ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে দুই তরুণকে রাস্তার ধারে মূত্রত্যাগে বাধা দেয়ায় মরতে হলো এক ই-রিক্সা (অটোরিক্সা) চালককে। ইউনিয়নমন্ত্রী এম ভেনকায়াহ নাইড়ু এ ঘটনাকে ‘দুঃখজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন।
এনডিটিভি জানায়, শনিবার রবীন্দ্র কুমার নামের ৩৪ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি উত্তর দিল্লির মুখার্জি নগরের একটি মেট্রো স্টেশনের পাশের রাস্তায় তার ই-রিক্সা স্ট্যান্ডের কাছেই দুই তরুণকে মূত্রত্যাগ করতে দেখেন। তাদেরকে বাধা দিয়ে রাস্তায় মূত্রত্যাগের প্রতিবাদ করলে ক্ষেপে ওঠে ওই দুই তরুণ। রাগারাগির এক পর্যায়ে ওই স্থান থেকে চলে যায় তারা।
তবে কয়েক ঘণ্টা পর আরও লোকজন নিয়ে ফিরে আসে ওই দুই তরুণ। তারা সবাই মিলে রবীন্দ্রকে ধাতব রড এবং তোয়ালেতে পাথর ভরে টানা ২০ মিনিট পিটিয়ে রাস্তায় ফেলে রেখে চলে যায়। শনিবার স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঘটা এ ঘটনার সময় তাকে কেউ বাঁচাতে এগিয়ে আসেনি।
মার খাওয়ার পর রবীন্দ্র নিজেই বাসায় ফিরে যান বলে জানান তার ভাই বিজেন্দ্র কুমার। তার গায়ে গুরুতর আঘাতের কোনো চিহ্ন না থাকায় ডাক্তারও দেখাননি তিনি। কিন্তু রাতেই রবীন্দ্র অজ্ঞান হয়ে পড়েন। তাড়াহুড়ো করে তখন হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ইউনিয়নমন্ত্রী নাইড়ু বলেন, ই-রিক্সা চালক রবীন্দ্র সরকারের ‘স্বচ্ছ ভারত’ প্রকল্পের পক্ষে কাজ করছিলেন। এ ঘটনায় অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোরতম ব্যবস্থা নিতে দিল্লি পুলিশ কমিশনারকে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে। পুলিশের ডেপুটি কমিশনার মিলিন্দ মাহাদেও দুমবেরে বার্তা সংস্থা ইয়ানস’কে জানিয়েছেন, অপরাধীদের সনাক্ত করার জন্য ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, ১২ থেকে ১৩ জন তরুণ ওই ঘটনায় জড়িত ছিল।










