মিয়ানমারের সামরিক জান্তার জাতিগত নিধনের শিকার হয়ে প্রতিবেশি রোহিঙ্গাদের মানবিক সংকটে বাংলাদেশ তাদের পাশে দাঁড়ালেও শুরু থেকেই বাংলাদেশের বড় ধরণের অর্থনৈতিক এবং সার্বিক ক্ষতির বিষয়টি ছিল আশঙ্কার। আর রোহিঙ্গা সংকট সাময়িক কোন সমস্যা না হওয়ায় এবার অর্থনীতিবিদরাও এই বিষয়ে নিজেদের আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন। স্রোতের মতো আসা রোহিঙ্গাদের কারণে দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশ বড় ধরণের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। বাড়তি প্রশাসনিক ব্যয়, পর্যটন খাত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং স্বাস্থ্য ঝুঁকিসহ নানা ধরনের অসামাজিক কার্যকলাপ বাড়তে পারে বলে চ্যানেল আই অনলাইনের কাছে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা। একইরকম কথা বলেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। বৃহস্পতিবার কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ত্রাণ বিতরণকালে তিনি বলেছেন: মিয়ানমার থেকে এখনও স্রোতের মতো রোহিঙ্গারা আসছে। কিন্তু বাংলাদেশের পক্ষে এত বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গার বোঝা বহন করা সম্ভব নয়। জাতিসংঘ তাদের অঙ্গীকার রক্ষা করেনি। তাই রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠাতে অথবা অন্য কোন দেশে স্থানান্তর করার জন্য তিনি জাতিসংঘের প্রতি আহ্বান জানান। ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যকে আমরা যথাযথ বলে মনে করি। মিয়ানমারের সৃষ্টি করা সমস্যার দায় কোনভাবেই বাংলাদেশের হতে পারে না। রোহিঙ্গাদের বিপদে বাংলাদেশ মানবিক ভূমিকা পালন করে এলেও অন্য কোন দেশ কিংবা জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক কোন সংস্থার পক্ষ থেকে আমরা এরকম বড় কোন ভূমিকা দেখছি না। এটা বাস্তব যে, এত ছোট আয়তনের একটি দেশ হিসেবে বাংলাদেশের পক্ষে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গার চাপ সামাল দেওয়া কোনভাবেই সম্ভব নয়। এছাড়া রোহিঙ্গা স্রোতের সঙ্গে আসা অস্ত্র ও ইয়াবাসহ আরও অনেক বিষয়ে বাংলাদেশের নিরাপত্তা এবং সার্বিক রাষ্ট্রীয় ঝুঁকিও রয়েছে। তাই জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এই মানবিক সংকট মোকাবেলায় দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে এবং এই ইস্যুতে বাংলাদেশকে দেওয়া নিজেদের সকল প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে হবে। এছাড়া রোহিঙ্গাদের জন্য বিশ্বব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার সম্ভাবনার সংবাদও সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ হয়েছে। এ বিষয়ে সরকারকে অনেক ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নিতে হবে বলে আমরা মনে করি। তাদের জন্য বাংলাদেশের ঋণের বোঝা না বাড়িয়ে বরং কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করে যত দ্রুত সম্ভব এই সমস্যা সমাধানের পথে হাঁটতে হবে বলে মনে করি।







