রাজশাহীর গোদাগাড়ীর বেনীপুর গ্রামে জঙ্গি আস্তানায় অভিযানের সময় জঙ্গিদের হামলায় ফায়ার সার্ভিস কর্মী আব্দুল মতিন নিহত হওয়ার ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মেনটেন্যান্স) একে এম শাকিল নেওয়াজ পুলিশের সমন্বয়হীনতা ও গাফিলতিকে দায়ী করলেও সেখানে পুলিশের কোনো প্রকার গাফিলতি ও সমন্বয়হীনতা ছিল না বলে জানিয়েছে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ।
পুলিশ সদর দফতরের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (মিডিয়া) সহেলী ফেরদৌস চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, জঙ্গিদের আত্মঘাতী বোমার কারণে ফায়ার সার্ভিস কর্মী মতিন মারা যায়। আসলে প্রতিনিয়ত আমাদের জঙ্গি অপারেশনগুলো ঝুঁকির মধ্যেই করতে হয়।
তিনি বলেন, গুলশানের হলি আর্টিজানে পুলিশি অভিযান শুরু করলে জঙ্গিদের গ্রেনেড ও গুলিতে নিহত হন ডিএমপির এসি রবিউল হক ও বনানী থানার ওসি সালাহউদ্দিন খান। এছাড়া সিলেটের আতিয়া মহলে জঙ্গি হামলায় লেফটেন্যান্ট কর্ণেল আবুল কালাম আজাদ নিহত হন। এছাড়াও জঙ্গি আস্তানায় পুলিশি অভিযানে অনেক পুলিশ সদস্য আহত ও নিহত হয়েছে। এগুলো অপারেশনে চলাকালীন দুর্ঘটনার অংশ, এখানে পুলিশের গাফিলতি ছিল না।
এর আগে জঙ্গি আস্তানার ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মেনটেন্যান্স) একেএম শাকিল নেওয়াজ সাংবাদিকদের বলেন, গোদাগাড়ীতে জঙ্গি আস্তানার খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে কাজ করছিল। তারা আমাদের সহযোগিতা চাইলে আমরা সেখানে আমাদের লোক পাঠাই। তারা নির্দিষ্ট দূরত্বে ছিল। কেননা আমাদের নিকট দূরত্বে কোনো অবস্থাতেই যাওয়ার কথা না।
‘অপারেশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আমাদের লোকজনকে বলা হয় জঙ্গি আস্তানার মাটির দেয়াল পানি দিয়ে ভাঙার জন্য। কর্মীরা কাছে যান এবং কাজ শুরু করেন। একপর্যায়ে জঙ্গিরা বের হয়ে আসে এবং আমাদের লোকের ওপর হামলা চালায়। এ সময় বাকি দুজন সরে যেতে পারলেও মতিন পারেননি। তখনই জঙ্গিরা তাকে ধরে ফেলে। আত্মঘাতী নারী জঙ্গির উপর্যুপরি দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে মারাত্মকভাবে আহত হন তিনি। পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নেয়ার পর সকাল পৌনে ৯টার দিকে তার মৃত্যু হয়।’
এ ধরনের অপারেশনে আরও পরিকল্পনা, প্রস্তুতি ও সমন্বয় থাকা উচিত ছিল বলে মন্তব্য করেন একেএম শাকিল নেওয়াজ।
ওই সময় পুলিশি অভিযানে প্রস্তুতি ও সমন্বয় পর্যাপ্ত ছিল কি না জানতে চাইলে সহেলী ফেরদৌস বলেন, যেকোন জঙ্গি অভিযানে পুলিশের সর্বোচ্চ প্রস্তুতি ও সমন্বয় থাকে। আমাদের মেডিকেল টিমও থাকে। আসলে মতিন নিহত হওয়ার ঘটনায় পুলিশের কোনো সমন্বয়হীনতা ছিল না।
গত বৃহস্পতিবার সকালে জঙ্গি আস্তানায় অভিযানের সময় জঙ্গিদের হামলায় দমকল বিভাগের কর্মী আব্দুল মতিন নিহত হওয়ার ঘটনায় ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স।
ফায়ার সার্ভিসের রাজশাহী সদর দপ্তরের উপ-পরিচালক নুরুল ইসলামকে এই কমিটির প্রধান করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশের নিরাপত্তা পর্যাপ্ত ছিল কি না, এই তদন্ত টিম তা খতিয়ে দেখবে।
আব্দুল মতিন নিহত হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে শুরু করে সব জায়গায় পুলিশের গাফিলতির কথা আলোচনা হয়। জঙ্গি হামলায় নিহত আব্দুল মতিন গোদাগাড়ীর মাটিকাটা ভাটা গ্রামের মৃত এহসান আলীর ছেলে।








