বাজারে কোরবানির পশুর ব্যাপক সংকট, দেশে ভারতীয় পশু আসছে না বহুল প্রচারিত এই তথ্য মোটেই ঠিক নয়।
চ্যানেল আইয়ের অনুসন্ধানে দেখা গেছে রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবাবগঞ্জ সীমান্তের বহু পয়েন্ট দিয়ে হাজার হাজার গবাদী পশু প্রবেশ করছে বাংলাদেশ সীমানায়। ভারতীয় ব্যবসায়ীরাই পশু পৌঁছে দিচ্ছে বাংলাদেশ সীমান্তে। রাজশাহী সীমান্ত এলাকায় অনুসন্ধানে দেখা যায় তেমন চিত্র।
যাত্রাটা এত সহজ ছিল না। সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে পদ্মা পাড়ি দিয়ে শুরু হয় কাদা আর কাঁশবনের জঙ্গল দিয়ে দূর্গম সীমান্তের পথে যাত্রা। দলে বলে সঙ্গী স্থানীয় গরু ব্যবসায়ীরা। অনেক পথ পেড়িয়ে দূরে, অনেক দূরে আলো রেখা। জানা গেলো এটাই বাংলাদেশের শেষ সীমানা। আলোটা ভারত সীমান্তের ফ্লাড লাইটের।
রাজশাহীর গোদাগাড়ী সীমান্তের দূর্গম চরে পৌঁছাবার পর যা দেখা গেলো, রীতিমত অবিশ্বাস্য ব্যাপার। ভারতীয় ব্যবসায়ীরা পশুর পালকে সাঁতরিয়ে জড়ো করছেন পদ্মার নীলবুলি চরে।
এরপর হয় দুপক্ষের যোগাযোগ, লেনদেন। সেখানেই হাতবদল, পশুর পাল আবারো নদী সাঁতরিয়ে, হেঁটে আসছে বাংলাদেশ সীমানায়।
সীমান্তের এপার থেকে গরু বুঝে নেয়া এক বাংলাদেশী ব্যবসায়ী জানান, ভারতের সীমান্ত কাছে হলেও ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিএসএফ এর অবস্থান কিছুটা দূরে। ভারতের ব্যবসায়ীরা গরু পাড় করে মোবাইলে যোগাযোগ করেন। তার পর গরু বুঝে নিয়ে নদী পাড় করিয়ে নিয়ে আসা হয় দেশের ভেতর।
বাংলাদেশের গরু ব্যবসায়ীরা জানান বৈধ পথেই প্রচুর পরিমাণে ভারতীয় গবাদি পশু ডুকছে তাই তারা প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে যাচ্ছেন না ভারতের সীমানায়।
কোরবানী ঈদকে সামনে রেখে যেনো কোনো চোরাকারবারি না হয় সীমান্তে কড়া নজরদারী বিজিবির। রাজশাহীর ৭টি করিডোর দিয়ে প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণে গবাদী পশু আসছে বলে জানালেন রাজশাহীর বিজিবির সেক্টর কমান্ডার।
রাজশাহী বিজিবি’র সেক্টর কমান্ডার কর্ণেল ফেরদাউস শাহাব জানান, বর্তমানে সীমান্ত দিয়ে প্রচুর গবাদিপশু আসছে। ঈদকে সামনে রেখে পশুর সংখ্যা প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে। ওপার থেকে গরু আনার সময় সীমান্ত দুর্ঘটনা ঘটায় জিরো পয়েন্ট থেকে গরু আনতে বাংলাদেশী ব্যবসায়ীদেরকে পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
রাতের বেলা গিয়ে দেখা গেছে রাজশাহীর সবচেয়ে বড় করিডোর সুলতানগঞ্জের খাটালে হাজার হাজার পশুতে পূর্ণ ভারতীয় গবাদি পশুতে। দিনের শুরুতে এদের যাত্রা শুরু দেশের বিভিন্ন প্রান্তের উদ্দেশ্য।







