চলতি বছরের ছয় মাসে ঘাতকের শিকার হলেন চারজন ব্লগার। ফেব্রুয়ারিতে বইমেলার সময় অভিজিৎ রায়কে দিয়ে শুরু। সর্বশেষ শিকার হলেন নিলয় নীলকে। রাজধানী ঢাকার খিলগাঁওতে ঘরে ঢুকে কুপিয়ে হত্যা করা হয় তাকে ।
প্রতিদিনের মতো সবকিছু স্বাভাবিকভাবেই চলছিলো। সকালে নাস্তা শেষ করে বাজারে যান নিলয়। বাজার থেকে বাসায় ফেরা পর্যন্ত সবকিছুই ঠিকঠাক চলছিলো। এরপর কয়েক মিনিটের ব্যবধানেই ঘটে মহা বিপর্যয়।
নিলয়ের স্ত্রী আশামণি জানান, বাড়িভাড়ার কথা বলে ২০-২১ বছরের একটি ছেলে প্রথমে বাসার ভেতরে প্রবেশ করে। বাসা ভাড়া হবে না জানোর পরও সে বলে বাড়ির মালিক এই ইউনিট দেখতে বলেছে। এরপর সে রুমের ভেতর কয়েক মিনিট ঘোরাফেরা করে এবং মোবাইল ফোন টিপতে থাকে। কিছুক্ষণ পর আরো তিন চার জন ঘরে ঢুকে রাম দা দিয়ে নিলয়কে কোপাতে থাকে। নিলয়ের মৃত্যু নিশ্চিত করার পর ঘাতকরা সিঁড়ি দিয়ে পালিয়ে যায়।
নিলয়ের প্রতিবেশীরা জানান, ঘাতকদের অস্ত্রের মুখে তারা ঘর থেকে বের হতে পারে নি। শব্দ শুনে তারা বাইরে এসে দেখেন বাইরের দিক থেকে গেট আটকে দিয়েছে। ফোন করে অন্যদের ডেকে আনতে আনতে হত্যাকারীরা পালিয়ে যায়।
নিলয়ের বন্ধু ও স্বজনরা জানান, এর আগেও মৌলবাদী গোষ্ঠী তাকে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিলো। গত রমজানে পরীবাগ থেকে বাসায় ফেরার সময় এক যুবক তাকে অনুসরণ করে বাসা পর্যন্ত এসেছিলো।
গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার বলেন, ঘটনার ৪০ মিনিট আগেও ফেসবুকে ওর পোস্ট ছিলো। ও সেসময় নিজের ল্যাপটপেই কাজ করছিলো। এই সময়েই দুর্বৃত্তরা ঘরে ঢুকে কুপিয়ে হত্যা করে তাকে।
পুলিশ কর্মকর্তারা বলেন, জুম্মার নামাজের সুযোগে ঘাতকরা পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।
সহকারী পুলিশ কমিশনার মুন্তাসিরুল ইসলাম জানান, এ হত্যাকাণ্ডে ৫-৬ ছয়জন লোক অংশ নেয়। এদের দুজন মিলে নিলয়কে অন্য রুমে নিয়ে যায় এবং হত্যা করে। তিনি আরো জানান, হত্যাকাণ্ডের সময় নিয়লের স্ত্রী বাসায় ছিলেন। তাকে অন্যরুমে আটকে রাখা হয়।
যুগ্ম কমিশনার ডিএমপি কৃষ্ণপদ রায় বলেন, নিলয়কে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তার গলার দিকে খুব ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাতের চিহ্ন আছে। আর এটা অবশ্যই পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।
হত্যার দায় স্বীকার করেছে আল-কায়েদা। নিলয় নীল নামে ফেসবুকে লেখালেখি করতেন। আগেও মৌলবাদী গোষ্ঠী তাকে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিলো। তার গ্রামের বাড়ি পিরোজপুরের টোনা ইউনিয়নে। তাঁর বাবা মৃত তারাপদ চক্রবর্তী।







