প্রতিরোধ গড়ে দুইশ পেরিয়ে গেলেও শ্রীলঙ্কাকে গুটিয়ে দিতে বেগ পেতে হয়নি বাংলাদেশের। রাজ্জাক-তাইজুলের ঘূর্ণিম্যাজিকের দিনে উইকেটের উৎসবে মোস্তাফিজও যোগ দিলে ২২২ রানে থেমে যায় লঙ্কানরা।
রাজ্জাক ৬৩ রানে ৪টি, তাইজুল ৮৩ রানে ৪টি ও মোস্তাফিজ ১৭ রানে ২ উইকেট নিয়ে লঙ্কানদের চা বিরতির পরপরই অলআউট করে দেন। সফরকারীদের হয়ে মেন্ডিস সর্বোচ্চ ৬৮ ও সিলভা ৫৬ রান করেন।
বাংলাদেশের স্পিন দাপটে একসময় দুইশর আগেই গুটিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় পড়েছিল শ্রীলঙ্কা। তবে ১১০ রানে ষষ্ঠ উইকেট হারানোর পরও দুইশ গণ্ডি পেরিয়ে গেছে তারা।
প্রথম সেশনে রাজ্জাক তিন উইকেট তুলে নিয়ে এনে দিয়েছিলেন দুর্দান্ত শুরু। তাকে সঙ্গ দেন আরেক স্পিনার তাইজুল ইসলাম। ৪ উইকেটে ১০৫ রান তুলে লাঞ্চ বিরতিতে যায় শ্রীলঙ্কা।
দ্বিতীয় সেশনের শুরুতেও জোড়া সাফল্য পায় বাংলাদেশ। দলীয় ১০৯ রানের মাথায় পঞ্চম সাফল্য এনে দেন রাজ্জাক। নিজের চতুর্থ উইকেট হিসেবে বোল্ড করেন ক্রিজে থিঁতু হয়ে যাওয়া কুশল মেন্ডিসকে (৬৮)। পরের ওভারেই নিরোশান ডিকেভেল্লাকে (১) ফেরান তাইজুল।
এরপরই প্রতিরোধ চট্টগ্রাম টেস্টের সেঞ্চুরিয়ান রোশেন সিলভা ও দিলরুয়ান পেরেরার। দুজনের ৫২ রানের জুটিতে দুইশ ছাড়ায় শ্রীলঙ্কা। পেরেরা করেন ৩১ রান। রোশেনকে ভাল সঙ্গ দিয়েছেন অভিষিক্ত আকিলা ধনঞ্জয়াও (২০)। চার-বিরতির আগে ধনঞ্জয়াকে ফেরান মোস্তাফিজুর রহমান। লঙ্কানদের ৭ উইকেট স্পিনাররা ভাগাভাগি করে নেয়ার পর যা পেসারের প্রথম সাফল্য।
বৃহস্পতিবার সকালে চার বছর পর আন্তর্জাতিক মঞ্চে বল হাতে নিয়ে শুরুতেই বাজিমাত করেন ৩৫ বছর বয়সী রাজ্জাক। ব্রেক-থ্রু আসে তার বাঁ-হাতের ছোবলেই। শুরুতেই স্পিন আক্রমণে যায় বাংলাদেশ। অফস্পিনার মিরাজ ও বাঁহাতি স্পিনার রাজ্জাক বাধেন বোলিংয়ে জুটি।
নিজের তৃতীয় ওভারের প্রথম বলেই করুনারত্নেকে সাজঘরে পাঠান রাজ্জাক। বাঁহাতি ব্যাটসম্যানকে বেরিয়ে আসতে দেখে রাজ্জাক বল দেন লেগস্টাম্পের বাইরে। ব্যাট-প্যাড ফাঁকি দিয়ে বল যায় পেছনে। লিটন দাসের হাতে স্টাম্পড হয়ে সাজঘরে ফেরেন প্রথম টেস্টে শূন্য রানে আউট হওয়া করুনারত্নে (৩)। দলীয় রান তখন ছুঁয়েছে দুইঅঙ্ক (১৪)।
শুরুতে উইকেট হারিয়েও প্রথম ঘণ্টায় লঙ্কানরা ১৬ ওভারে ৬১ রান তোলে কিছুটা আগ্রাসী হয়ে। মিরপুরের উইকেটে টাইগার স্পিনারদের টার্ন-বাউন্স থেকে বাঁচতে আক্রমণাত্মক মেজাজ দেখায় সফরকারীরা।
পরে পানি পানের বিরতির পর আসে তাইজুলের ছোবল। আগের ম্যাচে ১৯৬ রানের ইনিংস খেলা সিলভাকে ফেরান এ বাঁহাতি স্পিনার। লাফিয়ে ওঠা বলে সিলভা ক্যাচ দেন স্লিপে। হঠাৎ লাফিয়ে ওঠা বলটি গ্লাভস ঘেঁষে যায় সাব্বিরের বিশ্বস্ত হাতে। ৩০ বলে দুটি চার ও একটি ছক্কায় ১৯ রান করে ফেরেন সাজঘরে।
একপ্রান্ত আগলে লড়ে যান মেন্ডিস। তাইজুলকে ছক্কা মেরে পূর্ণ করেন ফিফটি। গুনাথিলাকাকে নিয়ে জুটি বাড়াতে থাকেন। প্রথম স্পেলে ৫ ওভারে ১৮ রান দিয়ে এক উইকেট নেয়া রাজ্জাক এসেই ভাঙেন জুটি। প্রথম বলেই এগিয়ে এসে ড্রাইভ করতে গিয়ে মিডঅফে মুশফিকের হাতে ধরা পড়েন ১৩ রান করা গুনাথিলাকা। পরের বলে অধিনায়ক চান্দিমাল বোল্ড হন রাজ্জাকের দুদান্ত ঘূর্ণিতে।
শেষের উইকেটগুলো মোস্তাফিজ ও তাইজুল ভাগ করে নিলে ৬৫.৩ ওভারে থামে লঙ্কান ইনিংস।








