জুভেন্টাসকে ৪-১ গোলে গুঁড়িয়ে ইউরোপ সেরার মুকুট জিতেছে রিয়াল মাদ্রিদ। শনিবার রাতে কার্ডিফে ইতালিয়ান জায়ান্টদের হারিয়ে আধুনিক যুগে প্রবেশের পর চ্যাম্পিয়ন্স লিগ নাম নেয়া টুর্নামেন্টটির ইতিহাসে প্রথম কোন দল হিসেবে টানা দুটি শিরোপা ঘরে তুলল জিনেদিন জিদানের শিষ্যরা।
এটি রিয়ালের ‘ডুউডেসিমা’। অর্থাৎ, দ্বাদশ শিরোপা। লস ব্লাঙ্কোসরা একাদশ শিরোপা, অর্থাৎ ‘আনডেসিমা’ জিতেছিল গত বছর। আর দশম টাইটেল ‘লা ডেসিমা’ জিতেছিল ২০১৩-১৪ মৌসুমে।
প্রথমার্ধে সমতায় থাকার পর ম্যাচে দ্বিতীয়ার্ধের ঝলকে জুভদের উড়িয়ে দিয়েছে রিয়াল। জোড়াগোল করেছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, একটি করে গোল কাসেমিরো ও মার্কো আসেনসিওর। জুভেন্টাসের সান্ত্বনার গোলটি মারিও মানজুকিচের।
কার্ডিফের প্রিন্সিপালিটি স্টেডিয়ামে টানা ৬৪ ম্যাচে গোল করার রেকর্ড নিয়ে নেমেছিল রিয়াল মাদ্রিদ। জুভেন্টাসের স্বপ্ন ভাঙতে আত্মবিশ্বাসী দলটির তাই খুব বেগ পেতে হয়নি।
তবে শুরুটা দুর্দান্ত ছিল জুভদের। চতুর্থ মিনিটে হিগুয়েনের দূরপাল্লার শট ফেরান রিয়াল গোলরক্ষক কেইলর নাভাস। ৬ মিনিটে রিয়ালের বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া পিয়ানিচের শট ঠেকিয়ে সুপারম্যানের ভূমিকায় সেই নাভাসই।
ম্যাচের ২০ মিনিটে রোনালদোর গোলে এগিয়ে যায় রিয়াল। বাঁ-প্রান্ত দিয়ে পাল্টা আক্রমণে ওঠে রিয়াল। রোনালদোর ও দানি কারভাহাল বল দেয়া নেয়া করে এগিয়ে যান। পরে জোরালো শটে বুফনকে ফাঁকি দেন সিআর সেভেন।
এই গোলের মধ্য দিয়ে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের তিনটি ফাইনালে গোলের রেকর্ড গড়েছেন রোনালদো। আর চ্যাম্পিয়ন্স লিগ নাম নেয়ার পর রিয়াল গড়েছে প্রথম দল হিসেবে প্রতিযোগিতাটির ইতিহাসে ৫০০তম গোলের রেকর্ড।
খানিক পরেই ম্যাচের ২৭ মিনিটে মানজুকিচের গোলে রেসে ফেরে জুভেন্টাস। রিয়ালের আনন্দ তখন মাটি। মানজুকিচের গোলে সহায়তা করেছেন হিগুয়েন। তবে ক্রোয়েশিয়ার এই ফরোয়ার্ড বুক দিয়ে বল নামিয়ে দুর্দান্ত এক বাইসাইকেল কিকে দর্শনীয় যে গোলটি করেছেন, তাতে কেবল সাহস আর ভগ্যেরই সহায়তা থাকার কথা।
মধ্যবিরতির পর ফিরে ৬১ মিনিটে ব্রাজিলের মিডফিল্ডার কাসেমিরোর গোলে আবারো এগিয়ে যায় রিয়াল। কাসেমিরোর গোলে অবশ্য আক্ষরিক অর্থেই ভাগ্যের সহায়তা ছিল। তার দূরপাল্লার শট স্যামি খেদিরার পা ছুঁয়ে জালে জড়িয়ে যায়।
তিন মিনিট পর রোনালদোর দ্বিতীয় গোলে শিরোপা থেকে ছিটকে যায় জুভরা। ডানপ্রান্ত থেকে মদ্রিচের দুর্দান্ত ক্রসে বল পান রোনালদো। তা থেকে দারুণ প্লেসিং শটে জাল খুঁজে নেন এই মহাতারকা।
এটি আসরে রোনালদোর ১২তম গোল। তাতে বার্সেলোনার লিওনেল মেসিকে (১১) টপকে চলতি আসরে সর্বোচ্চ গোলদাতা বনে গেলেন পর্তুগিজ অধিনায়ক। সেইসঙ্গে ক্লাব ও দেশ মিলিয়ে ৬০০টি গোলের মাইলফলকও স্পর্শ করলেন পঞ্চমবার বর্ষসেরা ফুটবলার হওয়ার দৌড়ে এড়িয়ে থাকা সিআর সেভেন।
ম্যাচের ৮৪ মিনিটে বদলি হুয়ান কুয়াদ্রাদো দ্বিতীয় হলুদ কার্ডে মাঠ ছাড়লে আরো বিপদে পড়ে ম্যাস্সিমিলিয়ানো অ্যাল্লেগ্রির দল। ৯০ মিনিটে মার্কো আসেনসিও জুভদের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দিলে উল্লাসে মাতে জিনেদিন জিদানের শিষ্যরা। বলটি বাড়িয়েছিলেন ব্রাজিলের ডিফেন্ডার মার্সেলো। ইউরোপিয়ান সুপার কাপে আসেনসিওর পা থেকেই মৌসুমের প্রথম গোলটি পেয়েছিল রিয়াল। মৌসুমের শেষ গোলও এই উইঙ্গারের পা থেকেই এল। দুটি গোলের মাধ্যমে গড়া মৌসুমের সেতুবন্ধন যেন রিয়ালের ডাবল জয়েরই প্রতিরূপ!







