প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দুয়ার খুলে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেয়া হবে না, তবে যারা এসে পড়েছে তাদেরকে মানবিক দৃষ্টিতে দেখা হবে। তবে, মিয়ানমারে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ঘটিয়ে কেউ এদেশে এলে তাকে ফেরত পাঠানো হবে।
জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তরে তিনি আরো বলেছেন, গ্রামীণ সামাজিক বাস্তবতাকে বিবেচনা করেই বাল্যবিবাহ আইন করা হয়েছে।
জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে জঙ্গিবাদ, উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয়ের পাশাপাশি উঠে আসে রোহিঙ্গা প্রসঙ্গ। প্রধানমন্ত্রী জানান, রোহিঙ্গাদের এই সংকটের মূলে রয়েছে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে কিছু সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড।
তিনি বলেন:আমরা দুয়ার খুলে দিয়ে কাউকে স্রোতের মতো আসার সুযোগ করে দিতে পারি না। কারণ, আমরা স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র। প্রতিবেশী দেশে একটা ঘটনা ঘটেছে। নয়জন বর্ডার পুলিশকে হত্যা করা হয়েছে। আর্মির ট্রাকে হামলা করেছে। তারপরে এ ঘটনাটা ঘটেছে।
যারা এ ধরনের ঘটনা ঘটাল, তাদের জন্য হাজার হাজার নারী-পুরুষ কষ্ট পাচ্ছে। এসব অসহায় নারী-পুরুষের কোনো অপরাধ নেই। যারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ঘটিয়েছে, তারাই অপরাধী।
আর ইতিমধ্যে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করে বলা হয়েছে, তারা এমন কোনো পরিস্থিতির সৃষ্টি না করে, যাতে ওখান থেকে রিফিউজি বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করে। মানবতার দিকে আমাদের তাকাতে হচ্ছে। অন্যদিকে প্রতিবেশী দেশে যেন কোনো অঘটন না ঘটে, সেদিকেও লক্ষ রাখতে হচ্ছে।’
রোহিঙ্গাদের আশ্রয় বিষয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বাল্যবিবাহ আইনে বিশেষ ক্ষেত্রে ১৮ বছরের কম বয়সীকে বিয়ের বিধান রাখার সমালোচনার জবাব দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, নারী শিক্ষায় নানান সুযোগ দিয়ে বাল্য বিবাহকে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। তবে, গ্রামীণ বাস্তবতা সম্পর্কে যাদের বাস্তব ধারণা নেই শহরে থাকা সেসব মানুষরাই আইনের সমালোচনা করছেন।








