শেরে বাংলা স্টেডিয়ামের উইকেট এমনিতেই মন্থর। শিশিরে ভিজলে ব্যাটসম্যানদের জন্য তা আরও দুর্বোধ্য! এমন উইকেটে ইনসেপ্টা রংপুর রেঞ্জার্স প্রথমে ব্যাট করে ১৮২ রান তোলার পরই বেশ পরিষ্কার হয়ে গেল ম্যাচের ফলাফল। রাজশাহী রয়্যালস লড়লো বটে, কিন্তু ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয়ে লড়তে থাকা এক দলের বিপক্ষে হেরে গেল ৪৭ রানের ব্যবধানে।
সাত দলের বঙ্গবন্ধু বিপিএলে পয়েন্ট টেবিলের ছয়ে থাকা ইনসেপ্টা রংপুর রেঞ্জার্সের জন্য শেষ চারে যাওয়ার পথটা বেশ কঠিনই। অন্তত এলিমিনেটর রাউন্ড পর্যন্ত যেতে হলে বাকি চার ম্যাচের প্রতিটিতেই জয় তুলে রাখতে হবে। আট ম্যাচে ৩ জয়ে ৬ পয়েন্ট পাওয়া রেঞ্জার্সরা তাদের ২০ শতাংশ কাজ সেরে রেখেছে। সিলেট পর্বে বাকি ৮০ শতাংশ ঠিকঠাক সারতে পারলে সুযোগ আছে শেষ চারে ঠাঁই পাওয়ার।
অধিনায়ক হিসেবে অস্ট্রেলিয়া থেকে উড়ে আসা শেন ওয়াটসন টানা তৃতীয় ম্যাচে ফ্লপ মেরে আউট হলেও রংপুরকে পা হড়কাতে দেননি দুর্দান্ত ফর্মে থাকা ওপেনার নাঈম শেখ। সাউথ আফ্রিকান ব্যাটসম্যান ক্যামেরন ডেলপোর্টের সঙ্গে তার ৫৪ রানের জুটিই গড়ে দেয় বড় সংগ্রহের ভিত্তি।
৬ চার ও এক ছক্কায় ৪৭ বলে নাঈম ৫৫ করে ফেরার পর কিছুক্ষণ বাদেই ফেরেন ডেলপোর্ট, ১৭ বলে ৩১ করে। এরপর মিডলঅর্ডারে লুইস গ্রেগরির ২৮, জহুরুল ইসলামের ৮ বলে ১৯ রানের ইনিংসে রাজশাহীর জন্য পথটা কঠিন করে তোলে রংপুর।
পথটা যে বন্ধুর হতে চলেছে সেটা প্রথম দুই ওভার যেতেই টের পেয়েছেন এবারের চমক উদ্বোধনী জুটি লিটন দাস ও আফিফ হোসেন। আরাফাত সানি ও মোস্তাফিজুর রহমানের করা এই দুই ওভারে মাত্র ৬ রান উঠতেই টের পাওয়া গেছে উইকেটের আসল অবস্থা।
রানের জন্য হাঁসফাঁস করতে করতে আফিফকে চতুর্থের ওভারে ফিরিয়ে দেন তাসকিন আহমেদ। এরপর দলকে আস্তে আস্তে টানতে থাকা লিটন ও শোয়েব মালিককে নবম ওভারে পরপর দুই বলে আউট করে রাজশাহীর কোমরও ভেঙ্গে দেন এই পেসার।
এরপরও আন্দ্রে রাসেল থাকায় খানিকটা শঙ্কা ছিলই। তবে নাঈমের সরাসরি থ্রোতে রান আউট হয়ে রাজশাহী অধিনায়ক ফিরে যেতেই ম্যাচে জয় নিশ্চিত হয়ে যায় রংপুরের। শেষ বল পর্যন্ত লড়ে রাজশাহীর ইনিংস থামে ৮ উইকেটে ১৩৫ রান তুলে।
২৯ রানে ৪ উইকেট নিয়ে রাজশাহীর ব্যাটিং লাইনআপ গুড়িয়ে দিয়েছেন তাসকিন। উইকেট না পেলেও চার ওভারে এক মেডেনে মাত্র ১৬ রান দেয়া মোস্তাফিজ যে তার আত্মবিশ্বাস ফিরে পাচ্ছেন মিলেছে তার নমুনাও। ২৮ রান খরচায় ২ উইকেট পেয়েছেন গ্রেগরিও।







