মিয়ানমারে জাতিগত নিধনের শিকার হয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গা। নির্যাতনের হাত থেকে রক্ষা পেতে জীবন বাজি রেখে নদী পথে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার কুতুপালং শরণার্থী শিবিরে বায়োমেট্রিক নিবন্ধনের মধ্য দিয়ে রোহিঙ্গাদের ক্যাম্পে থাকতে দেয়া হচ্ছে।
কুতুপালং, বালুখালি, পালংখালি ও শফিউল্লাহ কাঁটা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে রোহিঙ্গারা ঘনবসতি এলাকায় যেমন মানবেতর জীবন-যাপন করছে, তেমনি বিপন্ন ঐসব এলাকার পরিবেশ। যা বাংলাদেশের শুধু পরিবেশই নয়, আর্থ-সামাজিক অবস্থাকেও সংকটাপন্ন করে তুলছে।
বয়সের ভারে হাঁটতে পারেন না বৃদ্ধ বাবা, কিন্তু ত্রাণ না পেলে মিলবে না খাবার। তাই পুত্রের কাঁধে চড়ে ত্রাণ সংগ্রহের পথে।নিবন্ধনের পর আইডি কার্ড নিয়ে এক রোহিঙ্গা পরিবার ক্যাম্পে প্রবেশ করছেক্যাম্পে পানির সংকট সবচেয়ে বেশি। মানুষের পানির জন্য সংগ্রাম। দীর্ঘ লাইন জমে যায় এক পাত্র পানি পাওয়ার আশায়।অনুপ্রবেশকারীদের মধ্যে শতকরা ৬০ ভাগ শিশু। এইচআইভি-এইডস আক্রান্তের পাশাপাশি হেপাটাইটিস, ম্যালেরিয়া ডায়রিয়া, ভাইরাস জ্বর ও নানা চর্মরোগে আক্রান্ত রোহিঙ্গারা। সবচেয়ে ঝুঁকির মধ্যে আছে নারী ও শিশুরা।রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম চলছেটিলা ও পাহাড়ে অস্থায়ীভাবে রোহিঙ্গাদের আবাস স্থাপন। স্থানীয়রা জানায় ছয় মাস আগেও এখানে ছিলো বন্য হাতীর অভয়রাণ্য।পাহাড়ের উপরে রোহিঙ্গা ক্যাম্প। পাহাড় কেটে রাস্তা তৈরি করা হয়েছে, যেখানে কিছুদিন আগেও ঘন বন ছিল। বৃষ্টিপাত হলে ভয়াবহ পাহাড় ধসে বিপুল সংখ্যক মানুষের প্রাণহানি ঘটতে পারে।পলিথিনের তাঁবুতে গুমোট গরম। এ পরিবেশে শিশুরা অসুস্থ হয়ে পড়ছে।প্রতিদিনের জ্বালানির চাহিদা মেটানোর জন্য বনাঞ্চল ধ্বংস হচ্ছে। বন বিভাগের হিসাবে শুধুমাত্র সামাজিক বনায়নের গাছের আর্থিক মূল্য প্রায় ৫০০ কোটি টাকা।অসহায় রোহিঙ্গা পরিবারের মেধাবী সন্তানের গল্প বলছিলেন মা। আগে জমি ছিলো, বসতি ছিলো, ছিলো সম্পদ ও সম্মান। ছেলে মিয়ানমারের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশলী বিভাগের ছাত্র। অথচ আজ অসহায়, ভাসমান।ইউনিসেফ পরিচালিত স্কুলগুলোতে শিক্ষার পাশাপাশি শিশুদের খাদ্য ও চিকিৎসার ব্যবস্থা রয়েছে।