গত বছরও একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়ে কোরীয় অঞ্চলসহ বিশ্বকে অস্থিতিশীল করে রেখেছিল নর্থ কোরিয়া। কিন্তু সম্প্রতি দেশটি সেই পথ থেকে সরে এসে নিজের দেশকে ক্ষুধামুক্ত করার দিকে নজর দিয়েছে। দেশটির নেতাদের মধ্যে ‘আশাবাদ অনুভূত’ হয়েছে।
সম্প্রতি নর্থ কোরিয়া সফর শেষে এমনটিই জানিয়েছেন জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য সংস্থার প্রধান ডেভিড বিয়াসলে। ৮ থেকে ১১ মে নর্থ কোরিয়া সফর করেন ডেভিড বিয়াসলে। সেখানে তিনি অভূতপূর্ব প্রবেশাধিকার পেয়েছেন বলে বিবিসিকে জানিয়েছেন।
তিনি বলেন: নর্থ কোরিয়া পুষ্টির যথাযথ মান নিশ্চিত করতে কঠোর পরিশ্রম করছে এবং ১৯৯০ সালে সেখানে যেমন ক্ষুধার আধিক্য ছিল, বর্তমানে তেমন নেই। সেখানে ইতিহাসের নতুন অধ্যায়ে প্রবেশের অনুভূতি দেখা গেছে।
ডেভিড বিয়াসলে সরকারের প্রতিনিধি নিয়ে রাজধানী পিয়ংইয়ংসহ কিছু এলাকা পরিদর্শন করেন। একটি শিশু সদন কেন্দ্রসহ সেখানে পরিচালিত বিশ্ব খাদ্য সংস্থার প্রকল্পগুলোও পরিদর্শন করেন তিনি।
তিনি বলেন: নর্থ কোরিয়ার পাঁচ ভাগের এক ভাগ জমি আবাদযোগ্য। কিন্তু শক্তির জায়গা হলো আমি দেখেছি, সেখানে এখন বসন্ত, তারা চাষাবাদ করছেন, তেমন যান্ত্রিকীকরণ চোখে পড়ে না, তবে অক্সিজেন চালিত লাঙল দেখা যায়। নারী-পুরুষ সমানভাবে সেখানে কাজ করছেন।
তিনি আরো বলেন: জমির প্রতিটি ফুট এবং ইঞ্চির সঠিক ব্যবহার করছেন তারা। অত্যন্ত কাঠামোবদ্ধভাবে তারা সড়ক, বাঁধের নিচ পর্যন্ত ফসলের আবাদ করছেন। সুখবর হলো, আমি সেখানে তেমন ক্ষুধা দেখতে পাইনি, যেমন দুর্ভিক্ষ ছিল ১৯৯০ সালের দিকে। তাই বলে কি সেখানে ক্ষুধা নেই? পুষ্টি ঘাটতি নেই? অবশ্যই আছে বলে যোগ করেন তিনি।
দেশটির সাধারণ মানুষের মতো নেতারাও মনযোগ দিয়েছেন দেশের দিকে। সম্প্রতি হঠাৎ করেই সাউথ কোরিয়া সফর করেছেন নর্থ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং উন। এর মধ্যদিয়ে দুই দেশ এবং বিশ্বের সঙ্গে তাদের সম্পর্কের নাটকীয় পরিবর্তন হয়েছে।
এছাড়া আগামী মাসেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ও কিম জং উনের সাক্ষাৎ হবে। এটিই হবে দুই দেশের প্রেসিডেন্টের মধ্যে প্রথম বৈঠক। দুই কোরিয়ার নেতার মধ্যে বৈঠক ও নর্থ কোরিয়া থেকে তিন যুক্তরাষ্ট্রের তিন বন্দীকে ছেড়ে দেয়ার পরই এমন ঘোষণা আসে।
পারমানবিক অস্ত্র নিরস্ত্রীকরণের শর্তে নর্থ কোরিয়াকে অর্থনৈতিক সহযোগিতা করার আশ্বাসও দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।








