সুব্রত গাইন : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) স্থগিত হওয়া দশম সমাবর্তন আগামী মার্চ মাসে আয়োজন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এরইমধ্যে সমাবর্তনের আয়োজন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
যেসকল গ্রাজুয়েট আগে নিবন্ধন করতে পারেননি, তারা নিবন্ধন করতে পারবেন। ২৩ জানুয়ারি থেকে নিবন্ধন শুরু হয়ে তা চলবে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত।
সমাবর্তনের বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুস সোবহান বলেন, সমাবর্তন মার্চে হবে এটা আমরা নিশ্চিত করতে পারছি না, তবে আমরা মার্চে সমাবর্তন করার জন্য সময় চেয়ে আবেদন করেছি। এখন বাকিটা রাষ্ট্রপতি দফতরের উপর নির্ভর করছে।
সমাবর্তনে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হলে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ৩ হাজার ৫৭০ টাকা অনলাইনে জমা দিতে হবে। ইতোমধ্যে যারা নিবন্ধন করেছেন তাঁদের আর নতুন করে নিবন্ধন করতে হবে না। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ওয়েব সাইটে (www.ru.ac.bd) বিস্তারিত পাওয়া যাবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দফতরের প্রশাসক অধ্যাপক প্রভাষ কুমার কর্মকার বলেন, দশম সমাবর্তনের সকল প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য ও মহামান্য রাষ্ট্রপতি সমাবর্তনে অংশগ্রহণের তারিখ নিশ্চিত করলেই সেই অনুযায়ী সমাবর্তনের বক্তা নির্ধারণ করা হবে।
অধ্যাপক প্রভাষ কুমার আরও জানান, যারা ২০১১ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত সময়ে পিএইচডি, এমফিল, স্নাতকোত্তর এবং এমবিবিএস, বিডিএস ও ডিভিএম ডিগ্রি অর্জন করেছেন তারাই এই সমাবর্তনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন।
২০১৬ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দশম সমাবর্তন আয়োজন করার প্রক্রিয়া শুরু করেছিল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ওই বছরের ৩ নভেম্বর থেকে ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত নিবন্ধন প্রক্রিয়া চলে। সমাবর্তনে অংশগ্রহণ করার জন্য ২০১১ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত সময়ে পিএইচডি, এমফিল, স্নাতকোত্তর এবং এমবিবিএস, বিডিএস ও ডিভিএম ডিগ্রি অর্জনকারী প্রায় পাঁচ হাজার শিক্ষার্থী নিবন্ধন করেন। সমাবর্তনের জন্য ২০১৬ সালের ২৪ ডিসেম্বর সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা করা হয়েছিল।
সাবেক উপ-উপাচার্য অধ্যাপক চৌধুরী সারওয়ার জাহানকে আহ্বায়ক করে সমাবর্তন প্রস্তুতি কমিটি গঠনও করা হয়েছিল। পরে সমাবর্তনের বক্তা নির্ধারণ ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে তা স্থগিত করা হয়।
গত বছরের মার্চে উপাচার্য অধ্যাপক মুহাম্মদ মিজানউদ্দিন ও উপ-উপাচার্য অধ্যাপক চৌধুরী সারওয়ার জাহানের মেয়াদে শেষ হলে সমাবর্তনের সকল কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় দুই মাস বিশ্ববিদ্যালয় অভিভাবক শূন্য থাকার পর গত ৭ মে উপাচার্য হিসেবে অধ্যাপক আব্দুস সোবহান নিয়োগ পান।
সবশেষ ২০১৫ সালের ১৮ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের নবম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এতে ২০০৬ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত স্নাতকোত্তর, এমবিবিএস, বিডিএস, এমফিল ও পিএইচডি কোর্সের ৪ হাজার ৭৭১ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছিল।










