বার্নব্যুতে ম্যাচ শুরুর আগে অনুশীলনে হেডফোন কানে নেইমার সংগীতের তালেই পা মেলাচ্ছিলেন। আর ম্যাচ শেষে মাঠ ছাড়েন মাথা নিঁচু করে। যদিও তখন হেসেছেন। তবে সে হাসি উদ্ভ্রান্তের। সাধারণত যেভাবে দেখা যায় তাকে, ঠিক সেই নেইমারকে পাওয়া যায়নি সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর ম্যাচ শেষে। চেহারায় মিশে ছিল স্বপ্ন ভঙ্গের বেদনা।
যেই রিয়াল মাদ্রিদ ও তাকে জড়িয়ে শোনা যাচ্ছিল কানাঘুষা, সেই রিয়ালই প্রায় অর্ধেক ভেঙে দিয়েছে তার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ স্বপ্ন। তাতে কী লস ব্লাঙ্কোসদের জার্সি গায়ে চাপানোর স্বপ্নটাও চাপা পড়ল না ব্রাজিলিয়ান ওয়ান্ডার কিডের!
ম্যাচের শুরুতে এক সম্ভাবনাময় নেইমারের চেহারাই হয়তো দেখেছিলেন রিয়াল সভাপতি ফ্লোরেন্টিনো পেরেজ। আদ্রিয়ান রাবিওতের গোলটাতে যেভাবে ব্যাকহিল করেন,তা যেন সম্ভাব্য এক ইউরোপজয়ী তারকারই প্রতিফলন।
কিন্তু নেইমারকে মেনে নিতে রিয়াল সমর্থকদের যেন বয়েই গেছে! পিএসজির ব্রাজিলিয়ান তারকার পায়ে যতবারই বল গেছে, সমর্থনের বদলে দুয়োই জুটেছে তার কপালে। অথচ ম্যাচে নিজেকে পরিবর্তন করে যতটা সম্ভব শান্ত থাকারই চেষ্টায় ছিলেন নেইমার।
ফ্লোরেন্টিনো পেরেজের আমলেই যদি রিয়ালের তারকার হাটে নিজের নাম লেখানোর পরিকল্পনা থাকে নেইমারের, বুধবার ৩-১ গোলে হারের পর সেই পরিকল্পনায় যে অনেকখানি ছেদ পড়েছে তা প্রায় নিশ্চিত।
অনেকেই বিশ্বাস করেন ২০১৯ সালেই হয়তো রিয়ালে পাড়ি জমাবেন নেইমার। কিন্তু পিএসজির কাতারি মালিক এত সহজেই যে তার ব্রাজিলিয়ান সম্পদকে লস ব্লাঙ্কোসদের হাতে ছেড়ে দেবেন তারও নমুনা খুব একটা পাওয়া যাচ্ছে না। পিএসজি মালিক নাসের আল-খেলাফির রোনালদো ‘প্রীতি’ থাকলেও তা আলোর মুখ না দেখারই সম্ভাবনা বেশি।
এতদিন বাতাসে গুঞ্জণ ছিল, রিয়াল মাদ্রিদের চোখে নেইমার তাদের ভবিষ্যতের তারকা। কিন্তু এখন শোনা যাচ্ছে, মাঠের বাইরে ‘পার্টিবাজ’ এক খেলোয়াড়ের হাতে দলের আক্রমণভাগের দায়িত্ব তুলে দেবেন কিনা তা নিয়ে ভাবতে শুরু করেছেন রিয়াল সভাপতি!








