বিদেশের মাঠে পাকিস্তানের খেলোয়াররা বাংলার কিশোর-কিশোরীদের হাতে পরাস্ত হচ্ছে। এশিয়া ক্রিকেট কাপে বাংলার টাইগাররা পাকিদলকে ফাইনালে উঠতে দেয়নি। সেমিফাইনালে ওদের বিদায় করে দিয়েছে। আর বাংলার ফটুবল ললনারা পাকি ফুটবল দলকে ১৭ গোল হজম করিয়ে ছেড়েছে। আর সেই সময় লাখ শহীদের স্বপ্নের বাংলায় পাকিদলের প্রেমিক দুই তরুণ-তরুণী প্রকাশ্য রাস্তায় মাথায় পতাকা বেঁধে পাকিস্তান প্রেম দেখিয়েছে যা ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। মনে রাখতে হবে দুটি পাকিপ্রেমী কিশোর-কিশোরী পাকি প্রেম নিয়ে রাস্তায় নেমেছে বটে কিন্তু অনেক পাকিপ্রেমী ঘরে ঘরে আছে। এই পাকিপ্রেমী গোষ্ঠীই একাত্তরের রক্তস্নাত বাংলায় প্রতিক্রিয়াশীল রাজনৈতিক শক্তি হয়ে উঠেছে।
১৯৭৫ এর ১৫ আগস্ট ট্র্যাজেডি ঘটিয়ে যাদের উত্থান এবং ২০০৪ এ তারা ২১ আগস্ট হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তিকে নিঃশেষ করতে চেয়েছে। যারা উগ্র ধর্মান্ধদের প্রাণে বেঁধে চলেছে। হালে তথাকথিত প্রগতিশীল ও মৌসুমী সুশীলদের দলে ভিড়িয়েছে। এখন যেন ওদের পোয়াবারো! অঙ্গভঙ্গীতে বেশ একটা ভাব এসেছে। (শেষমেষ বিভ্রান্ত বঙ্গবীর চূড়ান্ত বিভ্রান্তিতে পড়েননি। দালাল রাজাকারের প্রকাশ্য সংশ্রব থেকে সরে থেকেছেন)। পাকিপ্রেমী রাজনৈতিক দলটিকে ক্ষমতায় নিতে বিশেষ মিশনে নেমেছেন এক বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রীসহ প্রবীণতম দুইজন ব্যর্থ সুশীল। মুক্তিযুদ্ধের পর আওয়ামী লীগ বিরোধিতা মজ্জায় নিয়ে বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রী সেজে আওয়ামী লীগকে রাষ্ট্র শাসন থেকে নির্বাসিত করতে নামে একাধিক পক্ষ। সদ্য স্বাধীন দেশে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে তারা। বঙ্গবন্ধুকে যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশটি পুনর্গঠন করতে দেয়নি এই অপশক্তি গং।
সপরিবারে জাতির জনককে হত্যা করে পাকিপ্রেমী ও পাক ফেরতদের হাতে তুলে দেয় দেশটিকে। শীর্ষ ঘাতক আলবদররা দেশের মন্ত্রী হয়। তাদের গাড়িতে লাগানো হয় মুক্তিযুদ্ধের পতাকা। বঙ্গবন্ধু বিরোধিতার নামে এইসব গং সেসব অপকর্মের আয়োজক ও রক্ষক ছিলো। তারাই আজ সুশীল সেজে আবারো আওয়ামী লীগকে রাষ্ট্র শাসন থেকে নির্বাসিত করতে চাইছে। অবাক করা বিষয় হলো এই সমাজতন্ত্রের চর্চায় রয়েছেন যে রাজনীতিকগণ তারাও অমন পরিস্থিতিতে কোন যোগ্য ভূমিকা নিচ্ছেন না। জোট জামায়াতচক্র যে দেশের মৌলিক চেতনা ও উন্নয়নের শত্রু সেটি বুঝেও রাষ্ট্র শাসনে তাদের পুনরুত্থান আয়োজনে তাদের বিচলিত দেখা যাচ্ছেনা। আওয়ামী লীগ বিরোধিতার মজ্জাগত প্রবণতাধারীরা নানা ত্রাণকর্তা রূপে আবির্ভূত হচ্ছে হাল জামানায়। 
দেশের মানুষকে এটি বুঝতে হবে অমন বিষয়গুলো বুঝবার দায় অমন রাজনীতিকদের আমরা দেব কেন? দেশ এখন কোন সংকটে আছে? কথিত ত্রাণকর্তারা যেমন করে কথা বলেন জনজীবন কি তেমন বিপন্ন? তাদের রাজনীতি দিয়ে কি তাদের দিন চলে? মিছিলে ভাড়া খেটে একবেলার আয় হয় কারো কারো। কিন্তু দেশের বৃহত্তর মানুষ খেটে খাওয়া মানুষ। জীবিকার সাথে তাদের যে যোগ, তাদের আর কোনটির সঙ্গে থাকার ফুসরত হয়না। তাদের স্বার্থের কথা বলে রাজনীতির মাঠ গরম করার মতলবটা সাধারণ মানুষ ভালোই বুঝেন। শতভাগ পরিবারকে বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আনতে চাইছে সরকার। সে সুবিধা যে জনগণ ভোগ করছেন তাদের নানা গল্প কথা দিয়ে বিরূপ করা যাবে কি? এই পরিমান বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ নিশ্চিত থাকবে রাষ্ট্র শাসন কোন পরিস্থিতিতে সেটি বুঝবার ক্ষমতা আছে সাধারণ মানুষের।
