প্রবাদে আছে ভাঙ্গবে তবু মচকাবে না। কথাটা যেন পুরোটাই মিলে যায় কুমিল্লার ভিক্টোরিয়ান্সের অধিনায়ক মাশরাফি মর্তুজার সঙ্গে। সব সময় দল জেতান বল করে। কিন্তু আজ বিপিএলে ব্যাট হাতে নিজের দল কুমিল্লাকে জেতালেন তিনি।
দলের বিপর্যয়ে অধিনায়ক হিসেবে বুক চিতিয়ে ক্রিজে দাঁড়িয়েছেন মাঠ ছেড়েছেন দলের বিজয় নিশ্চিত করেই। অধিনায়কত্বের প্রশংসার জুড়ি মেলা ভার মাশরাফির এটা সবারই জানা, তবে বিপিএলের আজকের ম্যাচে চিটাগং ভাইকিংসের বিপক্ষে নতুন এক মাশরাফিকে চিনলো পুরো ক্রিকেট বিশ্ব।
অধিনায়কের এমন খেলার ইতিহাস অনেক রয়েছে ক্রিকেট বিশ্বে, তারপরও যোগ্য মেধা মননের সমন্বয়ে তিনি ৫২ রানের যে মহাকাব্যিক ইনিংসটা খেললেন, তা অনেকটাই মনে করিয়ে দেয় ২০১১ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ভারতের অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনির সেই ম্যাচ জেতানো ইনিংসকে।
১৭৭ রানের লক্ষ্যে যখন ব্যাটিংয়ে নামলো কুমিল্লা, প্রথম ওভারের চতুর্থ বলেই ফিরে গেলেন ইমরুল কায়েস। তৃতীয় ওভারে ফিরে গেলন লিটন দাসও। নিজেকে ব্যাটিং অর্ডারের পাঁচ নম্বরে তুলে এনে যখন মাশরাফি ব্যাটিংয়ে নামলেন তখন অষ্টম ওভারের খেলা চলে। স্কোর বোর্ডে তখন রান ৫৪ সাজঘরে ফিরে গেছেন টপ অর্ডারের তিন ব্যাটসম্যান। জয়ের জন্য তখন কুমিল্লার প্রতি ওভারে দশের ওপর রানরেট।
মাশরাফির লক্ষ্য ছিল বিগ হিট। সেটাই তিনি করে গেছেন কিন্তু বুঝে শুনে কুল ক্যাপ্টেন হিসেবে। ম্যাশ প্রথম ছ্ক্কা হাকান দশম ওভারে আসিফ আহমেদের বলে। মিড উইকেটের উপর দিয়ে আচড়ে মারেন।
সাঈদ আজমলকে লং অফ দিয়ে এমনকি কভার দিয়ে ছক্কা মেরে প্রাণের সঞ্চার করে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স সমর্থকদের। কাপুগেদারাকে লং অফ দিয়ে ছ্ক্কা আর তাসকিনকে স্ট্রেইট ড্রাইভ করে যে চার মারলেন তা পুরোটাই টেক্সটবুক শট।
মাশরাফির ৩২ বলে ৫৬ রানে ছিল চারটি চার ও দুটি বিশাল ছক্কার মার। একজন পেশাদার টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানের মতো দলের কাণ্ডারী হয়ে আরেক ব্যাটসম্যান স্যামুয়েলসকে নিয়ে অপরাজিত ১২৩ রানের জুটি গড়ে বিজয়ী বেশে যখন মাঠ ছাড়ে তখন তার চোখে মুখে ছিল তৃপ্তির ছাপ, বিজয়ের উল্লাস।
সতীর্থরা দৌড়ে মাঠে ঢুকে তার হেলমেট, গ্লাভস আর প্যাড খুলতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে, পড়বেই তো এমন অধিনায়কের সংস্পর্শে আসতেই তো চাইবে সতীর্থরা।







