রাইড শেয়ারিং প্রতিষ্ঠানগুলোর অ্যাপে পাওয়া মোটরসাইকেলে প্রাইভেট কার, বাস, সিএনজির ফাঁকফোকর দিয়ে দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানো যাচ্ছে। তাই যানজটের ঢাকায় স্মার্ট নগরবাসী উবার মটো, পাঠাওয়ের মতো মোটরসাইকেল সেবার দিকে ঝুঁকছে। পাল্লা দিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোর আওতাধীন মোটরসাইকেল ও চালকের সংখ্যাও বাড়ছে। একই সঙ্গে ব্যবহারকারীদের দিক থেকে মোটরসাইকেল সেবা নিয়ে অভিযোগ-অসন্তুষ্টিও বেড়ে চলেছে।
রাইড শেয়ারিংয়ের যাত্রী থাকা অবস্থায় আজ (৪ জুলাই) সকালে রাজধানীর এয়ারপোর্ট রোডে মোহাম্মদ নাজমুল হাসান ফুয়াদ নামে এক যুবক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। সে একটি বেসরকারি টেলিকম প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ছিলেন। ওই ঘটনায় আহত হয়েছে রাইড দেয়া চালক।
এরকম ঘটনা প্রায়ই ঘটতে থাকলেও সেবা ব্যবহারকারী কয়েকজনের অভিযোগ, চালক এবং রাইড শেয়ারিং প্রতিষ্ঠানগুলো যাত্রী নিরাপত্তার ব্যাপারে উদাসীন।
বেশিরভাগ মোটরসাইকেল রাইডার নিজে হেলমেট পরলেও যাত্রীর জন্য হেলমেট রাখছে না। অনেক চালক নামেমাত্র হেলমেট রাখলেও সেটা আর পরার যোগ্য থাকছে না। মোটামুটি মোটরসাইকেল চালাতে পারে এমন রাইডারও পাওয়া যাচ্ছে। অদক্ষ ও বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালকের কারণে দুর্ঘটনারও শিকার হচ্ছে অনেকে।
উবার, পাঠাও ব্যবহারকারীদের মোটরসাইকেল সেবা নেয়ার অভিজ্ঞতা জানতে ফেসবুকে সক্রিয় ‘উবার ইউজার্স অব বাংলাদেশ’ এবং ‘পাঠাও ইউজার্স অব বাংলাদেশ’ নামের দু’টি গ্রুপে কয়েকটি প্রশ্ন লিখে পোস্ট করে চ্যানেল আই অনলাইন। পোস্ট দেয়ার প্রায় সঙ্গে সঙ্গে উবার ব্যবহারকারীদের ১ লাখ ৮৫ হাজার সদস্যের গ্রুপটি তা অনুমোদন করে। কিন্তু অজানা কারণে একই পোস্ট অনুমোদন করেনি ১ লাখ ৮৩ হাজার সদস্যের গ্রুপ পাঠাও ইউজার্স অব বাংলাদেশ।
উবার ব্যবহারকারীদের গ্রুপে দেয়া চ্যানেল আই অনলাইনের পোস্টে মোটরসাইকেল রাইড নিয়ে তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা জানান কয়েকজন। তাদের সবাই একবাক্যে জানান পাঠাও, উবার মটো সহ অন্যান্য রাইড শেয়ারিং প্রতিষ্ঠানের মোটরসাইকেলে যাত্রীর জন্য হেলমেট রাখা হয় না বললেই চলে।
একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী আলাল আহমেদ নিয়মিত উবার, পাঠাওয়ের মোটরসাইকেল রাইড নেন জানিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন: অধিকাংশ রাইডারই হেলমেট সরবরাহ করেন না। আমি দুর্ঘটনার স্বীকার হলাম যেদিন, সেদিনও যথারীতি হেলমেট দেননি।
