রোহিঙ্গাদের নিয়ে তথ্যচিত্র বানাচ্ছেন নির্মাতা জসীম আহমেদ। নাম ‘অ্যা পেয়ার অব স্যান্ডেলস’। সোমবার এই চলচ্চিত্রসহ নানা বিষয় নিয়ে চ্যানেল আই অনলাইনের সাথে কথা বললেন এই নির্মাতা।
রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে ফিচার ফিল্ম নির্মাণ করছেন। এখন কী অবস্থায় আছে?
রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে দুইটা ফিচার ফিল্ম করছি। একটা অরিজিনাল ডকুমেন্টারি আরেকটা ফিকশন। দুইটা দুই অ্যাঙ্গেল থেকে দেখানো হবে। একটার সাথে আরেকটা কোন মিল থাকবে না। ‘অ্যা পেয়ার অব স্যান্ডেলস’র দৈর্ঘ্য ৫ মিনিট। এডিটিং শেষ হয়েছে। এখন সাউন্ডের কাজ চলছে।
শুরুটা কীভাবে?
আমরা এক বছর ধরে আসা যাওয়া করছি সেখানে। দু’মাস আগে যা দেখেছি এখন তার চিত্র ভিন্ন। আগে নিবন্ধিত ক্যাম্প ছিল, এর বাইরেও অনিবন্ধিত ক্যাম্প ছিল যাতে সাধারণ ভাবেই ছিল মানুষ। আজকের মতো এতো ভয়াবহ ছিল না। তাই পুরো প্রজেক্ট আমাদের নতুন করে সাজানো হচ্ছে। এখন শুটিংয়ের কথা অন্যভাবে ভাবতে হচ্ছে। তবে এই মাসের ২২ তারিখ আরেকটা লটের কাজ শুরু হবে। আসলে সময় ধরে করার মতো না এই ফিচার ফিল্ম। কারণ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন চিত্র তুলে ধরতে হয়। তবে আগামী সপ্তাহে ছোট করে একটা মোবাইল কনটেন্ট ছাড়বো। রাজনীতির প্রেক্ষাপট, বিশ্ব রাজনীতির কথা, এবং এই ইস্যুতে বড় বড় নেতা যারা নীরবতা পালন করছেন তাদেরকে নিয়েই এই কনটেন্ট।
আপনার মূল লক্ষ্য কী?
এখানে পৃথিবীর মানবাধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে। আমরাও চাপে আছি। আর বিশ্বের কাছে মানবাধিকার লঙ্ঘনের গল্প তুলে ধরাটাই আমার মূল লক্ষ্য। তারা যেন মিয়ানমারকে চাপ দেয়। তাদের সমস্যা আমরা কেন বইবো? এসব জানানোই আমার লক্ষ্য।
এই ইস্যুতে আপানর মতামত?
এই সমস্যার জন্য আমাদের দেশ ভুগবে, পরবর্তী প্রজন্ম ভোগ করবে, জাতীয় নিরাপত্তার জন্য এটা ভালো কিছু না। আমাদের দেশে অনেক বছর ধরে এটার ক্ষতিকর প্রভাব থাকবে। আমি চাই এখান থেকে এই সমস্যা সরে যাক।
কীভাবে মুক্তি পাবে আপনার চলচ্চিত্র?
‘দাগ’ যখন বানিয়েছিলাম তখন আমার টার্গেট অডিয়েন্স ছিল বাংলাদেশের মানুষ। কারণ গল্পটা ১৯৭১ সালের। আর এই ফিচার ফিল্মের গল্পটা মানবাধিকার লঙ্ঘনের। আর তা বিশ্বকে জানানোর জন্য বানানো হচ্ছে। আমরা যখন ফিচার ফিল্মের পরিকল্পনা করেছিলাম তখন কিন্তু এত ফোকাস ছিল না বিশ্ব মিডিয়ায়। কিন্তু এখন ভয়াবহ পরিস্থিতির কারণে নজর পড়েছে সবার। তাই গ্লোবাল ডিস্ট্রিবিউশনের কথা চিন্তা করেই এটা নির্মাণ করছি। সেই কথা মাথায় রেখে ফিচার ডকুমেন্টারি পুরোটাই হবে ইংরেজি ভাষায়। তবে ফিকশন হবে বাংলায়।
এটি করতে গিয়ে কোনো সমস্যায় পড়েছেন কি?
আমাদের সমস্যায় পড়ার কিছু নেই। কারণ আমাদের দেশ, আমদের চেনা জানা পথ, সবকিছুই আমাদের। আসলে আমরা সমস্যা না করলে সমস্যা হওয়ার কিছু নেই। আমাদের কাজের ক্ষেত্রে আমরা সতর্কভাবে এগোচ্ছি। আমাদের দেশের স্বার্থের কথা মাথায় রেখেই কাজ করছি।
কান উৎসবে আপনার স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘দাগ’ এর অভিজ্ঞতা নিয়ে কিছু বলুন।
মূল প্রতিযোগিতায় ছিল না ‘দাগ’। কান উৎসবের শর্ট ফিল্ম কর্নারে ছিল এটি। খুব একটা বড় অর্জন না এটা। তবে ওখানে যাওয়ার পর বুঝতে পেরেছি এই শর্ট কর্নার বানানো হয়েছে তরুণ নির্মাতাদের জন্য। যাদের ট্রেনিং দেওয়া হবে, টিপস দেওয়া হবে। এবং ধরেই নেওয়া হয় এখানে অংশগ্রহণকারী তরুণ নির্মাতারাই আগামীর বড় নির্মাতা। আসলে এখানে নির্মাতা নয়, একজন ছাত্র হিসেবে লাভবান হবেন। অনেক কিছু শেখার আছে। গ্লোবাল মার্কেট ধরতে তরুণ নির্মাদের সহায়তা করবে এটি। আমাদের দেশে ভালো নির্মাতা আছে, কিন্তু ওই পর্যায়ে যাওয়ার জন্য তাদের ইচ্ছে বা জানার অভাব রয়েছে। দেখুন আমাদের দেশের ছবি যে গ্লোবাল কনটেন্ট হতে পারে তা ‘দাগ’ এর ডিস্ট্রিবিউশন বলে দিচ্ছে।
আপনার পরবর্তী পরিকল্পনা?
রোহিঙ্গা গত বছরের প্রজেক্ট। ইচ্ছে ছিল এই বছরের মধ্যে শেষ করা। কিন্তু বারবার পরিস্থিতির পরিবর্তনের জন্য পেছাতে হচ্ছে। এই গল্পের আগে থেকেই আমাদের হাওড় নিয়ে গল্প লেখা শুরু করছিলাম। যেটা আমার ড্রিম প্রজেক্ট। আপাতত আর কিছু না বলাই ভালো। সময় হলে সব জানাবো।








