বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গারা তাদের দেশে ফিরে যেতে চায়। বিশ্ব শরণার্থী দিবস উপলক্ষে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের ৩৪টি আশ্রয়শিবিরে ফিরে যাবার দাবিতে র্যালির সঙ্গে সঙ্গে বিক্ষোভ মিছিল করেছে রোহিঙ্গারা। বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থা র্যালির আয়োজন করেছিল, যা পরে বিক্ষোভ মিছিলে রূপ নেয়।
মধুরছড়া ক্যাম্প থেকে কুতুপালং রেজিস্টার্ড ক্যাম্পে র্যালি আসার পথে ‘আমরা শরণার্থী জীবনযাপন করতে চাই না, আমরা স্বদেশে ফিরতে চাই’ স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ করে একদল রোহিঙ্গা। এ সময় র্যালিটি আটকে দেয় তারা। প্রায় আধা-ঘণ্টা পর রোহিঙ্গাদের শান্ত করতে সক্ষম হন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
বিশ্ব শরণার্থী দিবস উপলক্ষে কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত রবার্ট মিলার। তিনিও রোহিঙ্গাদের বিক্ষোভের মুখে পড়েন। পরে রোহিঙ্গা নেতাদের সঙ্গে কুতুপালং রেজিস্টার্ড ক্যাম্পে বৈঠকে বসেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। সেখানে রোহিঙ্গারা তাদের বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন এবং মার্কিন রাষ্ট্রদূত তাদের আশ্বস্ত করেন। বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেয়া ও গণমাধ্যমের সঙ্গে বলা কথায় অনেক রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ মিয়ানমারে ফিরে যেতে আকুতি জানায়।
আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গারা নানামুখী সমস্যা আর প্রতিকূলতার মুখে ক্যাম্পগুলোতে অবস্থান করছে। থাকা-খাওয়ার একটা ব্যবস্থা বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে হলেও মানবিক নানা বিপর্যয়ের মুখে রয়েছে তারা, সেইসঙ্গে ওইসব এলাকার প্রাকৃতিক পরিবেশ একেবারে ধ্বংস হয়ে গেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজকেও পরিবেশ বিষয়ক এক অনুষ্ঠানে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে পরিবেশের ক্ষতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন।
বাংলাদেশের ক্রমাগত কূটনৈতিক তৎপরতা ও বিভিন্ন বৈশ্বিক চাপে মিয়ানমার কিছুদিন আগে কিছুটা নমনীয় হয়ে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে উদ্যোগী হবার ভান করলেও বর্তমানে তারা আবার চুপ হয়ে গেছে। আরেকটি বিষয় লক্ষ্যনীয় যে, বিদেশী বিভিন্ন সংস্থা দীর্ঘমেয়াদী নানা কর্মসূচি পরিকল্পনা করছে এইসব রোহিঙ্গাদের কেন্দ্র করে, যা আসলে কী সংকেত দিচ্ছে? রোহিঙ্গারা কি স্থায়ী হতে বসেছে বাংলাদেশে? বিষয়গুলো খুবই উদ্বেগের।
আমাদের আশাবাদ, বিষয়গুলো নজরে এনে বিভিন্ন কর্তৃপক্ষ কার্যকর উদ্যোগ ও পদক্ষেপ নেবে।








