‘খুব চেষ্টা করছিলাম যেন কেউ দেখতে না পায়, কিন্তু পারিনি, আমি কাঁদছিলাম। তারাও কাঁদছিলো।’ ঢাকায় রোহিঙ্গাদের সঙ্গে দেখা করার বিষয়ে নিজের প্রতিক্রিয়ায় একথা জানিয়েছেন পোপ ফ্রান্সিস।
বাংলাদেশ সফরের আগে মিয়ানমার সফরের সময়ে রোহিঙ্গা শব্দটি উল্লেখ করেননি পোপ। এতে বেশ সমালোচনার মুখেও পড়েন তিনি। পরে নিজের দেওয়া ব্যাখ্যায় পরিস্কার করেন নিশ্চুপ থাকার কারণ। বলেন, এই বিষয় নিয়ে দুই দেশের নেতার সঙ্গে কথা বলবেন তিনি। সেই সময়ই রোহিঙ্গাদের সঙ্গে সাক্ষাতের সময়ে নিজের আবেগের কথা উল্লেখ করেন তিনি।
শনিবার ঢাকা থেকে ভ্যাটিকানে ফেরত যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের পোপ ফ্রান্সিস বলেন, আমি যদি আমার অফিশিয়াল বক্তব্যে রোহিঙ্গা শব্দটি ব্যবহার করতাম তাহলে আলোচনার দ্বার বন্ধ করে দিতাম।
মিয়ানমারে সফরের সময়ও একতার কথাই বলেছেন পোপ। সেখানকার বিশ্বাসী নেতাদের তিনি বরেন, ধর্মীয় ভিন্নতা কখনো বিভক্তি বা অবিশ্বাসের উৎস হতে পারে না। বরং সেটা একটা, ক্ষমা, ধৈর্য ও জ্ঞানী জাতি গঠনের সৈনিক হতে পারে।
ব্যক্তিগতভাবে মিয়ানমারের নেতাদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আরো খোলামেলা আলোচনা করবেন বলেও জানান পোপ। এমনকি মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সুচির সঙ্গে তার আলোচনা খুব সন্তোষজনক ছিলো বলেও উল্লেখ করে বলেন, কথোপকথন ভালো ছিলো, সত্য কখনো বদলানো যায় না।
ঢাকা সফরের সময়ে অনুবাদকের সাহায্যে ১৬ জন পোপের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলেন পোপ ফ্রান্সিস। সেখানে একটি আবেগপূর্ণ বক্তব্যে তিনি বলেন, সবার নামে, যারা তোমাদের উপর নিপীড়ন করেছে, যারা তোমাদের সঙ্গে ভুল আচরণ করেছে, সবকিছুর উপরে বিশ্বের একতা। আমরা তোমাদের ক্ষমা চাই। আমি আমাদের সবার হয়ে তোমাদের বড় হৃদয়ের কাছে ক্ষমা চাইছি।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বাংলাদেশের ক্যাথলিক বিশপের আমন্ত্রণে সম্প্রীতি ও শান্তির বাণী নিয়ে তিন দিনের সফরে ৩০ নভেম্বর বাংলাদেশে আসেন পোপ ফ্রান্সিস।
ছয় দিনের এশিয়া সফরে পোপ ফ্রান্সিস ২৮ নভেম্বর ইয়াংগুনে পৌঁছান। সেখান থেকে ৩০ নভেম্বর ঢাকায় আসেন তিনি। তিনদিনের বাংলাদেশ সফর শেষে ২ ডিসেম্বর রোমের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন পোপ ফ্রান্সিস।







