রাজনীতি থেকে অবসর নিলেও ভবিষ্যত নিয়ে আশায় আছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরী। পদত্যাগের একদিন পর রাজধানীর ডিওএইচএস এর বাসভবনে সাংবাদিকরা গেলে তিনি বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।
গতকাল বুধবার রাতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছে পদত্যাগপত্র পৌঁছে দেওয়া হয় বলে জানান শমসের মবিন। চিঠিতে তিনি লিখেন,
‘মাননীয় চেয়ারপার্সন,
আমার সালাম ও শুভেচ্ছা গ্রহণ করিবেন।
আপনি নিশ্চয় অবগত আছেন, বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে আমি গুরুতর ভাবে আহত হয়েছিলাম। সে কারণে আমাকে বিভিন্ন সময় দেশে বিদেশে নানাবিধ চিকিৎসা নিতে হয়েছে। বর্তমানে আমার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটেছে।
আমার বর্তমান স্বাস্থ্যগত অবস্থার কারণে আমি অনতি বিলম্বে রাজনীতি থেকে অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
অবসর গ্রহণের প্রেক্ষিতে আমি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সকল পদ থেকেও পদত্যাগ করলাম।
একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আমার স্বাস্থ্যগত সীমাবদ্ধতার মধ্যে থেকে মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধকে সামনে রেখে দেশ ও জাতীয় কল্যাণে কাজ করার প্রয়াস আমার চিরকাল থাকবে।
আপনার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করছি।
ধন্যবাদান্তে,
সমশের এম চৌধুরী, বীর বিক্রম
ঢাকা, বাংলাদেশ।’
চলতি বছরের ৮ জানুয়ারি ২০ দলীয় জোটের লাগাতার আন্দোলনের সময় গ্রেফতার হয়ে কারাগারে যান বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরী। পাঁচ মাসের বেশি সময় জেল খাটার পর ২২ মে জামিনে মুক্তি পান তিনি। এরপর থেকে আর রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সক্রিয় হতে দেখা যায়নি ২০০৮ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হওয়া সাবেক এই পররাষ্ট্র সচিবকে।
কারাগার থেকে বের হওয়ার পর দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে আর সাক্ষাত হয়নি তার। বেগম জিয়া এখন লন্ডনে। এর মধ্যেই বুধবার বিকেলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের কাছে পদত্যাগপত্র নিয়ে যান শমসের মবিন।
সাংবাদিকদের তিনি বলেন, স্বাস্থ্যগত কারণে আমি অবিলম্বে রাজনীতি থেকে অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আর যেহেতু আমি একটি দলে ছিলাম এবং দলে একটি পদ ছিলো আমার, সুতরাং সেই পদ থেকেও পদত্যাগ করলাম।
`একই সঙ্গে আমি চেয়ারপারসনকে বলেছি, একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আমার শারীরিক সীমাবদ্ধতা মাথায় রেখে, মহান মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধ মাথায় রেখে দেশ ও জাতির কোনো কল্যাণে যদি লাগতে পারি তাহলে সেই প্রয়াস আমার চিরকাল থাকবে। কাল দলের মহাসচিব পত্রটি পেয়েছেন, সেটার জবাবও দিয়েছেন। লিখেছেন ভারাক্রান্ত মনে পত্রটি গ্রহণ করলাম।’
কোনো চাপে তিনি পদত্যাগ করেছেন কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমার সিদ্ধান্ত আমার নিজের। কোনো চাপ নেই।
মুক্তিযুদ্ধে বীর বিক্রম খেতাবে ভূষিত শমসের মবিন চৌধুরী দাবি করলেন, তিনিই একমাত্র মুক্তিযোদ্ধা যার বিরুদ্ধে পাকিস্তান এবং বাংলাদেশ দুই আমলেই মামলায় চার্জশিট হয়েছে।







