাকোভে অনুষ্ঠিত ইউনেস্কোর ৪১তম অধিবেশনে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানী উপদেষ্টা ডক্টর তৌফিক ই ইলাহী চৌধুরীর নেতৃত্বে বাংলাদেশের একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল বাংলাদেশের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন ওই অধিবেশনে।
গত বছরে বিশ্ব ঐতিহ্য কেন্দ্র ও আইইউসিএন যৌথভাবে একটি প্রতিবেদনে দাবি করেছিলো, সুন্দরবনের বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে ঘোষিত স্থান থেকে মাত্র ৬৫ কিলোমিটার দূরে কয়লাভিত্তিক এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াটের তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মিত হচ্ছে, যা সুন্দরবনের জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ।
ইউনেস্কোর এই সম্পূর্ণ বিপরীত অবস্থান নেওয়ার প্রেক্ষীতে আনু মুহাম্মদ ফেসবুকে লিখেছেন, সুন্দরবন ধ্বংসে নিজের উন্মাদনা বাস্তবায়ন করতে, সরকারের পক্ষ থেকে দেশের মানুষের টাকা খরচ করে, ইউনেস্কোতে বহু লবিং হয়েছে।
“আজ যদি ইউনেস্কো তার এই অবস্থান থেকে সরে আসে, তাহলে তার অর্থ হবে একটাই- ইউনেস্কোর বৈজ্ঞানিক অবস্থান গোষ্ঠী স্বার্থের লবিংএর কাছে কোনো না কোনো কারণে আত্মসমর্পণ করেছে।”
পূর্বের বক্তব্য থেকে সম্পূর্ণ বিপরীতে ইউনেস্কোর এই নতুন অবস্থান বিষয়ে আনু মুহাম্মদ লিখেছেন, এর আগে ইউনেস্কোর বিশেষজ্ঞদের ব্যাপক অনুসন্ধান এবং বৈজ্ঞানিক তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ থেকেই তাঁদের সিদ্ধান্ত ছিলো এই প্রকল্প অন্যত্র সরিয়ে নেবার কোনো বিকল্প নেই। তাঁদের বিস্তারিত ব্যাখ্যা ছিলো কীভাবে এই প্রকল্প সুন্দরবন বিনাশ করবে। একইরকম ব্যাখ্যা, হাতেগোণা কতিপয় ভাড়াখাটা ব্যক্তি ছাড়া, দেশ বিদেশের সকল বিশেষজ্ঞই দিয়েছেন।
“বাংলাদেশ ও বিশ্বের একটি বিশাল প্রাকৃতিক সম্পদ নিয়ে ইউনেস্কো তার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে।”
সুন্দরবনের ক্ষতি হলে এই দেশের মানুষই ভুগবে উল্লেখ করে তিনি লিখেছেন, এটা ঠিক যে, সুন্দরবন বিনাশ হলে এইদেশ ও এইদেশের মানুষের সর্বনাশ, ইউনেস্কোর কর্মকর্তাদের তাতে কী আসে যায়? তাই এই প্রতিষ্ঠান কর্মকর্তারা সন্দেহজনক কারণে আপত্তি প্রত্যাহার করতে পারে, বাংলাদেশের মানুষ পারে না।
সরকারের তীব্র সমালোচনা করে তিনি লিখেছেন, “নদী নালা পাহাড় বিনাশেও পুরো তৃপ্তি হয় না, দেশের প্রধান প্রাকৃতিক সম্পদ প্রধান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সুন্দরবন না খাওয়া পর্যন্ত কোনো শান্তি নেই সরকারের। ভূতের পা থাকে উল্টো দিকে। সেজন্য সে যতো জোরে হাঁটে ততোই পেছন দিকে যায়।তারপরও তার খুশিতে আটখানা ভাব দেখা যায়।”
সুন্দরনের কাছে রামপালে পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পটি বাংলাদেশ-ভারতের যৌথ উদ্যোগে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এই উদ্যোগের শুরু থেকেই পরিবেশবাদীরা এর বিরোধীতা করে আন্দোলন করে।