অনেকগুলো বৃহৎ উন্নয়ন দৃশ্যমান, চলমান। ‘দেশ শেষ হয়ে গেছে’ অমন বিলাপের কি বাজার তৈরি করা যাবে? তেমন পরিস্থিতি কি আছে? আওয়ামী লীগেও সুবিধাভোগী মতলবাজ আছে সে তো সত্যি। সুযোগ নিয়ে অপকর্মও করছে ওরা, কেউ পার পেয়ে যাচ্ছে কেউ পার পাচ্ছেনা। সেসব ফলাও করে প্রচার করে দলটির ভাবমূর্তি বিনষ্ট করতে নেমেছে কোন কোন দৈনিক। আওয়ামী লীগ বিরোধী মজ্জাগত প্রবণতা প্রদর্শনকেই এক রকমের প্রগতিশীলতা জ্ঞান করে আসছে একটি লুপ্তপ্রায় গোষ্ঠী। প্রতিষ্ঠার পর থেকে আওয়ামী লীগের প্রতিটি কাউন্সিলে বৈষম্যহীন সাম্যবাদী সমাজ গঠনের অঙ্গীকার গৃহীত হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর সমাজতন্ত্র মালুম করবার সাধ্য নেই মনে করতো ওরা। ফলে বঙ্গবন্ধু বিরোধিতাকেই রাজনীতির মূল দর্শন বানিয়েছিলো ঐ জনবিচ্ছিন্ন প্রগতিধ্বজ্বাধারীরা। ২০১৪ তে নির্বাচন বানচালের নামে কোন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডই বাকি রাখা হয়নি। কত মানুষকে প্রাণ হারাতে হয়েছে, কত অসহায়কে পুড়ে মরতে হয়েছে। সে হিসেব হারিয়ে যায়নি।
সেই গোষ্ঠীকেই রাষ্ট্র ক্ষমতায় নিতে মরিয়া হয়েছে কারা? সংবিধান বিশেষজ্ঞ, পতিত রাষ্ট্রপ্রধান ও আরো কজন মৌসুমী রাজনীতিক। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা লুণ্ঠিত অপদস্ত হয়েছে যে গোষ্ঠীটির ক্ষমতা দখলের মধ্য দিয়ে, সেই গোষ্ঠীটির প্রতি কথিত গণতান্ত্রিক প্রেম দেখাচ্ছেন যারা তারা ঠিক বুঝে উঠতে পারছেন না। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস কি তারা ভুলে গেছেন? মুক্তিযুদ্ধের দর্শন কি তারা ভুলে গেছেন? অবশ্য সব জেনেও নিজেদের দেউলিয়াত্ব শান দিতে নেমেছেন।
স্বাধীনতার পর থেকে রোহিঙ্গা সংকটে পড়েছি আমরা। ৭৩ এ তিন লাখ এলো বার্মার সামরিক জান্তার চাপে। তখন সমারিক জান্তাকে বুঝিয়ে বঙ্গবন্ধু পৌনে তিন লাখ ফেরত পাঠালেন। ১০ বছর পর পর ওরা আসছেই। এবার সে সংকট তুঙ্গে। বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এই সংকটের স্থায়ী সমাধানে উদ্ধুদ্ধ করছেন আর মানবিক আশ্রয়ে রেখেছেন এই ভাগ্য বিড়ম্বিতদের। আন্তর্জাতিক মহল যখন কঠিন উদ্যোগী হতে চাইছে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে তখন আমাদের বাণিজ্য ও উন্নয়ন মিত্র চীন সেখানে বাগড়া দিচ্ছে। 
অমন জাতীয় সংকট নিয়ে কোন মাথা ব্যথা নেই এই কথিত সুশীলদের। বরং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিনষ্টকারী পাকিপ্রেমীদের রাষ্ট্র ক্ষমতায় নেবার কূটনৈতিক দায়িত্ব পালন করছেন তারা। মাঠে নামছেন তারা। সেসব করে জনগণকে বিভ্রান্ত করা যাবে তেমন দিন বোধ করি গেছে। দেশের উন্নয়ন এখন আর গল্পকথা নয়। সবই দৃশ্যমান। মানষের গড় আয়, জাতীয় প্রবৃদ্ধি, রেমিট্যান্স, পদ্মা সেতু, বিদ্যুৎ সম্প্রসারণ, রেলওয়ে, মেট্রোরেল, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রশংসা। সবই দৃশ্যমান। যুব সমাজ ধ্বংসকারী মাদকব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে সরকার। যেটি দেশের মানুষের মনে স্বস্তি দিয়েছে আর সেটিকে নিয়ে নানা রাজনীতি করা হচ্ছে। মোদ্দাকথা, রাজাকার আলবদরদের পুনর্বাসন করতে, জঙ্গীবাদকে মদদ দিতে কাউকে রাষ্ট্র ক্ষমতায় যেতে দেবে কিনা সে বিবেচনা জনগণের। আমি বিশ্বাস করি এই বিবেচনায় জনগণ ভুলে করবে না।
(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)








