টানা ২৪ ঘণ্টা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যানজট পরিস্থিতি প্রায় একই অবস্থায়
রয়েছে। কোথাও কোথাও কিছু সময়ের জন্য ধীর গতিতে গাড়ি চলাচল করলেও যানবাহনের
গতিবেগ ঘণ্টায় ১০ কি.মি. এর বেশি নয়।
বুধবার রাত থেকে জেলা পুলিশের সাত
শতাধিক পুলিশ বিভিন্ন পয়েন্টে কাজ করলেও গাড়ির চাপ অব্যাহতভাবে বৃদ্ধি
পাওয়ায় যানজট নিরসনে বেগ পেতে হচ্ছে। নাম প্রকাশ না করে যানজট
নিরসনে দায়িত্বরত একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সময় যতো গড়াচ্ছে গাড়ির
চাপ ততোই বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই সহসাই যানজট পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে না।
কেন এই যানজট: বেশকিছু ধরেই দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া অংশে তীব্র স্রোতের কারণে ঘনঘন ফেরি পারাপার বন্ধ থাকার সমস্য চলে আসছিলো। এর মধ্যেই গতকাল একেবারে ফেরি পারাপার বন্ধ হয়ে গেলে ওই অংশে চলাচলকারী অধিকাংশ গাড়ি ঢাকার সাথে যোগাযোগ রক্ষার জন্য বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করে ঢাকা-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়ক। দুই লেনের এই সড়কে গড়ে প্রতিদিন দশ থেকে বার হাজার গাড়ি চলাচল করলেও দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ঘাট বন্ধ থাকায় হঠাৎ করে গাড়ির সংখ্যা বেড়ে যায় কয়েকগুণ। যার ফলে অধিক গাড়ির চাপ সামলে উঠতে পারছেনা দু’লেনের এই সড়ক।
গলার ফাঁস চন্দ্রা গোল চত্ত্বর: উত্তরবঙ্গের প্রবেশমুখ গাজীপুরের চন্দ্রা। ঢাকার সভার ও গাজীপুর থেকে উত্তরবঙ্গগামী একটি প্রবেশ মুখ এবং উত্তরবঙ্গ থেকে একই প্রবেশ মুখে রয়েছে চন্দ্রার গোল চত্ত্বর। অতিরিক্ত গাড়ির চাপের সৃষ্টি হলে গোল চত্ত্বরের তিনমুখী গাড়ির মুখোমুখি অবস্থানে এক অর্থে হয়ে পড়ে তা অকার্যকর। সৃষ্টি হয় যানজটের। যা অল্প সময়ের মধ্যে ছড়িয়ে বেশ কয়েক কিলোমিটার জুড়ে।
কালিয়াকৈর চাপা রেল ওভার সেতু: ঢাকা-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কের যানজটের আরেকটি অন্যতম কারণ কালিয়াকৈর অংশের চাপা রেল ওভার সেতু। কোন কারণে এই রেল ওভার সেতু উপর কোন গাড়ি দুর্ঘটনা ও যান্ত্রিক ক্রটির কারণে বিকল হয়ে গেলে চাপা সেতু হওয়া দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা চালানো অসম্ভব হয়ে পড়ে। যার ফলে সেতু দিয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে সেতুর দু’পাশে লম্বা যানজটের সৃষ্টি হয়।
ফিটনেস বিহীন ও ধীর গতির যানবাহন: এই মহাসড়ক ধরে অসংখ্য ফিটনেস বিহীন গাড়ি চলাচল করে। যার ফলে মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে প্রতিদিনই একাধিক গাড়ি বিকল হয়ে যায়। সৃষ্টি হয় যানজটের। এছাড়াও অনুমোদনহীন ও ধীর গতির যানবাহন চলাচল করায় যানজটের সৃষ্টি হয়।
মির্জাপুর রেলক্রসিং: বঙ্গবন্ধু সেতু হয়ে ঢাকা ও উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন রুটে অংসখ্য ট্রেন চলাচল করে। প্রত্যেকটি ট্রেনের জন্যই ঢাকা-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কের মির্জাপুরের রেলক্রসিং ব্যবহার করা হয়। গড়ে প্রতিটি ট্রেনের জন্য প্রায় দশ থেকে পনের মিনিট বন্ধ রাখতে হয় যানচলাচল। যার ফলে দেখা দেয় যানজটের।
পশুবাহী ট্রাক: কুরবানির ঈদকে সামনে রেখে মহাসড়কে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি চলাচল করছে ট্রাক। উত্তরবঙ্গ থেকে ছেড়ে আসা এই ট্রাকগুলো ঢাকা-টাঙ্গাইল মহসড়ক ধরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাওয়ায় অতিরিক্ত গাড়ির চাপের কারণে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।
ঘনঘন দুর্ঘটনা ও দুর্বল উদ্ধার তৎপরতা: চন্দ্রা থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব মহাসড়কের প্রায় ৭০ কি.মি অংশে প্রতিদিনই একাধিক দুর্ঘটনা ও বিকল হয়ে পড়ে যানবাহন। চাপা সড়কের কারনে দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা চালাতে পারেনা উদ্ধারকারী দল। সেই সাথে উদ্ধারকাজ চালানোর জন্য নেই পর্যাপ্ত দক্ষ জনবল ও যন্ত্রপাতি। যার ফলে অল্প সময়ের সড়কের দু’পাশে যানবাহন আটকা পড়ে সৃষ্টি হয় যানজটের।
এছাড়াও মহাসড়কের চার লেনের উন্নয়ন কাজ চলা, মহাসড়কের দু’পাশে শিল্পায়নের কাজ চলা এবং এর দু’পাশে বাস-ট্রাক স্ট্যান্ড, অবৈধ স্থাপনার কারণে যান চলাচলে বাঁধাগ্রস্থ হওয়ার যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।







