রংপুরে মুন্সিপাড়া এলাকায় জাপানী নাগরিক হোসি কোনিও হত্যার অভিযোগে ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো তার বাড়িওয়ালা জাকারিয়া দারা, তার ব্যবসার পার্টনার হাবিবুর রহমান, ফার্মের জমির মালিকের ছেলে মুরাদ ও রিকশাচালক মোনাফ।
রংপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জয়নাল আবেদীন জানান, শহরে যে একজন বিদেশী নাগরিক বসবাস করছিলো এই বিষয়ে কেউই পুলিশকে কিছুই জানায়নি। বিদেশী নাগরিক নিজে এমনকি বাড়িওয়ালা ও জমির মালিকও এই সম্পর্কে পুলিশকে কোনো কিছুই অবগত করেনি। এই হত্যাকাণ্ডের পিছনে কোনো সন্ত্রাসী কার্যকলাপ কাজ করেছে নাকি কোনো জঙ্গীবাদী দল এর জন্য দায়ী তা জিজ্ঞেস করা হলে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি সহকারি পুলিশ সুপার জয়নাল আবেদীন।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, ‘কোয়েল’ নামের নতুন প্রজাতের আলু চাষ করার জন্য এক স্থানীয় জমির মালিকের কাছ থেকে ১লক্ষ ১০ হাজার টাকায় ২ একর জমি লীজ নিয়েছিলেন কোনিও। রংপুরের ভাড়া বাসা থেকে ফার্মের জন্য লীজ নেয়া জমিটি কয়েক কিলোমিটারের মধ্যে ছিলো বলে প্রতিদিনিই সে প্রকল্পের কাজ দেখতে যেতেন।
শনিবার সকাল ১০টার দিকে রংপুরের মুন্সিপাড়া এলাকার ভাড়া বাসা থেকে প্রকল্পের কাজে বের হন হোসি কোনিও। তাকে বহনকারী রিক্সাটি মাহিগঞ্জের আলুতাড়ি এলাকায় পৌঁছালে পৌনে ১১টার দিকে কয়েকজন মুখোশধারী ৩টি মোটরসাইকেল নিয়ে তাকে ঘিরে ধরে। এরপর শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করতে থাকে। এক পর্যায়ে গুলি করে পালিয়ে যায়। বুকে, হাতে ও ডান কাঁধে গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিয়ে লুটিয়ে পড়েন হোসি কোনিও। এলাকাবাসী তাকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিকলে কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক সারওয়ার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
রংপুরের ক্রিমিনাল ইনভিস্টিগেশন ডিপার্টমেন্টের ইনচার্জ ও সহকারি পুলিশ সুপার আব্দুস সালাম বলেন, হত্যাকান্ড তদন্ত করে এখন পর্যন্ত এই ঘটনার সঙ্গে এক সপ্তাহ আগে ঢাকায় ইতালীয় নাগরিক সেজার টাভেলা হত্যাকান্ডের কোনো যোগসূত্র পাওয়া যায়নি।
কিন্তু ঢাকার মেট্রো পুলিশ কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া রাজধানীর গুলশানে ইতালির নাগরিক এবং রংপুরে জাপানি নাগরিক হত্যাকাণ্ডের মধ্যে যোগসূত্র থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন। তিনি জানান, নিহত টাভেলা নেদারল্যান্ড ভিত্তিক এনজিও ‘আইসিসিও’ এর প্রোগ্রাম ম্যানেজার ছিলেন এবং কৃষি বিষয়ক কর্মসূচীগুলো পর্যবেক্ষণ করতেন। সংস্থাটির কাজ কুড়িগ্রাম ও রংপুরে বিস্তৃত ছিলো যেখানে হোসি কোনিও নিহত হন।
তিনি আরো জানান, টাভেলা হত্যাকাণ্ডে তার ব্যক্তিগত প্রোফাইল এবং এনজিওর অর্থায়নের সূত্রগুলোকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তবে ওই হত্যাকাণ্ডের পেছনে এখনও কোনো জঙ্গি সম্পৃক্ততা খুঁজে পায়নি গোয়েন্দা পুলিশ।
নিহত হোসি কোনিওগ গত বছরের ৮ অগাস্ট ভারত হয়ে বুড়িমারি স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশে এসেছিলেন।







