জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগসহ সব দলই কমবেশি তৎপর। ভোট আর জোটের নানামুখী হিসেবের খবর প্রতিদিন গণমাধ্যমে প্রকাশ হচ্ছে। সেইসব খবরের সঙ্গে সম্প্রতি যুক্ত হয়েছে জাতীয় ক্রিকেট দলের দুই তারকা ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান ও মাশরাফী বিন মোর্ত্তজাকে নিয়ে খবর।
গত ২৯ মে একনেক সভা শেষে সাংবাদিকদের এমন ইঙ্গিত দেন পরিকল্পনামন্ত্রী। এরপর থেকে ক্রিড়া ও রাজনীতির বাইরেও সাধারণ মানুষের মধ্যে বিষয়টি কৌতুহলের তৈরি করে। সামাজিক মাধ্যমেও নানা ধরণের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন অনেকে। যদিও এ বিষয়ে সাকিব-মাশরাফী কেউই সরাসরি বক্তব্য দেননি।
এ বিষয়ে ৩০ মে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলছেন, ‘পৃথিবীর সব দেশেই সেলিব্রেটিরা নমিনেশন পেয়ে থাকে এটা নতুন কিছু না।’
আর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ২০১৯ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপের পর সাকিব আল হাসান এবং মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা নির্বাচনে নামবেন।
সাকিব-মাশরাফী বাংলাদেশের নাগরিক। গণতান্ত্রিক দেশে যে কারো যে কোনো দল থেকে নির্বাচন করার অধিকার আছে। সেগুলো সম্পূর্ণ তাদের নিজস্ব ব্যাপার। সাকিব-মাশরাফী ক্রিকেট খেলা দিয়ে বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে প্রতিনিধিত্ব করছেন। তারা যদি নির্বাচনে দাঁড়িয়ে কোনো নির্দিষ্ট এলাকার জনপ্রতিনিধি হতে চান, তাতে কারো আপত্তি থাকার কথা না। সাকিব-মাশরাফী ভক্ত থেকে শুরু করে সবারই উচিত তাদের স্বাগত জানানো।
তবে আমাদের ধারণা, যে ক্রিকেট দিয়ে তাদের এই পরিচিতি ও অবদান, সেটাকেই সবার প্রথমে গুরুত্ব দেয়া উচিত। তারা যেহেতু এখনও পূর্ণ ফর্মে থেকে দক্ষতার সঙ্গে লাল-সবুজের পতাকা বুকে নিয়ে খেলে যাচ্ছেন, এখন সেটাই হওয়া উচিত তাদের প্রধান ও আপাতঃ একমাত্র লক্ষ্য। সামনের বছর যেমন নির্বাচন, তেমনি সামনের বছর ক্রিকেট বিশ্বকাপের আরেকটি আসর বসছে। এই অবস্থায় কোনটা তাদের কাছে বেশি জরুরি, তা তাদেরকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
পৃথিবীর সব দেশেই সেলিব্রেটিরা নমিনেশন পেয়ে থাকেন, প্রধানমন্ত্রীর এই কথার সঙ্গে আমরা পুরোপুরি একমত। ক্রিকেট বিশ্বে ভারত-পাকিস্তান-শ্রীলংকার সাবেক ক্রিকেটারদেরও আমরা রাজনীতিতে আসতে দেখেছি। আমাদের দেশের সাবেক ক্রিকেটার নাইমুর রহমান দূর্জয় ও সাবেক ফুটবলার আরিফ খান জয়ের মতো অনেকে রাজনীতি-নির্বাচন করে মন্ত্রী পর্যন্ত হয়েছেন। তবে দেশে-বিদেশে তারা তাদের খেলোয়াড়ি জীবনের সমাপ্তি টেনেই নির্বাচনের ময়দানে নেমেছিলেন। তার কারণ হিসেবে আমাদের মনে হয়েছে, খেলোয়াড় হিসেবে ভাল করতে হলে যে পরিমাণ মনোসংযোগ প্রয়োজন তা ধরে রাখতে হলে অন্য অনেক কিছুই বাদ দিতে হয়।
দেশের ক্রিকেটের প্রেক্ষাপটে সাকিব-মাশরাফীরা বেশ দূর্লভ প্রতিভা। সেই প্রতিভা আমরা কীভাবে ব্যবহার করবো তা যেমন সরকারের ভাবা দরকার, তেমনি সাকিব-মাশরাফীদেরও অগ্রাধিকার বুঝতে হবে। আমরা জানি, তারা সেটা যে কারোর চেয়ে ভালো জানেন।









