সম্প্রতি জিপি হাউজে অনুষ্ঠিত গ্রামীণফোনের আয়োজনে প্রথমবারের মত অনুষ্ঠিত স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র উৎসবের বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী দলের মধ্যে ‘নোয়া: দ্য স্কাই অব হোপ’-এর ‘প্রতিশোধ’ চলচ্চিত্রটি প্রথম পুরস্কার জিতে নেয়। উৎসবে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকার করে যথাক্রমে থ্রি ফিল্মসের ‘আগন্তুক’, এবং অঙ্কুর ক্রিয়েশনের ‘সাহেব বিবি’।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ড. মোহাম্মদ হাছান মাহমুদ এমপি। অতিথিদের মাঝে আরও উপস্থিত ছিলেন সুপরিচিত মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ইরেশ যাকের এবং আশফাক নিপুণ।
সম্ভাবনাময় চলচ্চিত্র নির্মাতাদের কাজ দর্শকদের সামনে তুলে ধরার সুযোগ করে দিতে এবং দেশবরেণ্য চলচ্চিত্র নির্মাতাদের কাছ থেকে সরাসরি প্রশিক্ষণ গ্রহণের মাধ্যমে তাদের দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ করে দেয়ার লক্ষেই ‘রিল হান্ট’ শিরোনামে এই উদ্যোগ গ্রহণ করে গ্রামীণফোনের ডিজিটাল প্লাটফর্ম ‘হোয়াইটবোর্ড’।
উচ্চাকাঙ্ক্ষী চলচ্চিত্র নির্মাতাদের প্রশিক্ষণ, মেন্টরিং, গ্রুমিং ও তাদের নির্মিত কাজ উপযুক্ত প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দর্শকদের কাছে ছড়িয়ে দেয়ার সমন্বিত সুযোগ করে দিতেই এমন আয়োজন।
প্রতিযোগীতার শুরুতে দল নিবন্ধনের জন্যে বরাদ্দ ১০ দিন সময়সীমার মাঝেই ৬৭৪টি দল তাদের এসাইনমেন্ট জমা দেয়ার মাধ্যমে প্রতিযোগীতায় অংশগ্রহণ করে। কঠিন বাছাই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে বেছে নেয়া হয় ‘বায়োস্কোপ’ প্ল্যাটফর্মের উপযোগী ৩৫টি কন্টেন্ট। নির্বাচিত দলগুলোকে ২০ এপ্রিল সারা দিনব্যাপী আয়োজিত চলচ্চিত্র নির্মাণবিষয়ক বুটক্যাম্পে যোগদানের জন্যে আহবান জানানো হয়। এতে প্রশিক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দেশবরেণ্য চলচ্চিত্র নির্মাতা গাউসুল আলম শাওন, আশফাক নিপুণ ও রাহাত রহমান।
নির্বাচিত ৩৫ জন অংশগ্রহণকারী ছাড়াও তাদের পুরো দলকেই বিশেষ প্রশিক্ষণ দেয়া হয় এই বুটক্যাম্পে। প্রতিযোগীতার চূড়ান্ত পর্বের অংশ হিসেবে ২৯ ও ৩০ এপ্রিল সবগুলো দল তাদের নির্মিত চলচ্চিত্র বিচারকদের সামনে উপস্থাপন করে।
এই আয়োজন উপলক্ষে তথ্যমন্ত্রী ড. মোহাম্মদ হাসান মাহমুদ এমপি বলেন, বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক মূল্যবোধকে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেয়ার প্রত্যয়ে দেশের বিনোদন শিল্পে স্থান করে নিচ্ছে নতুন প্রতিভাসম্পন্ন নির্মাতারা। ‘রিল হান্ট’ এর মতো একটি প্ল্যাটফর্ম এই নতুন নির্মাতারা বেড়ে উঠতে সহায়তা করার পাশাপাশি সামগ্রিকভাবে পুরো ইন্ডাস্ট্রিকেই ধাবিত করবে এক নতুন ভবিষ্যতের দিকে।
গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী মাইকেল ফোলি বলেন, দেশের প্রতিটি খাতে স্থানীয় তরুণ প্রতিভারা শুধুমাত্র জাতীয় পর্যায়েই সুনাম অর্জন করছে না, বরং বিশ্বমঞ্চেও আলো ছড়াচ্ছে। গ্রামীণফোন আন্তরিকতার সাথে এই তরুণদের মধ্যে থেকে তাদের সেরাটা বের করে আনতে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করে এবং তাদের কাজকে প্রচার করতে সহায়তা করে। ‘রিল হান্ট’ এমনই এক উদ্যোগ যার মাধ্যমে দেশের সেরা সম্ভাবনাময় চলচ্চিত্র নির্মাতাদের খুঁজে বের করবে গ্রামীণফোন। আমি বিজয়ীদের পাশাপাশি সকল অংশগ্রহণকারীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করছি।
গ্রামীণফোণের ডেপুটি সিইও ও সিএমও ইয়াসির আজমান বলেন, খরচ ও সরঞ্জামের সহজলভ্যতা বিবেচনায় চলচ্চিত্র নির্মাণ শৈলী ডিজিটাল মাধ্যমে রূপান্তরিত হওয়ায় এটি চলচ্চিত্র নির্মাণে খুবই সহায়ক একটি মাধ্যম। সৃজনশীল কাজসমূহ প্রচারের জন্যেও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলো এক অবিচ্ছেদ্য মাধ্যমে পরিণত হয়েছে। ‘রিল হান্ট’ আয়োজনের মাধ্যমে আমরা এই নতুন প্রতিভাবান চলচ্চিত্র নির্মাতাদের কাজগুলোকে সমগ্র দেশবাসীর সামনে তুলে ধরতে চাই।
প্রতিযোগীতায় প্রথমস্থান অর্জনকারী দল পুরষ্কার হিসেবে পাবে ১লক্ষ টাকা ও দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারী দলগুলো পাবে যথাক্রমে ৭৫ হাজার ও ৫০ হাজার টাকা। এছাড়া বিজয়ী তিনটি দলের চলচ্চিত্র প্রচার করবে জনপ্রিয় ভিডিও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম ‘বায়োস্কোপ’।







