ডিস ব্যবসার আধিপত্য নিয়ে রবিন কোম্পানির সন্ত্রাসীদের হামলায় আব্দুল রাজ্জাক বাবু খুন হওয়ার পর ওই বাহিনীর মূল হোতাদের খুঁজতে মাঠে নেমেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।
গোয়েন্দা পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলছে, বাড্ডার আলাতুন নেছা স্কুলের অনেক প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা রবিন কোম্পানির ভাড়াটে সন্ত্রাসী। এলাকায় চাঁদাবাজি, খুন সহ নানা অপকর্ম করে তারা।
ডিবি পুলিশ বলছে, রাজধানীর আবুল হোটেল, রামপুরা উলন, ভাটারা, খিলগাঁও, মিরপুরের কাজী পাড়া সহ বেশ কয়েকটি জায়গায় ডিস ব্যবসার সিন্ডিকেট বিদ্যমান। এর মধ্যে গুলশান বাড্ডা ও ভাটারা এলাকায় ডিস বাবুর একচেটিয়া আধিপত্য ছিল।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার (উত্তর) মো. মশিউর রহমান চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, রবিন কোম্পানি বাড্ডা, ভাটারা ও গুলশানে ডিস ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে নিতে চেয়েছিল, এ কারণেই বাবুকে খুন করা হয়।
তিনি বলেন, বাড্ডার আলাতুন নেছা স্কুলের বেশ কিছু প্রাক্তন শিক্ষার্থী রবিন গ্রুপের ভাড়াটে সন্ত্রাসী। এছাড়াও শুভ, আদনান, অভি, হেলাল, সোহেল, রাসেল নামে বেশ কয়েকজন উঠতি বয়সী ছেলেদের তারা এই গ্রুপে জড়িয়েছে। তাদের মাসে মাসে টাকা দিয়ে লালন পালন করে রবিন কোম্পানি। তারা টাকার বিনিময়ে বিভিন্নভাবে এলাকার লোকজনের কাছ থেকে চাঁদাবাজি, জমি জমা নিয়ে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করে।
রবিন গ্রুপের লোকরা মূলত তিনভাবে সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করে। কখনো তারা হুমকি দেয়, কখনো না আহত করার জন্য গুলি ছুঁড়ে আবার কখনো প্রাণে মেরে ফেলে।
মশিউর রহমান বলেন, পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত শাফায়াত ওরফে তানভীর ওরফে তামরীন ওরফে রানা পুলিশের তালিকাভুক্ত আসামি। পুলিশের কাছে ধরা পড়ার ভয়ে তানভীর মুঠোফোন ব্যবহার করত না। বাসায় ইন্টারনেটের সংযোগের মাধ্যমে আইফোন ব্যবহার করে ভাইবার, হোয়াটস অ্যাপের মাধ্যমে মালেয়শিয়ায় রবিনের সঙ্গে যোগাযোগ করত। রবিনের নির্দেশে সে হত্যাকাণ্ড সহ বিভিন্ন চাঁদাবাজি কার্যক্রম পরিচালনা করত।
বাবু হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার বাকি দুজন সোহেল ও রাসেলের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে জানিয়ে মশিউর বলেন: রবিন কখনো মালেয়শিয়া আবার কখনো দুবাইতে অবস্থান করে, দেশে তার কোম্পানি দেখভাল করে রমজান ও ডালিম। তাদের খুঁজছে মাঠে নেমেছে গোয়েন্দারা।
খুব শীঘ্রই এই রবিন কোম্পানির মূল হোতাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসতে পারব বলেও জানান তিনি।










