রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক সম্মান প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা শুরু হচ্ছে সোমবার। ভর্তি পরীক্ষার সকল কার্যক্রম ইতোমধ্যে সম্পন্ন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
এছাড়াও ইতোমধ্যে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে ক্যাম্পাসে আসতে শুরু করেছে ভর্তিচ্ছুরা। তবে ভর্তিচ্ছুদের মধ্যে সংশয় দেখা গেছে ভর্তি জালিয়াতি নিয়ে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সব ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা রোধ করতে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানা গেছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা নেয়া এবং পরীক্ষায় মেধাক্রম অনুযায়ী সকল ভর্তি কার্যক্রম স্বচ্ছ। এতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা নেই।
‘‘এ নিয়ে ভর্তিচ্ছু এবং অভিভাবকদের উদ্বেগের কোনো কারণ নেই। পরীক্ষা এবং ভর্তিতে যেকোনো ধরনের জালিয়াতি ঠেকাতে কঠোর অবস্থানে থাকবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনসহ সকল আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
জালিয়াতি ঠেকাতে পরীক্ষার হলে মোবাইল, ক্যালকুলেটর, ঘড়িসহ সকল প্রকার ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার এবং বহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।’’
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, এ বছর পাঁচটি ইউনিটে দশটি গ্রুপে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিটি ইউনিটে সর্বোচ্চ ৩২ হাজার শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে। ৫টি ইউনিটের অধীনে ৫৯টি বিভাগে ৪ হাজার ৭০০ টি আসনের বিপরীতে ১ লাখ ৪৭ হাজার ৭৫০ শিক্ষার্থী প্রবেশপত্র সংগ্রহ করেছে।
প্রথম দিন (২২ অক্টোবর) সকাল ৮টায় ‘সি ইউনিটের গ্রুগ-১’, সকাল ১০টায় ‘সি ইউনিটের গ্রুগ-২’, দুপুর ১২ টায় ‘ডি ইউনিটের গ্রুগ-১’, আড়াইটায় ‘ডি ইউনিটের গ্রুগ-২’ এবং বিকাল সাড়ে ৪টায় ‘বি ইউনিটের গ্রুগ-১’ গ্রুপের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
দ্বিতীয় দিন (২৩ অক্টোবর) সকাল ৮টায় ‘বি ইউনিটের গ্রুগ-২’, সকাল ১০টায় ‘ই ইউনিটের গ্রুগ-১’, দুপুর ১২টায় ‘ই ইউনিটের গ্রুগ-২’, আড়াইটায় ‘এ ইউনিটের গ্রুগ-১’ এবং বিকাল সাড়ে ৪টায় ‘এ ইউনিটের গ্রুগ-২’ এর পরীক্ষার মধ্যদিয়ে শেষ হবে এ বছরের ভর্তি পরীক্ষা।
ভর্তিচ্ছু তন্ময় খন্দকার নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘অনেক আশা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসি ভর্তি পরীক্ষা দিতে। স্বপ্ন ছিল কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি হবো। কিন্তু ইদানিং যে সকল ঘটনা ঘটছে এতে সংশয়ে আছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা আমাদের আরও বেশি ভাবিয়ে তুলছে। এখন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেছি অনেক স্বপ্ন নিয়ে। আশা করি এখানে প্রশ্ন ফাঁস বা ভর্তি জালিয়াতি রুখতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ব্যবস্থা নেবেন।’
এ বিষয়ে এক অভিভাবক বলেন, ‘আমার খুব ইচ্ছা ছেলেকে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াবো। তার জন্য ছেলেকে অনেক ভালো প্রস্তুতি নিতে হয়েছে। এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় কোনো রকম জালিয়াতি না হলে আশা করছি চান্স পাবে। এসময় তিনি প্রশাসনের কাছে আবেদন জানান ভর্তি পরীক্ষায় যেন কোন ধরনের জালিয়াতি না হয় তার ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য।’
ভর্তি জালিয়াতি ঠেকাতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুস সোবহান। তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি আবেদনসহ পুরো ভর্তি প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা হয়। পরীক্ষায় জালিয়াতি রোধে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করা হবে। জালিয়াতি ঠেকাতে আমরা সর্বোচ্চ সতর্কবস্থানে থাকবো। ভর্তি পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন এবং যেকোনো ধরনের জালিয়াতি রোধ করতে সতর্ক অবস্থানে থাকবে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ, পুলিশ প্রশাসন, বিএনসিসি ও রোভার স্কাউট সদস্যরা।’
ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা যাতে কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হয় তার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরের দোকানে খাবারের মূল্য নির্ধারণ, রিক্সা ভাড়া নির্ধারণসহ ভর্তিচ্ছুদের সাথে আসা অভিভাবকদের বিশ্রামের ব্যবস্থা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তন ও শহীদ সুখরঞ্জন সমাদ্দার ছাত্র-শিক্ষক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র (টিএসসিসি)-তে তাদের জন্য বিশ্রামের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়াও ভর্তি পরীক্ষার সময় ক্যাম্পাসের খাবারের দোকানে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি মূল্যে যেন খাবার বিক্রি করতে না পারে সেজন্য সব খাবারের দাম নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। যদি কোন দোকানি অতিরিক্ত দাম নেয় তাহলে সঙ্গে সঙ্গে অবহিত করার অনুরোধ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।








