শেষ ওভার পর্যন্ত চলল রুদ্ধশ্বাস উত্তেজনা। তবে শেষ পর্যন্ত জয় হল চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের। এলিমিনেটর ম্যাচে খুলনা টাইগার্সকে ৭ রানে হারিয়ে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার নিশ্চিত করেছে আফিফ হোসেনের দল। শেষ ২ বলে মাত্র ১ রান নিতে পারে মুশফিকুর রহিমের দল।
ম্যাচের এক পর্যায়ে ৩ ওভারে ৪৩ রানের কঠিন সমীকরণ সহজ করে দিয়েছিলেন আন্দ্রে ফ্লেচার ও ইয়াসির আলি। ১ ওভারে ১৯ রান তুলে জয়ে আশা জাগায় খুলনা। তবে ১১ বলে ১৮ রানের তুলনামূলক সহজ সমীকরণ মেলাতে ব্যর্থ হন ফ্লেচার। মেহেদী হাসান মিরাজের করা শেষ ওভারে পঞ্চম বলে ১ রান নিয়ে স্ট্রাইক দেন থিসারা পেরেরাকে। শেষ ডেলিভারিতে ক্যাচ তুলে দেন থিসারা।
১৯০ রানের বড় লক্ষ্যে নামা ফ্লেচার অপরাজিত থাকেন ৮০ রানে। ক্যারিবিয়ান তারকা ৫৮ বলের ইনিংসে চার ৬টি ও ৪টি চারের মার রয়েছে। লিগপর্বের শেষ ম্যাচে সিলেটের বিপক্ষে অপরাজিত সেঞ্চুরি করে খুলনাকে প্লে-অফে তুলেছিলেন ফ্লেচার। তবে এবার আর পারলেন না শেষ পর্যন্ত লড়াই করে।
ইয়াসির ২৪ বলে ৪৫ ও মুশফিক ২৯ বলে খেলেন ৪৩ রানের ইনিংস।
এর আগে মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে টসে আগে ব্যাটিংয়ে নামা চট্টগ্রাম ৫ উইকেটে ১৮৯ রান করে। শেষ ৬ ওভারে ৮০ রান তুলে খুলনাকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখেই ফেলে দেয় বন্দরনগরীর দলটি। চ্যাডউইক ওয়ালটন ৪৪ বলে ৭ চার ও ৭ ছক্কায় অপরাজিত ৮৯ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন। তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন মেহেদী হাসান মিরাজ।
যদিও ম্যাচ শুরুর আগেই বড় ধাক্কা খায় চট্টগ্রাম। ৫৭ বলে ৯২ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সকে বিপিএলের প্লে-অফে তোলা উইল জ্যাকস পেটের পীড়ায় খেলতে পারেননি এলিমিনেটর ম্যাচ। খাদ্যে বিষক্রিয়ায় কিছুটা অসুস্থ হওয়ায় তিনি মাঠে নামতে পারেননি।
জ্যাকসের জায়গায় একাদশে ঢোকা ওপেনার কেনান লুইস প্রথম ওভারেই আগ্রাসী ব্যাটিং শুরু করেছিলেন। খালেদ আহমেদের করা ইনিংসের প্রথম বলেই মারেন চার। চতুর্থ বলে হাঁকান ছক্কা।
প্রথম ওভারের শেষ বলে আরেক ওপেনার জাকির হাসান রানের খাতা না খুলেই আউট হন। খালেদের শর্ট পিচ বলে মারতে গিয়ে ফ্লেচারের হাতে ধরা পড়েন। ব্যাট হাতে আজ ভালো করতে পারেননি চট্টগ্রাম অধিনায়ক আফিফ হোসেন ধ্রুব। রুবেল মিয়ার বলে মুশফিকুর রহিমের গ্লাভসবন্দি হওয়ার আগে ৩ রানের বেশি করতে পারেননি।
তৃতীয় উইকেটে চাডউইক ওয়ালটনকে নিয়ে ৩৮ রান যোগ করে শুরুর ধাক্কা সামাল দেন কেনান। যদিও রানের গতি টি-টুয়েন্টিসুলভ ছিল না। নাবিল সামাদের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে কেনান সাজঘরে ফিরলে ভাঙে জুটি। ৩২ বলে ৪টি চার ও ২ ছক্কায় তিনি খেলেন ৩৯ রানের ইনিংস।
দুই চার মেরে ভালো কিছুর ইঙ্গিত দিলেও সেটি করতে পারেননি শামীম হোসেন পাটোয়ারী। ৭ বলে ১০ রান করে তিনি মাহেদি হাসানের বলে লেগ বিফোরে কাটা পড়েন।
এক পর্যায়ে ৬৫ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়ে চট্টগ্রাম। এরপর মেহেদী হাসান মিরাজকে নিয়ে পঞ্চম উইকেটে প্রতিরোধ গড়েন ওয়ালটন। আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে ক্যারিবীয়ান এই ক্রিকেটার ২৮ বলেই তুলে নেন ফিফটি।
ফিফটি করার পরও নিজের ঝড় থামাননি ওয়ালটন। দলকে বড় স্কোর পাইয়ে দিতে ছিলেন মরিয়া। ওয়ালটন-মিরাজ জুটি গড়েন ১১৫ রানের বড় জুটি। শেষ ওভারে খালেদের বলে বোল্ড হওয়ার আগে ৩০ বলে ২ চার ও ১ ছক্কায় করেন ৩৬ রান। শেষ দিকে ৩ বলে ১ ছক্কায় ৮ রানে অপরাজিত থাকেন বেনি হাওয়েল।








