দশ বিশিষ্ট নাগরিককে জঙ্গি সংগঠন আল-কায়েদার সহযোগী আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের দেয়া হত্যার হুমকিকে একাত্তরে উত্থান হওয়া মৌলবাদী কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতা হিসেবেই দেখছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক।
শুক্রবার চ্যানেল আই অনলাইনকে তিনি বলেন, তার কাছে হত্যার হুমকি নতুন কিছু নয়। তিনি মনে করেন, শক্ত হাতে এই মৌলবাদকে দমন করতে হবে। কারণ মৌলবাদিরা এ ধরণের হুমকি একটি বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়েই দিয়ে থাকে। সেই উদ্দেশ্য হল প্রগতিশীলতার বিরোধিতা করে ধর্মকে পুঁজি করে সমাজে একটা বিশৃঙ্খলা তৈরি করা।
ফলে তাদের এই উদ্দেশ্য যেনো সফল না হয় সেজন্য সরকারকে কঠোর হাতে মৌলবাদকে দমন করতে হবে। রাষ্ট্রকেই এই নাগরিকদের নিরাপত্তা দিতে হবে এবং যারা হত্যা করছে, হত্যার হুমকি দিচ্ছে তাদের খুঁজে বের করে কঠোর শাস্তির আওতায় আনতে হবে।
একাত্তরের মৌলবাদি চক্র নতুন করে মাথা চাড়া দিয়ে উঠেনি উল্লেখ করে আরেফিন সিদ্দিক বলেন, একাত্তরে এরা বুদ্ধিজীবীদের ধরে ধরে হত্যা করেছে, একাত্তরের পরেও জাতীয় মেধার উপরে কয়েক দফায় আঘাত হেনেছে এই মৌলবাদি শক্তি। ফলে বাংলাদেশে তা নতুন কিছু নয়। দেশ এবং দেশের স্বাধীনতার এই শত্রুরা সবসময়ই দেশের ক্ষতি করার চেষ্টা করছে।
সাম্প্রতিক সময়ে ব্লগারদের হত্যাকে সেই একাত্তরে বুদ্ধিজীবী হত্যার সামিল উল্লেখ করে তিনি বলেন বর্তমান সরকার চেষ্টা করছে কঠোর হাতে এই মৌলবাদি গোষ্ঠীকে দমন করার। তারই ধারাবাহিকতায় যুদ্ধাপরীদের বিচার হচ্ছে। তিনি আরোও উল্লেখ করেন বর্তমান সরকারই শুধু চেষ্টা করে মৌলবাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে।
এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, অধ্যাপক মুহাম্মদ জাফর ইকবাল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক কাবেরি গায়েনসহ দশজন বিশিষ্ট নাগরিককে হত্যার হুমকি দিয়ে চিঠি পাঠায় আনসারুল্লাহ বাংলা টিম; ১৩ নামের একটি জঙ্গি সংগঠন।
ওই চিঠিতে লেখা রয়েছে ‘মাস্ট উইল প্রিপেয়ার ফর ডেড’। সেখানে ধারাবাহিকভাবে ১০ বিশিষ্ট ব্যক্তির নাম এবং প্রত্যেকের নামের সঙ্গে কিছু লেখা রয়েছে। চিঠিতে আরো কয়েকজনের নাম রয়েছে তারা হলেন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, নাট্য ব্যক্তিত্ব তারানা হালিম, জগন্নাথ হলের প্রভোস্ট ড. অসীম সরকার, ডা. ইমরান এইচ সরকার, বিকাশ সাহা, সরকার দলীয় এমপি ইকবালুর রহিম, পলন সুতার এবং অধ্যাপক মুহাম্মদ জাফর ইকবাল।







