বন্যার পানির মতো অসহায় রোহিঙ্গারা দেশে প্রবেশ করছে আর অন্যদিকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা গ্রামে চলছে সেনাবাহিনীর হত্যা, নির্যাতন আর জ্বালাও-পোড়াও। পালিয়ে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের মুখ থেকে আর আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত নারকীয় বিভিন্ন বর্ণনায় সারাবিশ্ব স্তব্ধ! অবস্থাদৃষ্টে বাংলাদেশের কাঁধে বড় মানবিক দায়িত্ব। প্রায় ৭ লাখ রোহিঙ্গার আশ্রয় হয়েছে এখন পর্যন্ত। বিষয়টি সারাবিশ্বের কাছে প্রসংশিত হলেও মিয়ানমারের উপরে সেই অর্থে চাপ বা কার্যকর পদক্ষেপ নিতে এখনও তেমন কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। তবে আশার কথা কিছু কিছু দেশ ও জোট এই সমস্যার গুরুত্ব বুঝতে পেরে ইতিমধ্যে তাদের করণীয় নিয়ে ভাবতে শুরু করেছে। গতকাল ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ ফোন করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে কথা বলেছেন। আজ ইউরোপীয় ইউনিয়ন বিশাল রোহিঙ্গা জনস্রোত সামলানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশের মানবিক পদক্ষপের প্রশংসা করে ইউরোপীয় পার্লামেন্টে একটি প্রস্তাব গ্রহণ করেছে। এছাড়া ইইউভুক্ত দেশগুলোর প্রতি মিয়ানমারের ওপর অবরোধ আরোপের বিষয় বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে তারা। প্রস্তাবে বলা হয়, ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোকে এটি পরিষ্কার করতে হবে যে, আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন অব্যাহত থাকলে তারা মিয়ানমারের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক অবরোধ আরোপের বিষয় বিবেচনা করতে প্রস্তুত রয়েছে। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর চালানো হত্যা, নির্যাতন, ধর্ষণ এবং তাদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেয়া দ্রুত বন্ধে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রস্তাবে সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর প্রতি জোরালো আহ্বান জানানো হয়। ইউরোপীয় পার্লামেন্টের এই উদ্যোগকে আমরা সাধুবাদ জানাই। আশা করি, এশিয়ার পরাশক্তি বলে পরিচিত চীন ও ভারত ইউরোপীয় পার্লামেন্টের মতো করে ভাববে, এগিয়ে আসবে এই সমস্যার সমাধানে। লাখো অসহায় রোহিঙ্গাদের নিয়ে এই ঘৃণিত ভৌগলিক রাজনীতিকে পেছনে ফেলে মানবতার জয় হবে, এই আমাদের প্রত্যাশা।