চালকের অসাবধানতায় এক মারাত্মক দুর্ঘটনার শিকার হয়েছিলেন জানিয়ে তিনি বলেন: রাইডারের ভুলের কারণে মারাত্মক দুর্ঘটনার শিকার হয়েছি আমি। মোটরসাইকেল চালক বিজয় সরণি থেকে কাওরানবাজার কোন দিকে জানেন না, লুকিং গ্লাসের দিকে না তাকিয়ে ডানে মোড় নেওয়ায় পেছন থেকে ট্রাক ধাক্কা দেয়।
রাইড শেয়ারিং অ্যাপে সেবা দেয়া কোন মোটরসাইকেলেই হেলমেট পাননি জানিয়ে তানজিল আল সাবাহ তন্ময় বলেন: পাঠাও অথবা উবার মটো আর সহজ যাই-ই হোক- এদের কোন বাইকার এক্সট্রা হেলমেট সাথে রাখেনা বলে বনানী থেকে সৈনিক ক্লাব দিয়ে মিরপুর এ যেতে পারিনা, বরং এর চেয়ে তিনগুণ বেশি সময় আর বেশি ঘুরে কালশী দিয়ে যেতে হয় (সাথে তো মেট্রোরেল এর জ্যাম আছেই মিরপুর ১২ থেকে ১০ পর্যন্ত) । অথচ একটা হেলমেট সাথে রাখলেই কিন্তু সৈনিক ক্লাব দিয়ে ক্যান্টনমেন্ট রুটে অল্প সময় আর অল্প দূরত্বে মিরপুর যাওয়া যেত। কারণ হেলমেট পরা ছাড়া ক্যান্টনমেন্ট এ বাইক ঢুকতে দেয় না ।
একদিকে হেলমেট নেই অন্যদিকে বেপরোয়া চালকের অভাব নেই তাই দুর্ঘটনাও থেমে নেই। মোটরসাইকেল চালকের বেপরোয়া মনোভাবের কারণে আহত হয়েছিলেন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আল রাশেদ।
দুর্ঘটনায় পড়ার অভিজ্ঞতা জানিয়ে রাশেদ বলেন: পায়ে আঘাত পেয়েছি বা আঙ্গুলে বাড়ি লেগেছে, বা সাইড দিয়ে যাবার সময় গাড়ির সাথে পায়ে জোরে ঘষা লাগিয়েছে। অনেক রাইডার আছেন খুব রাফভাবে বাইক টানেন, ডানে-বামে দেখার সময় নাই, এমন কি তারা তাদের লুকিং গ্লাস পর্যন্ত ব্যবহার করেন না। অনেকে একটু সাইড পেলে বা চিপা দিয়ে বাইক টান দেবার জন্য খুব ব্যস্ত হয়ে যান!
মোটরসাইকেল সেবা নিতে গিয়ে এরকম পরিস্থিতিতে পড়ার কারণ সম্পর্কে নিজের মতামত জানিয়ে রাশেদ বলেন: শিক্ষানবীশ বা কোনরকম বাইক চালাতে পারে এরকম রাইডার এখন প্রচুর। আমার মনে হয় প্রায় ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ মোটরসাইকেল চালকই একেবারে শিক্ষানবীশ কিংবা নতুন। আনাড়ি এবং বেপরোয়া লোক নেহাত কম নয়। এছাড়া ঢাকার আশেপাশের জেলা থেকে আসা মোটরসাইকেলও এখন ঢাকা মেট্রোপলিটানে উবার-পাঠাওয়ে যাত্রী নিচ্ছে। 
শুধু রাশেদ নন আরও কয়েকজন মোটরসাইকেলে চালকের পেছনে বসে পায়ে আঘাত পাওয়ার কথা নানা সময় ফেসবুকে প্রকাশ করেন।
তাদের পোস্ট করা ছবি এবং ক্যাপশনে দেখা যায় কারও পায়ের আঙ্গুলে আঘাত, কারও হাঁটুতে কারও জুতা পর্যন্ত আঘাতের সাক্ষী হয়ে আছে।
সম্প্রতি যাত্রাপথে দুর্ঘটনার শিকার চালক এবং যাত্রী পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে উবার। ৬ জুন বিশ্বের নামকরা রাইড শেয়ারিং প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে উবারের গাড়ি এবং মোটরসাইকেল চালক-যাত্রীদের জন্য ইন্সুরেন্স পদ্ধতি চালু করার ঘোষণা দেয়। ব্যবহারকারীদের স্বার্থে উবার এই উদ্যোগ নিলেও এব্যাপারে পাঠাও, ও ভাইসহ দেশীয় রাইড শেয়ারিং প্রতিষ্ঠানগুলো এখনো নিরব।








