মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর উপর নির্মম নির্যাতন, রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে পালিয়ে আসা এবং এর প্রেক্ষীতে বৈশ্বিক প্রতিক্রিয়ার সমীকরণ নিয়ে ফেসবুকে লিখেছেন সরকারি তোলারাম কলেজের দর্শন বিভাগের অধ্যাপক সারোয়ার জাহান। রোহিঙ্গা ইস্যুতে বৈশ্বিক সমীকরণ কী হতে পারে সেটা বিশ্লেষণ করেছেন তিনি।
ফেসবুকে অধ্যাপক সারোয়ার জাহান লিখেছেন,
“রোহিঙ্গা ইস্যুতে অতি ছোট রাষ্ট্র মালদ্বীপ একটা বড় কাজ অর্থাৎ মিয়ানমারের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে ফেলেছে। ইরান, তুরস্ক, মালয়েশিয়া, পাকিস্তান প্রতিনিয়তই হুংকার দিচ্ছে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে। চৌদ্দটি মুসলিম দেশ একত্রিত হয়েছে এই ইস্যুতে। দেরীতে হলেও সৌদি আরব ও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। জাতিসংঘের মহাসচিব এ বিষয়ে বিবৃতিও প্রদান করেছেন– যদিও এসব এখন পর্যন্ত বায়বীয় আকারেই রয়ে গেছে– তারপরও বলা যায় যে, এটাও এক ধরণের সমীকরণ।
অন্যদিকে, মিয়ানমারের সবচেয়ে কাছের বন্ধু চীন এই ইস্যুতে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীকে সমর্থন দিয়ে চলেছে। রাশিয়া-ভারত এর অবস্থান এখন পর্যন্ত ‘পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ’ পর্যায়েই রয়েছে।
এখন এমন হতে পারে, আমেরিকার নির্দেশে মুসলিম দেশগুলো প্রথমে মিয়ানমারকে চাপে রাখার কৌশল অবলম্বন করতে পারে, তবে সেক্ষেত্রে রাশিয়া-চীন-ভারতের অবস্থান কী হতে পারে- সেটাকে মহাবিবেচনায় আনতে হবে। কেননা মার্কিনীরা যেদিকে যাবে, চীন-রাশিয়া, উত্তর কোরিয়া সেদিকে যে থাকবে না, সেটা পানির মতো পরিষ্কার। অন্যদিকে চীন যেদিকে থাকবে সেদিকে ভারত না থাকারই কথা! কিন্তু জানে দুশমন পাকিস্তান ও মুসলিম বিশ্বের ঐক্যের মধ্যে ভারত গা এলিয়ে দেবে, এটা ভাবারও কোনো কারণ নেই।
একইভাবে ইরানের সাথে মার্কিনীদের সম্পর্ক চরম বৈরিতার। কাজেই, রোহিঙ্গা ইস্যুতে ইরানের বাড়াবাড়ি আমেরিকা এবং সুন্নী মুসলিম রাষ্ট্রসমূহ ভালো চোখে নাও দেখতে পারে। 
সব রোহিঙ্গার বাংলাদেশে প্রবেশের সুযোগ দিয়ে দীর্ঘদিন পুষে রাখার কৌশল কোন সমাধান নয়, এবং এই সামর্থ্যও বাংলাদেশের যে নেই তা পরিষ্কার। আবার রোহিঙ্গাদের যে অংশ (আরসা) সশস্ত্র সংগ্রাম করছে, তাদেরকে এককভাবে সহায়তা করার মতো সামর্থ্যও বাংলাদেশের নেই। এককভাবে মিয়ানমারের সাথে সামরিক সংঘাতে যাওয়ার সামর্থ্যও নেই বাংলাদেশের। সেক্ষেত্রে ইরাক এবং আফগানিস্তানের মতো যৌথ বাহিনী গঠনের সম্ভাবনাও রয়েছে। সেক্ষেত্রে চীন, রাশিয়া, উত্তর কোরিয়া একাট্টা এবং ভারত সূচতুর কৌশল নিতে পারে।
সব মিলিয়ে বলা যায় যে, রোহিঙ্গা ইস্যুটি এখন আর রোহিঙ্গাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, এটি এখন আন্তর্জাতিক ইস্যু হয়ে যাচ্ছে। এবং এর আশু সমাধান করার প্রচেষ্টা একটি সরলীকরণ প্রক্রিয়া ছাড়া আর কিছুই নয়। এই ইস্যুতে নানা ধরণের বৈশ্বিক সমীকরণ ঘটতে পারে, তাতে বন্ধু রাষ্ট্র শত্রু হয়ে যেতে পারে এবং শত্রু রাষ্ট্র বন্ধু হওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছ! তবে যা কিছুই ঘটুক না কেনো, নিকট ভবিষ্যতে, বাংলাদেশ ‘ফোকাল পয়েন্ট’ এ চলে আসতে যাচ্ছে এই ইস্যুতে।”







