মিয়ানমার সরকারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রতি নির্মম ও বৈষম্যমূলক আচরণের প্রেক্ষিতে দেশটির বিরুদ্ধে নতুন কিছু পদক্ষেপ নেয়ার কথা ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র।
সেসব পদক্ষেপের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের গ্লোবাল ম্যাগনিটস্কি আইনের অধীনে নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে অবরোধ আরোপের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র বিভাগ।
সোমবার পররাষ্ট্র বিভাগ থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে হওয়া সাম্প্রতিক ঘটনাসমূহ এবং সেখানকার অধিবাসী রোহিঙ্গা ও অন্যান্য জনগোষ্ঠীর ওপর হওয়া বেদনাদায়ক সহিংস নির্যাতনে আমরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি।’
এ বর্বরতা ও সহিসংতার জন্য দায়ী রাষ্ট্র বা রাষ্ট্রের বাইরের যে কোনো ব্যক্তি বা পক্ষকে জবাবদিহিতার আওতায় আনাটা খুবই জরুরি বলেই নতুন এ নিষেধাজ্ঞাগুলো আরোপসহ যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে অন্যান্য পদক্ষেপ দেয়ার কথা ভাবা হচ্ছে বলে ওই বিবৃতিতে জানানো হয়।
গত ১৮ অক্টোবর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন বলেন, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর উপর নির্মম নির্যাতনের জন্য দেশটির সামরিক নেতৃত্বকে যুক্তরাষ্ট্র দোষী মনে করে। তবে ৫ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গাকে দেশছাড়া করার জন্য ওই সেনাবাহিনী প্রধানদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র কোনো ব্যবস্থা নেবে কি না, এ সম্পর্কে তখন কিছু বলেননি তিনি।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৩জন আইনপ্রণেতা ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি জোরালো অনুরোধ জানান যেন মিয়ানমারের সেনাপ্রধানদের যুক্তরাষ্ট্র সফরের ওপর আগে থাকা নিষেধাজ্ঞাটি আবারও আরোপ করা হয় এবং একইসঙ্গে রোহিঙ্গাদের ওপর হামলার পেছনে দায়ীদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট অবরোধ আরোপের ব্যবস্থা নেয়া হয়। এই অনুরোধ করা হয় মার্কিন পার্লামেন্টের হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের ওই ৪৩ সদস্যের পক্ষ থেকে টিলারসনের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে।
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সঙ্গে সেনাবাহিনীর বহুদিন ধরে চলমান সংঘর্ষ-সহিংসতা সঙ্কট সমাধানে ২০১৬ সালের আগস্টে গঠিত হয় অ্যাডভাইজরি কমিশন অন রাখাইন স্টেট। জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনানের নেতৃত্বে ওই কমিশন এক বছরের তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন মিয়ানমারের ক্ষমতাসীন দলের প্রধান অং সান সু চির কাছে জমা দেয় চলতি বছরের ২৪ আগস্ট।
৬৩ পৃষ্ঠার এই প্রতিবেদন জমা দেয়ার কয়েক ঘণ্টা পরই ২৪ আগস্ট দিবাগত রাতে ত্রিশটি পুলিশ ও সেনাচৌকিতে রহস্যজনক হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় নিহত হয় নিরাপত্তা বাহিনীর ১২ সদস্য। তারপরই হামলার জন্য রোহিঙ্গা ‘জঙ্গি’দের দায়ী করে জবাব হিসেবে সেনাবাহিনী পুরো অঞ্চলে হত্যাযজ্ঞ শুরু করে।
সেনাবাহিনীর ওই হামলায় এখনও পর্যন্ত প্রায় এক হাজার মানুষ মারা গেছে, আর প্রাণভয়ে লাখ লাখ রোহিঙ্গা সীমান্ত পেরিয়ে পাড়ি জমাচ্ছে বাংলাদেশে। নৌপথে পালিয়ে আসার পথে নৌকাডুবিতেও বাড়ছে মৃতের সংখ্যা।
সেনাবাহিনীর হামলা ও সহিংসতার মাত্রার ভয়াবহতার কারণে জাতিসংঘ একে ‘পাঠ্যবইয়ে যোগ করার মতো জাতিগত নিধনের উদাহরণ’ বলে অভিহিত করেছে।আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, আনান কমিশনের রিপোর্ট বাস্তবায়ন না করার উদ্দেশ্যেই মিয়ানমারের সেনাবাহিনী এই হত্যাকাণ্ড শুরু করে।







