আগাম নির্বাচনের কোন সম্ভাবনা না দেখলেও যে কোন সময় নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত রয়েছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। দলে একাধিক দায়িত্বশীল নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
দলটির নেতারা বলছেন: আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রে বিশ্বাসী একটি দল। তাই আমাদের সব সময়ই নির্বাচনের প্রস্তুতি রয়েছে। তবে, এ মূহুর্তে আগাম নির্বাচনের সম্ভবনা নেই।
গত বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা বলেন: আগাম নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। সরকার চাইলে আগাম নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য নির্বাচন কমিশন (ইসি) প্রস্তুত রয়েছে।
সিইসি’র এমন মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন: আগামী মাসে নির্বাচন হলেও দল কীভাবে জিততে পারে, আমাদের সে প্রস্তুতি রয়েছে।
ওবায়দুল কাদের বলেন: নির্বাচনের বিষয় প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার, তিনি তো বলেন নাই কবে নির্বাচন হবে। আমরা ধরে রাখছি সংবিধান অনুযায়ী আগামী বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন হওয়ার কথা। কিন্তু এখন যদি প্রধানমন্ত্রী মনে করেন তিনি আগাম নির্বাচন দেবেন, সেটা তার এখতিয়ার। এটা নিয়ে আমাদের সঙ্গে কোনো কথা হয় নাই।
নির্বাচনের আর বেশি সময় নেই বলেও জানালেন আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল এতাধিক নেতা। তারা বলছেন: ২০১৮ নির্বাচনের বছর। সামনে আর বেশি সময় নেই। সংবিধান অনুযায়ী আগামী ডিসেম্বরই সরকারের শেষ সময়। সে হিসেব করলে নির্বাচনের জন্য আওয়ামী লীগকে সকল প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে হবে। ইতিমধ্যে আমাদের সকল সাংঠনিক ইউনিটকে সংগঠনিক সকল প্রস্তুতি নিয়ে রাখার নির্দেশনা দিয়ে রাখা হয়েছে।
এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম মেম্বার কাজী জাফর উল্ল্যাহ চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন: আওয়ামী লীগ নির্বাচনের জন্য সবসময় প্রস্তুত। তবে, এখন পর্যন্ত আগাম নির্বাচন হতে পারে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি। এটা সম্পূর্ণ ভাবে প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।
‘ইতিমধ্যে, আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা নিজ নিজ এলাকায় কাজ শুরু করে দিয়েছে। সংগঠনিক ইউনিট গুলোকেও সকল প্রকার প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে বলা হয়েছে। আওয়ামী লীগ নির্বাচনে বিশ্বাসী। তাই আগাম নির্বাচন হলেও আমাদের প্রস্তুতির কোন ঘাটতি নেই।’
সংবিধান অনুযায়ী আগামী বছরের শেষ অথবা ২০১৯ সালের শুরুতে হবে আগামী সংসদ নির্বাচন। সংসদ বহাল রেখে অথবা ভেঙে দিয়ে নির্বাচনের ব্যবস্থা রয়েছে বর্তমান সংবিধানে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী চাইলে নির্ধারিত সময়ের আগেও সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে পারেন।








