যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে নিজেদের প্রধান শর্ত ও ‘রেড লাইন’ স্পষ্ট করেছে ইরান। চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যেই পাকিস্তানের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের কাছে এসব দাবি তুলে ধরেছে তেহরান। একই সময়ে নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে মার্কিন প্রতিনিধিরাও ইসলামাবাদ সফরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
আজ (১১ মে) সোমবার প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে এনডিটিভি জানিয়েছে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ইসলামাবাদে পাকিস্তানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে তেহরানের অবস্থান তুলে ধরেন। আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাশা নিয়ে ইরানের আপত্তির বিষয়ও তুলে ধরা হয়।
ইরানের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য চুক্তির জন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, তেল রপ্তানিতে পূর্ণ স্বাধীনতা, লেবাননে যুদ্ধবিরতি, সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা সম্পূর্ণ তুলে নেওয়া, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের তদারকি বা নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা এবং বিদেশে জব্দ থাকা ইরানি সম্পদ ফেরত দেওয়া।
পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও নিজেদের অবস্থান জানিয়েছে তেহরান। ইরান বলেছে, তারা ইউরেনিয়ামের একটি অংশ পাতলা বা নিষ্ক্রিয় করতে পারে। বাকি অংশ এমন একটি তৃতীয় দেশে স্থানান্তর করা হতে পারে, যা যুক্তরাষ্ট্র নয়। তবে শর্ত হলো আলোচনা ভেঙে গেলে বা যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি থেকে সরে গেলে সেই ইউরেনিয়াম ফেরত পাওয়ার বিষয়ে শক্ত গ্যারান্টি থাকতে হবে। এছাড়া যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার অন্তত ৩০ দিন পর পারমাণবিক আলোচনা শুরু করতে চায় ইরান। যুদ্ধ চলাকালীন কোনো সরাসরি আলোচনা নয় বলেও স্পষ্ট করেছে দেশটি।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা এখন নবম সপ্তাহে গড়িয়েছে। গত ২৪ জুন শুরু হওয়া যুদ্ধবিরতির মেয়াদ সম্প্রতি বাড়ানো হলেও পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত। এর প্রভাব বিশ্ব জ্বালানি বাজারেও পড়েছে। তেলের দাম কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
এদিকে ইসলামাবাদে অবস্থানরত এক ইরানি কূটনৈতিক সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, ইরান কোনোভাবেই একতরফা বা সর্বোচ্চ চাপের দাবি মেনে নেবে না।








