বিশ্বকাপ শেষ করতেই বেজে ওঠে বিদায়ঘণ্টা। ঢাকায় ফিরে তল্পিতল্পা গুছিয়ে বাংলাদেশের ইংলিশ কোচ স্টিভ রোডস ধরেন লন্ডনের বিমান। বিশ্বকাপে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স নিয়ে ক্রিকেট কর্তাদের মাঝে হতাশা না থাকলেও কোচের আকস্মিক বিদায়ে সবার মাঝেই কৌতুহল; মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই কেন এমন বিচ্ছেদ? বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন বুধবার ধানমন্ডির বেক্সিমকো কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে দিয়েছেন সে প্রশ্নের জবাব।
নাজমুল হাসান জানান, সম্পর্কের ইতি টানার অন্যতম কারণ কালচারাল মিসম্যাচ। সংস্কৃতিগত দিক থেকে চিন্তার জায়গায় যে ভিন্নতা সেটিই বড় হয়ে এসেছে বিশ্বকাপ চলাকালীন কোচের কিছু সিদ্ধান্তে। যা সঠিক ছিল না বলে মনে করেন বিসিবি প্রধান।
‘কোনো কোনো কোচ মনে করেন ক্রিকেট একটা খেলা এটা নিয়ে এত সিরিয়াস হওয়ার কী আছে। আবার কোনো কোনো কোচ আমাদের সময় ছিল তাদের ভাবনা যে করেই হোক জিততে হবে, আমি কিছু জানি না। আবার এমনও আছে, এটা একটা খেলা। জিততেই হবে এমন কোনো বিষয় নেই। এটার মধ্যে একটা পার্থক্য আছে। বিশ্বকাপ শুরুর আগে আমরা ক্রিকেটারদের অনুশীলনের ব্যবস্থা করলাম (লেস্টারে)। সেটি ঐচ্ছিক করে দেয়াতে কেউ আসল না! এটা তো কালচারাল মিসম্যাচ। সে ধরে নিয়েছে প্রত্যেকে নিজ তাগিদেই অনুশীলন করবে। এটা তো আমদের সাথে মেলে না। অপশনাল করে দেয়াতে সবাই যে যার মতো ঘুরে বেরিয়েছে। লাভ তো হলো না। পরে পাঁচ দিনের ছুটি পেয়ে সবাই চলে গেছে বাইরে। এই জিনিসিগুলো ওদের (ইংলিশদের) কালচারে সমস্যা নেই কিন্তু আমাদের কালচারে খাপ খায় না। এসব বসে আলোচনার পর সমঝোতার মাধ্যমেই সিদ্ধান্ত হয়েছে।
পাঁচ দিনের ছুটি নিয়ে অসন্তোষ
ভারত ও পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচের আগে ক্রিকেটারদের পাঁচ দিনের ছুটি দেয়া হয়েছিল। বিসিবি সভাপতির দাবি বোর্ডের কাউকে অবগত না করেই ছুটি দিয়েছেন কোচ। যা হিতে বিপরীত হয়েছে এবং খেলায় তার প্রভাব স্পষ্ট হয়েছে। এ ব্যাপারে নাজমুল হাসান বলেন, ‘ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের আগে পাঁচ দিনের ছুটি, এটা সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল না। আপনি বিশ্রাম দিতে চান দুই, তিন দিন দেন। সেটা ভাল। চোখে-মুখে, চিন্তা-ভাবনায় শুধু খেলাটাই থাকা উচিত ছিল বিশ্বকাপে শেষ দুটি ম্যাচের আগে। এই মনঃসংযোগের ব্রেকটা… এখন পর্যন্ত অত পরিণত হইনি যে আমাদের দল ছুটি পেলেও সব বাদ দিয়ে অনুশীলন করবে, মাথায় রাখবে। সেরকম হয়নি। আমরা উন্নতি যতই করি না কেন আরও অনেক পথ আছে। সবচেয়ে আশ্চর্য ব্যাপার যেটা, সবাইকে বলে রাখি আমি নিজেই জানি না ওরা ছুটিতে। এর আগে এমন কখনও হয়নি। সবারই কিছু কিছু ত্রুটি আছে। এখানে এককভাবে কাউকে দোষ দেওয়া হচ্ছে না। আকরাম ছিল সুজন ছিল ওরাও জানে না। সিদ্ধান্ত হয়ে যাওয়ার পর, ছুটি দেয়ার পর জানলে লাভটা কী!’
রাতের সিদ্ধান্ত সকালে বদল
‘পাকিস্তান ম্যাচের আগের রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত আমি টিম হোটেলে। ওখানে একাদশ নিয়ে পরিকল্পনা হয়েছে। দেখলাম মুশফিকের হাত স্লিংয়ে ঝুলছে। সে হাত নাড়াতেই পারছে না। জানলাম, মুশফিক একাদশে নেই। মাশরাফী আগের দিন থেকেই নেই। অনুশীলন করেনি। দলের মিটিংয়ে সে ছিল না। আমরা একাদশ ঠিক করলাম। কোচ সেখানে ছিল। সবাই ছিল। মাঠে গিয়ে দেখি অন্য টিম নেমেছে। এমন তো আগে কখনও হয়নি। নিঃসন্দেহে সমস্যা ছিল। আমরা ভেবেছি এভাবে হবে না। আমরা বলছি না সে (রোডস) খারাপ। সে অনেক ভালো কিন্তু আমরা যেভাবে চিন্তা করি তাতে চিন্তার একটা পার্থক্য চলে এসেছিল।








