১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কাল রাতকে স্মরণ করে রাষ্ট্রীয়ভাবে দেশে প্রথমবারের মতো গণহত্যা দিবস পালিত হয়েছে। গণহত্যা দিবস উপলক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠন নানা কর্মসূচি পালন করলেও বিএনপি ছিলো একেবারেই নিরব-নিশ্চুপ। ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসকে ঘিরে বরাবরের মতো বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিলেও গণহত্যা দিবস ও ২৫ মার্চের কাল রাত নিয়ে কোনো কর্মসূচি গ্রহণ করেনি দলটি।
এর কারণ জানতে চ্যানেল আই অনলাইনের পক্ষ থেকে দলটির কেন্দ্রীয় অনেক নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করে গণহত্যা দিবস সম্পর্কে বিএনপি’র অবস্থান এবং এই দিবসে তাদের কোনো কর্মসূচি ছিলো কি না জানতে চাওয়া হলে বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন তারা। অনেকে আবার বলছেন, এ দিবসটি সরকারের স্ট্যান্ডবাজি ছাড়া আর কিছুই নয়। তাই তারা গণহত্যা দিবসে কোনো কর্মসূচি পালনের বিরোধী!
অবশ্য ২৫ মার্চকে গণহত্যা দিবস পালনের ঘোষণাকে বিএনপি কিভাবে দেখছে এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসালাম আলমগীর এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, বিএনপি মুক্তিযুদ্ধের দল। মুক্তিযুদ্ধের স্বার্থ সম্পৃক্ত বা মুক্তিযুদ্ধের স্বার্থে কোনো দিবসে আপত্তির কিছু নেই।

কিন্তু সংসদে প্রস্তাব পাসের ঠিক পরদিন গণহত্যা দিবসে বিএনপি’র অবস্থান জানতে চেয়ে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সঙ্গে কয়েকবার ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
পরে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে ব্যক্তিগতভাবে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে এদেশে ভয়াবহ গণহত্যা হয়েছিল। আমি তার তীব্র প্রতিবাদ জানাই। এত বছর পর হলেও যে গণহত্যা দিবস পালনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে তা ভালো। কিন্তু এ দিবসে বিএনপির কোনো কর্মসূচি নেই কেনো, এমন প্রশ্নের জবাব দেননি তিনি।
এর কিছুদিন পর বিএনপি কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনের প্রশ্নোত্তর পর্বে রিজভী আহমদের কাছে গণহত্যা দিবসে বিএনপি’র কর্মসূচি সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে এ বিষয়ে পরে জানানো হবে বলে তিনি প্রশ্নোত্তরপর্ব দ্রুত শেষ করে দেন। পরে আরও একটি সংবাদ সম্মেলনে একই প্রশ্ন করা হলে তখনও পরে জানানাে হবে বলে বিষয়টি এড়িয়ে যান।
একই প্রশ্ন বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় কে করা হলে তিনি বলেন, ‘কয়েক জন লোক মারা গেছে তাদের জন্য আমরা পালন করি শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস। আর ২৫ মার্চ তো অগণিত মানুষ মারা গেছে। এ বিষয়ে বিএনপির কি মতামত জানি না। তবে আমি মনে করি, যারা এই দিনে আত্মত্যাগ করেছেন, দিবস পালন না করে তাদের পরিবারগুলোকে ভালভাবে দেখলেই হয়।’
তবে এ বিষয়ে বিএনপি’র যুগ্ম মহাসচিবর সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, ‘সরকারের এটি পৈত্রিক সম্পত্তি না। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ এই দিনে পাকিস্তানি বাহিনী ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে বাংলাদেশে এটি স্বীকৃত। এটি সরকার ঘোষণা দিলেও তার লক্ষণের কিছু পরিবর্তন হবে না আর ঘোষণা না দিলে ওই কলঙ্ক আমাদের ইতিহাস থেকে মুছে যাবে না। এটি একটি স্ট্যান্ডবাজি আর কিছু না।’
বিএনপি এই দিনকে গণহত্যা দিবস হিসেবে মানে কি না এমন প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘বহু আগে থেকেই এই দিনকে গণহত্যা দিবস হিসেবে পালন করি। ওনাদের (আওয়ামী লীগের) মতো নতুন নতুন নাম দিয়ে, নামের চমকের রাজনীতি আমরা করি না। নতুন নতুন নাম দিয়ে চমকবাজি এটিতে আমাদের আপত্তি। এটি পলিটিক্যাল স্ট্যান্ডবাজি করার জিনিস না। এটি জাতির একটি গৌরবের ব্যাপার যেমন, আবার জাতির রক্তক্ষরণের বিষয়ও তেমন।’
গত ১১ মার্চ (শনিবার) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে ১৪৭ বিধিতে জাসদের সংসদ সদস্য শিরীন আখতার পাকিস্তানি বাহিনীর নির্মমতায় নিহতদের স্মরণে প্রতিবছর ২৫ মার্চ জাতীয়ভাবে ‘গণহত্যা দিবস’ পালনের প্রস্তাব উত্থাপন করেন।
এরপর দীর্ঘ আলোচনা শেষে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর গণহত্যার দিনটি জাতীয়ভাবে ‘গণহত্যা দিবস’ হিসেবে পালনের প্রস্তাব পাস হয়। একই সঙ্গে এই দিবসের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মহলে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করার প্রস্তাবটি সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়।







