‘রানা প্লাজা’ ছবির নিষেধাজ্ঞার পর পরিচালক নজরুল ইসলাম খান বলছেন, ছবিটি রিলিজ হওয়ার আগে ছবিটি ভালো হয়েছে নাকি খারাপ হয়েছে তারা কিভাবে বুঝলো। আসলে আমাদের দেশে ভালো ছবি নির্মাণ করা সম্ভব না।
‘রানা প্লাজা’ একটি জনসেচতনমূলক ছবি ছিলো বলে পরিচালক চ্যানেল আই অনলাইকে বলেন, চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করেছিলাম গার্মেন্টশিল্পে যেসব পোশাক শ্রমিকরা কাজ করে তাদের মধ্যে সচেতনা বাড়ানোর জন্য। এরচেয়ে আর বেশি কিছু করতে চায়নি।
পোশাক শিল্পের মালিকদের সঙ্গে শ্রমিকদের কেমন সম্পর্ক হবে সেই কাজটি ফুটিয়ে তুলতে চেষ্টা করেছিলাম। ছবিটি নির্মাণ করতে এসে বহুমানুষের প্রসংশা পেয়েছি তাদের উৎসাহে কাজটি খুব ভালোভাবে শেষ করেছিলাম। হাইকোর্টের রায় এবং সেন্সর বোর্ডের ছাড়পত্র পেয়ে ছবিটির মুক্তির তারিখ ঠিক করেছিলাম ৪ সেপ্টেম্বর। সারাদেশে ১০০ টি সিনেমা হলে ‘রানা প্লাজা’ প্রদর্শন করার কথাও ছিলো। কিন্তু সবকিছুই এখন বন্ধ হলে গেলো।
গতকাল এই খবর শোনার পর ‘রানা প্লাজার’ পুরো টিম হতাশ হয়ে পড়েছে। প্রায় দুই কোটি টাকা ঋণ নিয়ে ছবিটি নির্মাণ করা হয়েছে। নিজের কর্মটা রিলিজ করার আগেই বন্ধ হয়ে গেছে। এখন রীতিমতো হতাশা নিয়ে মরার মতো বেঁচে আছি।
‘রানা প্লাজার’ মুক্তির জন্য কিছু করবেন কিনা এমন প্রশ্নে পরিচালক বলেন, আদালতের উপর আমাদের শতভাগ আস্থা রয়েছে। আমাদের অবস্থা বিবেচনা করে ‘রানা প্লাজার’ উপর থেকে সকল নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নিবেন আদালত।
ভয়ংকর দৃশ্যের জন্য ‘রানা প্লাজার’ এই অবস্থা প্রশ্নে তিনি বলেন, রানা প্লাজায় ছবিতে যেই ভয়ংকর দৃশ্যগুলো ছিলো সেগুলো সেন্সর বোর্ড বাদ দিয়েই ছবিটির ছাড়পত্র দিয়েছিলেন। আমার কথা হলো ছবিটি প্রদর্শনের আগেই তারা কিভাবে বুঝলেন যে ছবিটি ভয়ংকর বা ছবিটি সমাজের ক্ষতি করবে। আসলে আমার মাথায় এগুলো ঢুকছে না।
ছবিটির প্রধান রেশমা চরিত্রে অভিনয় করেছেন বর্তমান সময়ের হিট নায়কা পরীমনি। তিনি চ্যানেল আই অনলাইকে বলেন, ‘রানা প্লাজা’ ছবিটি যে মুক্তি দিলো না আমি এটাকে পজেটিভ হিসেবে দেখছি। দুইবছর আগেই যা কষ্ট পাওয়ার তা পেয়ে গেছি।
কারণ কিছু মহল নিজেদের স্বার্থে ছবিটির বিরুদ্ধে কাজ করেছে। তারপরও ছবিটি মুক্তি দেওয়া হয়েছিলো কিন্তু আবার বন্ধ হয়ে গেলো তবে আমি মনে করি, আজ না হয় কাল আবার ‘রানা প্লাজা’ মুক্তি পাবে। তখন দর্শক এই ছবিটি আরো বেশি আকর্ষনীয়ভাবে দেখবে। মানুষ তখন কিন্তু খুঁজবে কোনো বারবার এই ছবিটি বন্ধ করে হয়েছে।
পরিচালকের কথার সঙ্গে পরীমনি একমত যে এই ছবিতে কোনো ভয়ংকর দৃশ্য ছিলো না। যারা ভয়ংকর বলছে তারা আসলে ভয়ংকর শব্দটি জানে না। ‘রানা প্লাজা’ ছবিটি মূলত শ্রমিকদের মধ্যে জনসচেতনা বাড়ানোর জন্য তৈরি করা হয়েছিলো।
‘ছুটির ঘণ্টা’ চলচ্চিত্র দেখে সমাজে যেভাবে জনসেচতন বেড়েছিলো তেমনি ‘রানা প্লাজা’র’ মুক্তি পেলে জনসেচতনা বাড়তো। আসলে ‘রানা প্লাজা’ শুধু আমাদের ছবি নয় এটি সারা বাংলাদেশের ছবি।
তবে সবচে খারাপ লাগছে এই ছবির পিছে যারা অর্থ যোগান দিয়েছে তাদের জন্যে। তারাই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরীমনি বলেন, আদলত রায় দিয়েছে। আদলতের রায়ের উপর আমরা সম্মান করি কিন্তু আমার বিশ্বাস ‘রানা প্লাজা’ ছবিটির উপর থেকে খুব শীঘ্রই সমস্ত নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে নেবেন আদালত।
ভয়াল এক ট্র্যাজেডির জন্ম দেওয়া সাভারের রানা প্লাজার ধসের ১৭ দিন পর ধ্বংসস্তুপ থেকে পোশককর্মী রেশমার উদ্ধারের কাহিনী অবলম্বনে নির্মাণ হয়েছে সিনেমা ‘রানা প্লাজা’। মুক্তির আগ থেকেই বহু আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয় এই ছবিটি। গতকাল সোমবার ‘রানা প্লাজা’ সিনেমার উপর ছয় মাসের জন্য প্রর্দশন ও সম্প্রচারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে আদালত।






