আওয়ামী লীগ সরকারকে অনির্বাচিত ও জোরপূর্বক ক্ষমতা দখলকারি দাবি করে বিএনপি নেতারা বলছেন, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের সুযোগ শুরুতেই নষ্ট করেছে সরকার। অবৈধ ক্ষমতা দখলকারি যে সরকার গুম খুন করে মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে, গণতন্ত্র নষ্ট করে আবারও ক্ষমতা দখলের পায়তারা করছে, সে সরকারের রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের নৈতিক অবস্থানে নেই।
শনিবার সকালে পৃথক আলোচনা সভায় বিএনপির নেতারা এসব মন্তব্য করেছেন। সকালে জিয়া পরিষদ আয়োজিত ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি হলে ‘আন্তর্জাতিকভাবে আইনে রোহিঙ্গা সমস্যা এবং সরকারের ভূমিকা: সমাধান ও করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
আমির খসরু বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমার সরকার হঠাৎ করে গণহত্যা শুরু করেনি। এটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া। এটি জাতিগত নির্মূল। জাতিগত নির্মূল যেখানে করা হয় সেখানে বিশাল কর্মযজ্ঞ গ্রহণ করা হয়। অথচ আমাদের গোয়েন্দারা তা আঁচ করতে পারলো না। ঘটনা ঘটার পরও যে ব্যর্থতা সরকার দেখিয়েছে তা আমাদের অবাক করেছে।’
তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে রোহিঙ্গাদের প্রথমে সন্ত্রাসী বলে প্রমাণ করার চেষ্টা চলে। এখানে মিয়ানমার ও বাংলাদেশ সরকরের পার্থক্য ছিলো না। মিয়ানমার গণহত্যায় নেমেছে। আপনি (প্রধানমন্ত্রী) মেরুদণ্ড সোজা না করে বরং নমনীয় হলেন। কিন্তু মিয়ানমার বাংলাদেশকে টার্গেট করেই এ কাজ শুরু করে। আমাদের সরকার তার কিছুই বুঝেনি। এভাবে রোহিঙ্গা সমাধানের সুযোগ শুরুতে নষ্ট করে সরকার।কিন্তু যখন সারা বিশ্ব জেগে উঠলো তখন বাধ্য হয়ে রাজনৈতিক সুযোগ নিতে সরকার রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়ায়। এটি মানবতার কারণে নয়, পুরস্কারের আশা ছিলো। শুরু থেকে কূটনৈতিক সমাধানের পথে গেলে সমাধান করা যেতো।’
তিনি বলেন, ‘আমরা বলেছি, রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে রাজনীতি নয়। বিএনপির অভিজ্ঞতা কাজে লাগান।।কিন্ত সরকার নেয়নি।
খসরু বলেন, আমাদের এখন কোন বন্ধু নেই। যারা আমাদের এতোদিন বন্ধু বলে প্রচার করেছিলো তারা নেই। এখন বন্ধুহীন অবস্থায় আমরা।’
এই অবস্থায় রোহিঙ্গা সংকট সমাধান করতে হলে জাতীয় ঐক্য, আইনের শাসন, গণতন্ত্র দরকার। তাহলে প্রধানমন্ত্রীর কূটনৈতিক অবস্থানও শক্ত হবে। কিন্তু কি করতে হবে তাও সরকার বুৃঝতে পারছে না।
বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘কফি আনানের রিপোর্টে রোহিঙ্গাদের জাতি পরিচয় অস্বীকার করা হয়েছে। কারণ, যে কমিটি করা হয়েছে তার ৯ জনের ৬ জন মিয়ানমার সরকারের। তাহলে যাকে স্বীকার করছে না, তার সমস্যা কিভাবে সমাধান সম্ভব?’
‘রোহিঙ্গা সংকট: বন্ধু রাষ্ট্রের ভূমিকা-প্রত্যাশা’ শীর্ষক অপর একটি সভায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন বন্ধুহীন দেশ। পাশের বাড়ির যে বন্ধু ছিলো তাকে সব কিছু দিলাম, খাওয়ালাম, দাওয়ালাম। কিন্তু আমাদের দিকে না তাকিয়ে সুচির হাতে হাত রাখলো। মোদি একটা সাম্প্রদায়িক দেশের নেতা। যে দেশ তাজমহলও মানতে চায় না। চীনও সু চির পাশে। রাশিয়াও নেই। দেশে গণতন্ত্র নেই, অর্থনীত বলতে কিছু নেই। পৃথিবীতে এতো লুটের ঘটনা ঘটেনি। অর্থমন্ত্রী স্বীকার করেছেন, দেশে পুকুর চুরি নয়, সাগর চুরি হয়েছে।’
দুদু বলেন, ‘রোহিঙ্গা সমস্যা সৃষ্টির পেছনে আমাদের বন্ধু্রাষ্ট্র ভারত, চীন, রাশিয়ার হাত রয়েছে। তারা ব্যবসা করছে। সামনে পড়ে গেছে মুসলমান। রোহিঙ্গা সংকট মূলত অস্ত্র ব্যবসা থেকে। এই সংকট থেকে বেরিয়ে আসতে হলে পরিবর্তন দরকার। সে পরিবর্তনে নেতৃত্ব দিবে বিএনপি।’
এসময় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল ডিসেম্বরের মধ্যে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধান করতে পারলে বিএনপি শেখ হাসিনাকে আনুষ্ঠানিকভাবে সংবর্ধনা দেবে বলে মন্তব্য করেন।
রোহিঙ্গা ইস্যুকে জিইয়ে রেখে এদেশে নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকাররে দাবিকে আড়াল করার চেষ্টা হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন আলাল।







