রাজধানীর আদাবর থানা আওয়ামী মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক রোজি জয়তীসহ ৭ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ভাংচুর ও লুটপাটের মামলা করেছে এক টেইলার্স মালিক। তবে রোজি দাবি করেছে সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর নির্বাচন না মেনে জামায়াতের নির্বাচিত প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্বাচনী মামলা করায় জামায়াত শিবির ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে এ মামলা করেছে।পুলিশ মামলার কথা স্বীকার করে জানিয়েছে তদন্ত চলছে, দোষীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।
শ্যামলী হাউজিং দ্বিতীয় প্রকল্পের ৩ নাম্বার রোডের টেইলার্স মালিক রুবিয়া ইয়াসমিন নিজেই মামলার বাদি। তিনি চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন: আমার টেইলার্সের একজন মহিলাকর্মীকে মারধরের ঘটনায় তিনি সোচ্চার হলে স্থানীয় মহিলা লীগের কর্মীরা তাকে মারধর করে। এর জের ধরে আমার স্বামীর সঙ্গে তাদের এক কর্মী পরকীয়ায় জড়ায়।শুরু হয় আমার সংসারে অশান্তি।চলতি মাসের দুই তারিখে মহিলা লীগের কর্মীরা আমার টেইলার্সে হামলা করে, আমায় মারধর করে এবং দোকান লুটপাট করে।
তবে রুবিয়া ইয়াসমিনের কথার সঙ্গে আদাবর থানা আওয়ামী মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক রোজি জয়তীর কথার কোনো মিল খুঁজে পাওয়া যায় নি। তিনি চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন: আমি অনেক বছর ধরেই রাজনীতি করছি, আমার এলাকার লোকজন কিংবা আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কেউ এই রকম চাঁদাবাজি, লুটের কথা বলতে পারবে না। আমার নামে যে মামলা হয়েছে তার তদন্ত পুলিশ করছে, তারা তদন্ত করে বের করুক কে দোষী। এরপর আমি আইনি ব্যবস্থায় যাবো, মানহানির মামলা করব।
মামলার বাদি রুবিয়া ইয়াসমিন আরো বলেন: বর্তমানে তিনি টেইলার্স খুলতে পারছেন না ও বাড়িতে থাকতে পারছেন না, মহিলা লীগের কর্মীরা তাকে মারার হুমকি দিচ্ছে।
রুবিয়াকে মারার হুমকি দেওয়া হচ্ছে জানতে চাইলে রোজি বলেন: এলাকায় আমাকেও সবাই চিনে রুবিয়াকেও সবাই চেনে। রুবিয়ার এখন পর্যন্ত তিনটি বিয়ে হয়েছে, তার টেইলার্সের কর্মীর ঝামেলার মূল বিষয় ছিল পরকীয়া, এসব ঝামেলা পুলিশের কাছে যাওয়ার আগে আমরা এলাকা থেকে সমঝোতা করতে চেয়েছিলাম। এক পর্যায়ে তার সঙ্গে আমার কর্মীদের বাকবিতণ্ডা হয়েছে। এক পর্যায়ে সে আমি তার বাসার মালিককে জানাই যে রুবিয়াকে বাসা ছেড়ে দিতে বলেন।
টেইলার্স মালিক রুবিয়া ইয়াসমিনের সঙ্গে এমন কি ঘটেছিল যার কারণে মামলা সম্মুখীন হতে হয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে রোজি জয়তী চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন: আমি আওয়ামী রাজনীতির পাশাপাশি এলাকার জণগণের উন্নয়ন করার লক্ষ্যে এলাকার ২৯, ৩০, ৩২ তিন ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা আসনে কাউন্সিলর নির্বাচনে অংশগ্রহন করি। যদিও আমি নির্বাচিত হতে পারি নি, যিনি নির্বাচিত হন তিনি মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল আলী হাসান মুজাহিদীর আপন ছোটভাই ও জায়ের এর শ্যালকের বউ কাওসার জাহান।
আমি কাউন্সিলর নির্বাচনের রায় না মেনে তার নামে নির্বাচনী মামলা করি। এখান থেকেই মূলত আমার সঙ্গে কাওসার জাহানের দ্বন্দ্ব শুরু।এই টেইলার্স মালিক কাওসার জাহানের কর্মী, তারা জামায়াতের একচ্ছত্র আধিপত্য শুরু করেছে এলাকায়, তাদের সকল প্রকার সাহায্য করছে আদাবরের ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের হাসু কমিশনার।
মামলার বাদি রুবিয়া ইয়াসমিন অভিযোগ করে বলেন, আদাবর থানা আমার মামলা নেয়নি, থানার ওসিসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা আমাকে তাদের সঙ্গে আপোস করে মীমাংসা করতে বলে। এক পর্যায়ে আমি কোটে রোজি সহ ৭ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ভাংচুর ও লুটপাটের মামলা করি।
পরে কোট তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করলে আদাবর থানা পুলিশ তিনজন কে গ্রেফতার করে। কিন্তু গভীর রাতে পুলিশ আসামীদেরে ছেড়ে দেয়।
তবে মামলার বাদি রুবিয়ার কথা অস্বীকার করে আদাবর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) শেখ শাহিনূর রহমান চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন: মামলার কোনো আসামীকে গ্রেফতারই করা হয়নি, আর ছেড়ে দেওয়াতো পরের কথা। মামলা হয়েছে আমরা তদন্ত করছি। তদন্ত শেষে দোষীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।








