রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো এবং তারা যাতে নির্ধারিত ক্যাম্প থেকে সারাদেশে ছড়িয়ে পড়তে না পারে এমন কিছু যৌক্তিক কারণে প্রায় দু’মাস আগে বায়োমেট্রিক নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরু হলেও এক্ষেত্রে ধীরগতির অভিযোগ ছিল। তবে কারিগরি নানা জটিলতার পরও চলতি সপ্তাহে চ্যানেল আইয়ের প্রতিবেদনে নতুন করে আসা ৮ লাখ রোহিঙ্গার মধ্যে ৩ লাখের বেশি রোহিঙ্গার নিবন্ধনের খবর পাওয়া যায়। কিন্তু ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের (টিআইবি) সমীক্ষা প্রতিবেদন এক্ষেত্রে সেখানে গুরুতর ষড়যন্ত্রের বিষয়ে ইঙ্গিত দিয়েছে। ‘মিয়ানমারের নাগরিকদের বাংলাদেশে অবস্থানজনিত কারণে সুশাসনের চ্যালেঞ্জ’ বিষয়ক সমীক্ষা প্রতিবেদনে টিআইবি জানায়, দেশিয় এবং আন্তর্জাতিক কিছু সংস্থা বায়োমেট্রিক নিবন্ধনে রোহিঙ্গাদের বিভ্রান্ত করে এ বিষয়ে নিরুৎসাহিত করছে। নিবন্ধিত হলেই মিয়ানমারে ফিরে যেতে হবে এমন বলা হচ্ছে। এদেশে রোহিঙ্গাদের বেশি দিন থাকার মানসিকতা তৈরি হলে সন্ত্রাস এবং জঙ্গিবাদ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে টিআইবি। আমরা টিআইবির এই আশঙ্কার সঙ্গে একমত পোষণ করি। আমরা মনে করি, মানবিক সংকটে তাদের আশ্রয় দিলেও তাদেরকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর জন্য আরও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। এক্ষেত্রে তাদের নিবন্ধনের আওতায় আনতে না পারলে যাবতীয় সমস্যা আরও বাড়বে। তাই সমস্যা সমাধানে নিবন্ধনের বিষয়ে প্রচারণা আরও বৃদ্ধি করতে হবে। পাশাপাশি কারা রোহিঙ্গাদের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে নিবন্ধন কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করছে, রোহিঙ্গাদের এখানে রেখে বাংলাদেশকে কারা অস্থিতিশীল করে তুলতে চায়, তাদেরকেও খুঁজে বের করতে হবে। ষড়যন্ত্রকারীদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে না পারলে তারা আরও বেশি তৎপর হয়ে উঠবে। এর পাশাপাশি মিয়ানমারের অপপ্রচার বন্ধেও সরকারকে আরও কৌশলী কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। তাদের উপর আন্তর্জাতিক চাপ অব্যাহত রাখতে না পারলে তারা খুব সহজে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেবে না বলেই মনে হয়। তাই ত্রাণ নির্ভর কূটনৈতিক তৎপরতার বদলে জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া প্রস্তাবনা বাস্তবায়নে জোরালো ভূমিকা গ্রহণ করতে হবে।








