বাসের চাপায় পা হারানো রাসেল সরকারকে আরো ৫ লাখ টাকার চেক দিয়েছে গ্রিন লাইন বাস কর্তৃপক্ষ। সোমবার বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চে উপস্থিত রাসেল সরকারের হাতে এ চেক তুলে দেন গ্রিন লাইনের আইনজীবী।
এসময় আদালতে রাসেলের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. জহিরুদ্দিন লিমন ও আইনজীবী সরদার জাকির হোসেন। গ্রিন লাইনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী পলাশ চন্দ্র রায়। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাসার।
গত ১২ মার্চ হাইকোর্ট পা হারানো প্রাইভেটকার চালক রাসেলকে ৫০ লাখ টাকা দিতে নির্দেশ দেন। সেই সাথে গ্রিন লাইন পরিবহন কর্তৃপক্ষকে রাসেলের চিকিৎসার জন্য যা খরচ তা দিতে বলা হয়।
এরপর গত ১০ এপ্রিল রাসেল সরকারের হাতে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৫ লাখ টাকার চেক তুলে দেয় গ্রিন লাইন বাস কর্তৃপক্ষ। আর রাসেলের চিকিৎসা বাবদ আরো সাড়ে তিন লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে বলে আদালতকে জানায় গ্রিন লাইনের আইনজীবী।
পরবর্তীতে হাইকোর্ট রাসেকে প্রতি মাসে ৫ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণের বাকি ৪৫ লাখ টাকা কিস্তি দিতে নির্দেশ দেন। প্রতি মাসের ৭ তারিখের মধ্যে রাসেলকে টাকা দিয়ে ১৫ তারিখের মধ্যে তা আদালতকে জানাতে বলা হয়। সে অনুযায়ী বাকি ৪৫ লাখ টাকার প্রথম কিস্তির ৫ লাখ টাকা আজ রাসেলকে দিল গ্রিন লাইন।
২০১৯ সালের ২৮ এপ্রিল যাত্রাবাড়িতে মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারে গ্রিন লাইন পরিবহনের বাসের চাপায় এক যুবকের বাম পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ওই যুবককে চাপা দেওয়ার পর গ্রিন লাইন পরিবহনের বাসটি এবং তার চালককে পুলিশ আটক করে।
পরে পুলিশ জানায়, মো. রাসেল (২৫) নামের ওই যুবক একটি প্রাইভেট কার চালাচ্ছিলেন। বাসটি তার গাড়িকে ধাক্কা দিলে প্রতিবাদ জানাতে বাস থামাতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু বাস চালক তার ওপর দিয়েই বাস চালিয়ে দেন। এতে রাসেলের বাম পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
গাইবান্ধার পলাশবাড়ির বাসিন্দা রাসেল রাজধানীর আদাবর এলাকার সুনিবিড় হাউজিংয়ে বাস করতেন এবং স্থানীয় একটি ‘রেন্ট-এ-কার’প্রতিষ্ঠানের প্রাইভেট কার চালাতেন। রাসেলের পা হারানোর ঘটনার পর গত বছরের ১৪ মে ক্ষতিপূরণ চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী উম্মে কুলসুম। সেই রিটের শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট ক্ষতিপূরণের রুলসহ আদেশ দেন।







