কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের ৩৪টি আশ্রয়শিবিরে র্যালি ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে রোহিঙ্গারা।
বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত বিশ্ব শরণার্থী দিবস উপলক্ষে এই বিক্ষোভ চলে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে।
এদিকে বিশ্ব শরণার্থী দিবস উপলক্ষে কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত রবার্ট মিলার। বৃহস্পতিবার দুপুরে উখিয়ার কুতুপালংয়ে পৌঁছে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের শিশুদের আঁকা চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় অংশ নেন তিনি। পরে বিশ্ব শরণার্থী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত র্যালিতে যোগদান করেন। এ সময় একদল রোহিঙ্গাদের বিক্ষোভের মুখে পড়েন মার্কিন রাষ্ট্রদূত।
র্যালিটি মধুরছড়া ক্যাম্প থেকে কুতুপালং রেজিস্টার্ড ক্যাম্পে আসার পথে ‘আমরা শরণার্থী জীবনযাপন করতে চাই না, আমরা স্বদেশে ফিরতে চাই’ স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ করে একদল রোহিঙ্গা। এ সময় র্যালিটি আটকে দেয় তারা। প্রায় আধা-ঘণ্টা পর রোহিঙ্গাদের শান্ত করতে সক্ষম হন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
রেজিস্টার্ড রোহিঙ্গা রহিমা খাতুন বলেন, তিনি ১৯৯১ সাল থেকে এখানে রয়েছে। শরণার্থী জীবন আর ভালো লাগে না। আমি যখন এসেছিলাম তখন সবেমাত্র আমার বিয়ে হয়েছিল।এখন ছেলে সন্তান হয়েছে তাদের বিয়ে হয়েছে। এসব পরিবারের সদস্য নিয়ে আমি এখন কোথায় যাব?
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া নুরুল হক বলেন, গত ৮ মাস ধরে আমরা কোন খাবার নিচ্ছি না, এখানে আমাদের দম বন্ধ হয়ে আসছে। আমরা আমাদের দেশে ফিরে যেতে চায়। এখানে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে খুব বেকায়দায় রয়েছি।
রেজিস্টার্ড ক্যাম্পে রোহিঙ্গা ফাতেমা খাতুন বলেন, আল্লাহ যেন পৃথিবীর আর কাউকে আমার মত শরণার্থী জীবন না দেন, কারণ শরণার্থী জীবন অভিশপ্ত জীবন বলে মনে হচ্ছে।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া আরেক রেজিস্টার্ড বয়োবৃদ্ধ নারী হাসিনা খাতুন বলেন, মনের ভেতর অনেক কষ্ট, হাজারো কষ্ট বুকে নিয়ে প্লেকার্ড হাতে আজ বিক্ষোভ নেমেছি। আমরা আর এখানে থাকতে চাই না। দয়াকরে আমাদেরকে মিয়ানমারের ফেরার সুযোগ করে দেন।
অবিবাহিত অবস্থায় শরণার্থী আসা খদিজা খাতুন বলেন, আজ আমি সাত সন্তানের জননী। ছেলে মেয়েরা নানা প্রশ্ন করে। তারা খোলা মেলা চলাফেরা করতে চায়। কিন্তু এই ক্যাম্পের জীবন অন্যরকম জীবন। তাই মাঝে মধ্যে তাদের প্রশ্নের মুখে পড়ে আত্মহত্যা করতে মন চায়। কথাগুলো বলতে বলতে ক্ষোভে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন তিনি। 
র্যালি শেষে মার্কিন রাষ্ট্রদূত রবার্ট মিলার বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সব সময় রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনের জন্য মিয়ানমারের উপর চাপ সৃষ্টি করে আসছে। যুক্তরাষ্ট্র চায় রোহিঙ্গারা প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে অবশ্যই স্বেচ্চামুলক, নিরাপদ এবং মর্যাদাপূর্ণ হতে হবে। এটি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম শর্ত। তাহলে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের বসবাস শান্তিপূর্ণ হবে।
বাংলাদেশে এক মিলিয়নেরও বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি আরও বলেন, এত বিপুল পরিমাণ জনগোষ্ঠী এক সাথে অবস্থান করার কারণে স্থানীয়রা অনেক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। এই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের কোন বিকল্প নেই। এজন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এগিয়ে আসার আহবান জানান তিনি।
এরপর রোহিঙ্গা নেতাদের সঙ্গে কুতুপালং রেজিস্টার্ড ক্যাম্পে বৈঠকে বসেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। সেখানে রোহিঙ্গারা তাদের বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন এবং মার্কিন রাষ্ট্রদূত তাদের আশ্বস্ত করেন।
এ সময় ইউএনএইচসিআরের বাংলাদেশের প্রধান স্টিফেন করলিস, শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার আবুল কালামসহ সরকারি কর্মকর্তা, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বিভিন্ন এনজিও’র প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।








