সফলভাবে প্রথম পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন শেষ করেছে রাশিয়ার প্রথম পঞ্চম প্রজন্মের ফাইটার সুখোই-৫৭। ফাইটারটিকে আরও যুগোপযোগী করতে এতে নতুন প্রজন্মের ইঞ্জিন যুক্ত করা হয়েছে বলে রাশিয়ান সংবাদ মাধ্যম টাসকে জানিয়েছেন দেশটির শ্রম ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র।
নতুন ইঞ্জিন সংযোজনের পর ১৭ মিনিট সফলতার সঙ্গেই উড়েছে সুখোই-৫৭ বলে জানিয়েছেন সুখোই এয়ারক্রাফটের প্রধান টেস্ট পাইলট সার্গেই বোগদান।
২০১০সালের ২৯ জানুয়ারি অনানুষ্ঠানিক উড্ডয়নের পর সামরিক বাজারে বেশ আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল সুখোই-৫৭। প্রাথমিক অবস্থায় ফাইটারটির প্রোটোটাইপের নাম ছিল সুখোই পিএকে টি-৫০। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে দুই মডেলের পঞ্চম প্রজন্মের ফাইটার তাদের বিমান বহরে যুক্ত করলেও রাশিয়া বেশ যত্নের সঙ্গেই তাদের বিমানটিকে আড়ালে রেখেছে। ৫ ডিসেম্বর প্রথম আনুষ্ঠানিক উড্ডয়নের পর ২০১৯ সালে বিমানটির বানিজ্যিকীকরণ শুরু হবে বলে আশা করছে রাশিয়া।
পঞ্চম প্রজন্মের বিমানের প্রধান বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এর স্টিলথ প্রযুক্তি বা রাডার ফাঁকি দেওয়ার ক্ষমতা। স্টিলথ ফাইটারগুলোতে এক ধরনের বিশেষ রঙ বা পেইন্ট ব্যবহার করা হয় যা রাডার থেকে ছুঁড়ে দেওয়া শব্দ তরঙ্গকে আর রাডারে ফেরত আসতে দেয় না। ফলে রাডারের পক্ষে ফাইটারকে শনাক্ত করা সম্ভব হয় না।

সুখোই-৫৭ ফাইটারের ককপিটে ব্যবহার করা হয়েছে এনএসটি এসআইভি প্রযুক্তির হেলমেট। তাতে বৈমানিককে জয়স্টিক ব্যবহার ছাড়াই কেবল মাত্র দৃষ্টিশক্তি এবং চিন্তার দ্বারা শত্রু বিমান শনাক্ত ও ধ্বংস করা সম্ভব।
ফাইটারটিতে থাকছে একটি ৩০ মিলিমিটার গ্রায়াযেভ-শিপুনোভ ক্যানন। থাকছে ৪টি আরভিভি ও ২টি আর৭৩ এয়ার-টু-এয়ার মিসাইল। ভূমিতে নিক্ষেপনযোগ্য ৪টি কেএইচ৩৮ মিসাইল বহন করতে পারবে এটি। থাকছে ২টি জাহাজ বিধ্বংসী মিসাইল। ৪টি এন্টি-রেডিয়েশন মিসাইলও থাকবে বিমানটিতে।
অতীতের সুখোই বিমানগুলোর মতই সুখোই-৫৭কে এয়ার সুপিরিয়র হিসেবেই গড়ে তোলা হয়েছে, অর্থাৎ এয়ার টু এয়ার যুদ্ধে অন্য বিমানগুলোর তুলনায় এগিয়ে থাকবে সুখোই-৫৭।
সামরিক বাজারে আসার আগেই ফাইটারটিকে কমতি নেই আগ্রহের। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র শক্তি সাউথ কোরিয়া ইতিমধ্যে আগ্রহ দেখিয়েছে বিমানটিকে তাদের বহরে যুক্ত করার। আর ভারত তো আগে থেকেই যুক্ত বিমানটির তহবিলকরণে। ২০২১ সালের মধ্যে সুখোই-৫৭ যুক্ত হতে পারে ভারত বিমান বাহিনীর বহরে।








