রাজধানীর পরীবাগে সংস্কৃতি বিকাশ কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো সাংস্কৃতিক-সামাজিক সংগঠন ‘দিয়াড়’র আয়োজনে ‘আজ কবিতা সন্ধ্যা’ শিরোনামে ভিন্নধারার কবিতা পাঠের আসর।
কবিতার পাশাপাশি মাটির গন্ধ নিতে আয়োজন বসেছিল সংস্কৃতিক বিকাশ কেন্দ্রের খোলা মাঠে। বৃষ্টিকে উপেক্ষা করেই শুরু হয় আয়োজন। কবি, কবিতা আর শ্রোতাদের নিয়ে চলে বৈঠকী ঢংয়ের কবিতার আসর। আসর সঞ্চালন করেন সংগঠনের সদস্যসচিব আনোয়ার হক।
কবিতা আবৃত্তির ফাঁকে ফাঁকে চলে গুণীজনদের আলোচনা। একুশে পদক পাওয়া কবি মুহম্মদ নুরুল হুদা বললেন, ‘সমকালীন বাংলা কবিতায় পুরোনোদের দিন প্রায় শেষ। শুরু হয়েছে নতুনদের, নতুন শতকের, নতুন দশকের কবির দিন। নতুনদের অন্যরকম ভাষা, অন্যরকম নির্মাণ, অন্যরকম তৎপরতা দেখছি। নতুনদের হাতে চর্চিত হয়ে নতুন বাঁক নেবে বাংলা কবিতার। আমার এক কথা, খেয়ে ফেলতে হবে রবীন্দ্রনাথদের মতো রুই মাছদের।’
দিয়াড়’র প্রধান পৃষ্ঠপোষক নাট্যজন অধ্যাপক মমতাজ উদ্দিন আহমদ বললেন, ‘জাতীয়ভিত্তিক এ সংস্থার মাধ্যমে বাংলা সংস্কৃতিকে বিশ্ব দরবারে পৌঁছে দেয়া হবে। এরই অংশ হিসেবে এ আয়োজন। আগামীতে আরো বড় পরিসরে আয়োজন করা হবে লোকগান উৎসব। এছাড়া এবছরই ঢাকায় আয়োজন করা হবে প্রথম জাতীয় গম্ভীরা উৎসব। চলছে তার প্রস্তুতিও।’
সংস্কৃতির পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘শিগগিরই এ সংগঠনের মাধ্যমে আমরা ‘একুশে’ ও ‘বঙ্গবন্ধু’ নামে আমের নতুন দু’টো জাত মানুষের হাতে তুলে দেবো। দিয়াড়’র আয়োজনে আগামী ফেব্রুয়ারি ও মার্চে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মাধ্যমে আম গাছের চারা রোপণের অনুরোধ জানানো হবে।’
ভিন্নধর্মী এ আয়োজনে নিজের লেখা কবিতা আবৃত্তি করেন কবি মুহম্মদ নুরুল হুদা, মোহন রায়, রেজাউদ্দিন স্ট্যালিন, আপেল আবদুল্লাহ, ভাস্কর চৌধুরী, আমিনুল ইসলাম, আশরাফ জুয়েল, চন্দ্রশিলা ছন্দা, এসআই শহীদ।
আসরের সবশেষ আয়োজন ছিল ভারতের গুণী আবৃত্তিকার সৌমিত্র ঘোষের বিশেষ পর্ব। কলকাতার অন্যতম এ বাচিক শিল্পী সুরের মূর্ছনায় আবৃত্তি করেন এপার-ওপার বাংলার অনেক কবিতা। একে একে সমাপন, বিনোদিনীর প্রতি, ২৬ নম্বর চিঠি, সম্পর্ক, গরীবগঞ্জের রূপকথা, দুই বাংলা আবৃত্তি করে জয় করে নেন দর্শক মন।
দিয়াড় আহ্বায়ক মুখলেসুর রহমান মুকুল, পৃষ্ঠপোষক ড. অধ্যাপক মেসবাহ কামালসহ বিশিষ্টজনরা আলোচনায় অংশ নেন।







