এক ধাক্কায় ৭০ শতাংশ দর্শক উধাও! ব্যাপারটা কী? বিশ্লেষকরা অনুসন্ধান করার পর এই কাণ্ডকে নাম দিয়েছেন ‘ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ইফেক্ট’। অর্থাৎ, রিয়াল মাদ্রিদ ছেড়ে সিআর সেভেনের জুভেন্টাসে পাড়ি জমানোর পর লা লিগা দেখা ছেড়ে দিয়েছেন ১০০ জনের মধ্যে ৭০ জন দর্শক। তারা সবাই এখন তুরিনের ক্লাবটির ভক্ত!
মঙ্গলবার ৩৪ বছর বয়সে পা দেয়া রোনালদোকে ১১০ মিলিয়নে গত গ্রীষ্মে দলে টেনে বড় এক দাও মেরেছে জুভেন্টাস। বয়সের ছাপ মোটেও খেলার মাঝে পড়েনি, সেটা ইতালিয়ানদের দেখিয়ে দিয়েছেন পর্তুগিজ মহাতারকা। ২২ ম্যাচে ১৭ গোল করে এরইমাঝে সিরি আর গোলদাতার তালিকায় শীর্ষে উঠেছেন। গত শনিবার পার্মার বিপক্ষে ৩-৩ ব্যবধানে ড্র করা ম্যাচে জোড়া গোল করে হয়েছেন ত্রাণকর্তাও।
মাঠের বাইরেও ভালো আছেন রোনালদো। ফেসবুক, টুইটার, ইনস্টাগ্রাম; সকল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেই তার সরব উপস্থিতি। কল্যাণে দুনিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তর অর্থনীতির দেশ চায়নাতেও তার ভক্ত-সমর্থক অগণিত।
চায়নাতে ফুটবল সমর্থকদের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছেই। বাড়ছে রোনালদোর ভক্তের পরিমাণও। তাতে ফায়দা পাচ্ছে জুভেন্টাস। গত বছরের চেয়ে ওয়েইবো (টুইটারের মতো আরেকটি সাইট), উইচ্যাট, দোয়েইনে (টিকটকের মতো চাইনিজ সাইট) জুভদের অনুসারী সংখ্যা বেড়েছে ৩ লাখ ৮ হাজার জন!
গত জুলাই থেকে ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়টাতে ওয়েইবোতে অনুসারীর সংখ্যা ৬৮.৫ শতাংশ বেড়েছে বলে জানিয়েছে জুভেন্টাস। বিশেষ করে ডিসেম্বরে, কারণ সে সময়টাতে রোনালদোর বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা করেন মার্কিন এক মডেল।
বিশেষজ্ঞরা চায়নাকে ডাকে ‘আইকন মার্কেট’ হিসেবে। ক্লাবের চেয়ে ব্যক্তির নামের গ্রহণযোগ্যতাই সেখানে বেশি। যেকারণে টানা তিন চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতেও চাইনিজদের মন জিততে পারেনি রিয়াল মাদ্রিদ। তাই রোনালদোর স্পেন ছাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভক্তরাও লস ব্লাঙ্কোসদের দিক থেকে পিঠ টান দিতে একবারও ভাবেননি।
বিষয়টাকে স্বাভাবিকভাবেই গ্রহণ করতে বলছেন জুভেন্টাসের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা জর্জিও রিচ্চি। চাইনিজরা ক্লাবের চেয়ে খেলোয়াড়দের প্রাধান্য দেয় বলে মন্তব্য তার, ‘এটা ফুটবলের বাইরে। চায়নায় রোনালদোর সাফল্য যে খালি মাঠের পারফরম্যান্সের কারণে তা কিন্তু নয়। বছরের পর বছর তার যা অর্জন, ব্যক্তিত্ব, তা চাইনিজদের প্রভাবিত করেছে।’
জুভেন্টাসের জন্য যেটা লাভের, রিয়ালের জন্য তা আবার ক্ষতির কারণ। রোনালদোর চলে যাওয়ায় অনুসারী হারাচ্ছে ইউরোপ সেরা দলটি। যদিও রিয়াল বলছে তারা এই ক্ষতিতে খুব একটা চিন্তায় নেই। কারণ এখনো তারা ইউরোপ সেরা দল!
রিয়ালের উল্টো অবস্থানে আবার বার্সেলোনা। তাদের চাইনিজ ভক্তের সংখ্যা দিনকে দিন বাড়ছেই। কারণ, তাদের যে লিওনেল মেসির মতো একজন ফুটবলার আছেন!








