১১ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে টেস্ট খেলার সুযোগ পাচ্ছে বাংলাদেশ। এমন একটা সময় অজিরা খেলতে এসেছে যখন বড় দৈর্ঘ্যের ক্রিকেটেও ধারাবাহিক হচ্ছে বাংলাদেশ। ঘরের মাঠে ওয়ানডের মতো টেস্টেও যেকোনো দলের জন্য টাইগাররা এখন কঠিন প্রতিপক্ষ। গত বছর টেস্টে ইংল্যান্ডকে হারানোর সুখস্মৃতি সাকিবদের আত্মবিশ্বাসের পালে হাওয়া দিচ্ছে। অজিরাও এখন আগের মতো বলেকয়ে কাউকে হারাতে পারে না। অজি-বধের এটাই কী মোক্ষম সময়?
অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান অবশ্য এভাবে ভাবতে চান না। অজিদের টেস্ট ক্রিকেটের প্রতি নিবেদন, যেকোনো কন্ডিশনে মানিয়ে নিয়ে লড়াই জমিয়ে তোলাকে যথেষ্ট সমীহই করছেন টাইগার তারকা, ‘ওদের বৈশিষ্ট্য এমন যে, সব কন্ডিশনেই মানিয়ে নিতে পারে। হয়ত কষ্ট হয়, হবেও। বৃষ্টি আছে, গরম আছে। তারপরও ওরা মানিয়ে নেবে। আগেও নিয়েছে। ওদেরকে হারাতে আমাদের সেরা ক্রিকেটই খেলতে হবে।’
হোম কন্ডিশন বলেই যে সব সহজ হয়ে যাবে এমনটাও মনে করেন না সাকিব, ‘কন্ডিশন বা অন্যকিছুর উপর নির্ভর করে সিরিজ শুরুর চিন্তা করাটা মনে হয় না খুব একটা ভালো হবে। আমাদের চিন্তাই থাকা উচিত, আমরা যাতে যেকোনো পরিস্থিতিতে ওদের চেয়ে ভালোভাবে মোকাবেলা করতে পারি।’
সেরা সুযোগ কি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জেতার? এমন প্রশ্নে সাকিব বললেন, ‘আমাদের দলের অবস্থা খুব ভালো। কিন্তু এটাই সেরা সুযোগ কিনা সেটা বলা মুশকিল। ওদের বিপক্ষে তো খেলিইনি আগে। খেললে বলতে পারতাম, আগের দলের সঙ্গে বেশি সুযোগ ছিল নাকি এখনকার দলের সঙ্গে। ভালো-খারাপ বড় কথা নয়, বাংলাদেশ দল জিততে পারলে সেটাই বড় ব্যাপার।’
সাকিবের মতে, অজি-চ্যালেঞ্জ মোকবেলা করতে হলে সব বিভাগেই খেলতে হবে খুবই ভালো ক্রিকেট, ‘টেস্ট জিততে হলে সবদিকেই ভালো করতে হবে। আমাদের সবকিছুই ভালো করতে হবে। ব্যাটিংও ভালো করতে হবে, বোলিংও। ওরা যে দলই আসুক, যে পরিবেশই, সব সময়ই কঠিন প্রতিপক্ষ।’
কঠিন প্রতিপক্ষ বললেও সিরিজ শুরুর আগে স্পিন আক্রমণে বাংলাদেশকেই এগিয়ে রাখলেন সাকিব, ‘আমার মনে হয় আমাদের স্পিন অ্যাটাক বেটার। সব কন্ডিশনে বলবো না, আমাদের দেশে ওদের চেয়ে আমরাই ভালো। তাইজুল-মিরাজ অনেকদিন ধরে ভালো করছে। এই সিরিজে ওরা দারুণ কিছুই করবে বলে বিশ্বাস করি।’
এমন একটা সময় গেছে যখন টেস্ট ক্রিকেটে লাগাতার ধুঁকছিল বাংলাদেশ। বড় বড় দলের সঙ্গে ইনিংস ব্যবধানে হার দেখতে হতো। তিনদিনেই শেষ হয়ে যেত পাঁচ দিনের খেলা। সেই যন্ত্রণার দিন অবশ্য শেষ হয়েছে। অন্যতম শক্তিধর টেস্ট দল অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক-কোচরাও এখন বাংলাদেশের বন্দনা করে। এক সময় তারা অবহেলার চোখেই দেখেছে। সেই সময় আর এই সময়ের কথা ভাবলে ভালোই লাগে সাকিবের।
‘এটা একটা সন্তোষজনক ব্যাপার। ১০-১১ বছর আসলে লম্বা সময়। এটা একটা বড় সাইন যে, আমরা কতোটা এগিয়েছি। এর কৃতিত্ব আসলে সবার জন্যই। শুধু ১০ বছর নয়, বরং এর আগে থেকেও। প্রশাসন, সুযোগ-সুবিধা, সাপোর্ট স্টাফ, কোচ— যারা এতো বছরে এসেছেন, এমন কি আপনাদেরও (সাংবাদিক), বলবয় এবং দর্শক, সবারই অবদান আছে। আমার মনে হয় বাংলাদেশের মানুষ ক্রিকেট যতোটা পছন্দ করে, ভারতেও ততোটা করে না। বাংলাদেশে এখন সবকিছুর আগে ক্রিকেট। এটা আমাদের জন্য, বিশেষ করে খেলোয়াড়দের জন্য অনেক সন্তুষ্টির একটা ব্যাপার।’







