মরছে রোহিঙ্গা শিশুকন্যা, মরে দরিদ্র মুসলমান। ওরা মানুষ নয়! ওরা মানুষ হলে কি করে চুপ থাকে বিশ্ব। পরশুর পঁচা বিপ্লবী সুচি অাজ পশ্চিমাদের কাছে পশ্চাৎদেশ বেচা গণতন্ত্রী, বিস্ময়। গণতন্ত্র তুমি বুঝি অাজ দেশে দেশে সুবিধা জুলুম অার মিথ্যাচারের পূর্ণদৈর্ঘ্য পর্নো সংস্করণ?
সশস্ত্র বাহিনীর সাথে মিয়ানমার সরকারের সরাসরি মদদে উগ্রপন্থীরা গত এক সপ্তাহে সেখানে রোহিঙ্গা মুসলমানদের উপর ১৭৮৪ সালের পর চালাচ্ছে বিভৎসতম নারকীয়তা।
যুগ যুগ ধরে মিয়ানমারের নিপীড়িত, অত্যাচারিত রোহিঙ্গাদের কখনো মানুষের(!) স্বীকৃতি দেয়নি, দেবেও না বিকৃত মানবিকতার মানবাধিকার।
বিশ্বশান্তির উলঙ্গ দালালের দল দেবে না বার্মায় লাশ দাফনের অধিকার। মাতৃগর্ভে সরকারি পেটোয়া বাহিনীর বুটের লাথিতে মরবে সন্তান। প্রাণভিক্ষায় সংকূল সংকটাপন্ন মানুষগুলির নিমজ্জমান নাফ নদীর নৌকা কখনো পার খুজেঁ পাবে না। সেখানেও কড়া পাহারায় নিরুপায় বিজিবি।
পুশব্যাক তাদের ফেরাবে, ফেরাচ্ছে কুকুরের দাঁতে শকুনচোখার কামড়ের মতো করে।
জেরুজালেম, গাজা, সিরিয়ায় মানুষকে মরতে হবেই। মুসলমান বলেই। মানব দেহের মিলনে প্রেমহীন ধর্ষকামরূপে পাপের ফসলসম পরিনতির কারণ হয়ে ওদের মরতে হবেই। দেশে দেশে ধর্মের নামে নির্যাতিত মানুষের বাস্তবতা অাসলে একই।
রোহিঙ্গারা তো মানুষই নয়! ওরা মানুষ হলে, বিশ্ব মানবতার পতিতাময় হোতারা তাদের জন্য ফেষ্টুন হাতে ক্যামেরার সামনে বিবৃতির ব্যবসা করতেন। কফি অানানেরা কথা বলতেন। কেননা, তাদের ‘মানুষ’ স্বীকৃতি দিলে সুবিধার অংকে বিশ্বমোড়লদের মুনাফার ক্ষতি। ১৯৭০ সাল থেকে মিয়ানমান রাষ্ট্র তাদের নাগরিক হিসেবে স্বীকার করে না, কেড়ে নিয়েছে ভোটাধিকার। বহুপুরুষ ধরে বাস করলেও সরকার তাদের কবরের জমিটুকুর মালিকানা দেয় না। অার ভিটেবাড়ির মালিকানা তো দূরের কথা। বন্ড সই দিতে হয় দুই সন্তানের অধিক জন্ম না দেবার। মানে কার্যত দেশটিতে রোহিঙ্গাদের ঘরে তৃতীয় সন্তানটি অবৈধ। ধর্ষণ, গণধর্ষণে দেশটির মুসলিম নারীরা খাদ্য কেবল সামরিক বেসামরিক বৌদ্ধ সন্ত্রাসীদের।
মানবাধিকার, জাতিসংঘ অার বিশ্বশান্তি বাণিজ্যের মূল হোতারা এখানে নীরব। কারণ, মিয়ানমারে তালেবান বা অাইএস বানাবার অস্ত্র অার প্রতিপক্ষ সৃষ্টির পাতানো খেলা নেই। যেখানে ধর্ম এবং সন্ত্রাসবাদের খেলা হবে না; সেখানে কি করে কথা বলবে অন্ধ জাতিসংঘ? কিংবা উভকামী হতে হতে অর্থকামী মানবাধিকার বাণিজ্য। দেশে দেশে শান্তির মনোপলি ব্যাবসার মালিকানা এখন শুধু অস্ত্র অার যুদ্ধব্যবসায়ীদেরই। জাতিসংঘ সেখানে জানি ক্ষমতার গণিকালয়। হায় তবে দর্শক সাধারণ মুখগুলো কি তবুও প্রতিবাদে মুখর হবে না? নাহ, নাগরিক, সুশীলের দল জানি ফেসবুকের লাইকের অক্ষরেও তবু লিখবে না প্রতিবাদীর দল।
অাসলে দেশে দেশে মারা যাওয়া নির্বোধ মুসলমানের দলগুলো শুধমাত্র ইহুদিবাদের অাধিপত্যবাদী ষড়যন্ত্রের খেলবার শিকার, মানুষই নয়।
মানুষ হলে মিডিয়া মালিকদের, দর্শকের চোখে চোখ রেখে মানবতার প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শনের সীমা থাকত। দেশে দেশে সবচাইতে নিপীড়িত মানুষগুলো অাসলে কখনো মানুষের ‘স্বীকৃতি’ পাবে না, কারণ; তাদের অপরাধ তারা ‘মুসলমান’।
(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে)







