পুলিশের আইজিপি এ কে শহীদুল হক এর আগে একবার বলেছিলেন, পুলিশ ঘুষ খেতে চাইলে যেন তাকে বেঁধে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। আবার সেই আইজিপিই ব্যাংক কর্মকর্তা রাব্বীকে আটক-নির্যাতন ও পুলিশের ঘুষ চাওয়ার ঘটনায় বলেছেন, তল্লাশিতে সহযোগিতা না করে ফৌজদারি অপরাধ করেছেন রাব্বী।
একই বিষয় নিয়ে পুলিশ বাহিনীর প্রধানের দুই মন্তব্যে পুলিশের প্রতি জনগণের আস্থা আরো বেশি নষ্ট হবে বলেই মনে করছেন বিশিষ্টজনেরা।
সাবেক আইনমন্ত্রী ও বার কাউন্সিলের সাবেক সভাপতি শফিক আহমেদ বলেন, আইজিপি যে বললেন ঘুষ চাইলে বেধে রেখে পুলিশে দেওয়ার কথা। সেটা কি সম্ভব? তারা যখন এসব অপরাধ করে সেটা নিশ্চয়ই তারা জনাকীর্ণ এলাকায় করে না। নির্জন এলাকায় করে। একজনকে যখন তল্লাশি করা হচ্ছে তখন সাধারণ মানুষ ক’জন থাকে যে এর প্রতিবাদ করবে? সেটার কথা বাদ দিলে তল্লাশি করারও তো কিছু নিয়ম কানুন আছে। রাস্তায় দাঁড়িয়ে যে কাউকেই কিন্তু তল্লাশি করা যায় না। যদি তার গতিবিধি সন্দেহজনক হয় তাহলেই তাকে তল্লাশি করা যায়। আর সে যখন তাকে প্রমাণ করেছে যে ব্যাংকের কর্মকর্তা তখন তো ছেড়ে দেওয়ার কথা ছিলো সেটা কেন করা হলো না। তাকে কেন মারধর করা হলো। সব মিলিয়ে আইজিপির এমন মন্তব্য জনগণের মনে পুলিশ নিয়ে আরো ভুল ধারণাই তৈরি করবে।
একই কথা বললেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হাফিজুর রহমান কার্জন। তার মতে, এটা আইজিপির দায়িত্বহীনতার পরিচয়। তার বক্তব্যই সাংঘর্ষিক। আর আমাদের আইজিপি সাহেবের এমন বক্তব্যতো আর এবারই প্রথম নয় এর আগেও এমন অনেক মন্তব্য করেছেন তিনি। এর মাধ্যমে শুধু নিজের অবস্থানই নয় এই বাহিনীর উপর দেশের মানুষের আস্থাও হারাচ্ছেন। এটা আইজিপির দায়িত্বহীনতারই পরিচয়। তাই এই ঘটনার পর তার হয় নিজেরই পদত্যাগ করা উচিত নয় জনগণের উচিত তাকে পদত্যাগে বাধ্য করা।
পুলিশের কর্মকাণ্ড এদেশে অনেকটাই প্রশ্নবিদ্ধ। তাদের ভাবমূর্তিও প্রায় নষ্টই। তার উপর এমন একটি ঘটনা নিয়ে পুলিশের আইজিপির এমন মন্তব্য জনগণের মনে মিশ্র বার্তা প্রদান করবে বলেই মনে করেন সুজন (সুশাসনের জন্য নাগরিক) সম্পাদক বদিউল আজম মজুমদার।
তার মতে, দেশের বাইরে মানুষ নিজেকে কোনো ধরনের ক্ষতির হাত থেকে বাঁচাতে পুলিশের আশ্রয় নেয়। আমরা কিন্তু সেই আশা করিনা। আমরা জানিই তাহলে আরো বেশি হয়রানির শিকার হতে হবে। আইজিপি প্রথমে যে কথাটি বলেছিলেন সেটা জনগণকে সমর্থন দেওয়া হয়। কিন্তু রাব্বির ঘটনার পর তিনি আবার পুলিশকেই সমর্থন দেখান। এখন প্রশ্ন হচ্ছে তিনি কার পক্ষে থাকবেন? সহকর্মীদের নাকি জনগণের। তার মানসিকতা সবসময় এমন হওয়া উচিত যেন তিনি জনগণের পক্ষেরই লোক।
আইনশৃঙ্ক্ষলা রক্ষাকারী বাহিনী সবসময় জনগণের পক্ষেই থাকবে। তারা দুষ্টের দমন করবে আর শিষ্টের পালন করবে এটাই জনগণের প্রত্যাশা। কিন্তু সেটা যদ না হয় তাহলে জনগণ হতাশ তো হবেই।
বাসা ভাড়া দিতে গত ৯ জানুয়ারি রাত ১১টার দিকে এটিএম বুথ থেকে টাকা তুলে বাসায় ফিরছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সাবেক ছাত্র গোলাম রাব্বানী ওরফে রাব্বী। তিনি একজন গণমাধ্যমকর্মীও।
পথেই পুলিশ তাকে তল্লাশীর নামে নির্যাতন করে। শারিরীক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে টাকা দাবি করে । টাকা না দিলে তাকে ক্রসফায়ারে দেওয়ার হুঁমকিও দেয়। এরপরেই সেই ঘটনায় সারা দেশে শুরু হয় তোলপাড়।
তবে আটকের কথা শিকার করলেও রাব্বানীকে নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করেন এএসআই মাসুদ শিকদার। মাসুদকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।






